বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু: তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল

0
573

 

শামিম হায়দার: বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাবলিগ জামাতের ৫২তম আসর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে টঙ্গীর তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দুই পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম পর্বে ১৭ জেলা ও দ্বিতীয় পর্বে ১৫ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। ইজতেমা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন মুসল্লিদের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ১০ সহস্রাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ফজর (নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা) থেকে আমবয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ইতিমধ্যেই লাখ লাখ মুসল্লি তাদের খিত্তায় অবস্থান করেছেন। এছাড়া অনেক বিদেশী মুসল্লি তাদের কামরায় অবস্থান নিয়েছেন।

১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। মাঝে চারদিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

উল্লেখ্য, দিন দিন বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হওয়া মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং স্থানসংকুলনা না হওয়ায় গত বছর থেকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের সূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গত বছর যে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন, এ বছর তারা ইজতেমায় অংশ নেবেন না।

লাখো মুসল্লির সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিরোধক ৩০০ বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর নয়টি ভাসমান সেতু এরই মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ইজতেমায় মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ১০ হাজারেরও বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গী ময়দানে মুসল্লিদেও যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনসেবার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

১৫ ও ২২ জানুয়ারি বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহার না করার পরামর্শ: বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের নির্বিঘœ চলাচল করতে যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়ের জন্য কিছু নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এতে বলা হয়, ১৫ জানুয়ারি (রোববার) ও ২২ জানুয়রি (রোববার) বিমানের অপারেশনস ও বিমান ক্রু বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সব ধরনের যানবাহনের চালককে বিমানবন্দর সড়ক পরিহার করে বিকল্প হিসেবে মহাখালী, বিজয় সরণি হয়ে মিরপুর-গাবতলী সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। একই সঙ্গে বিদেশগামী বা বিদেশ ফেরত যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেয়ার জন্য ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চারটি বড় আকারের মাইক্রোবাস নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেটে ভোর ৪টা থেকে প্রস্তুত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here