ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা সক্রিয়!

0
488

নির্বাচনে যেতে বিএনপির তিন শর্ত \ টার্নিং পয়েন্ট গাজীপুর সিটি নির্বাচন

নাসিরা আফরোজ রোজী: বাংলাদেশে একটি জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গল জটিল আবর্তে মোড় নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকারই বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া জটিল করে তুলছে। একদিকে সরকারের প্রধান প্রতিদ্ব›িদ্ব বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলে আটক রাখা অন্যদিকে প্রশাসনে রাষ্ট্রের স্বার্থেও চেয়ে দলীয় স্বার্থ প্রধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্যতম কোন মূল্যবোধের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধা না দেখিয়ে একটি জংলি সংস্কৃতির দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়ায় দেশের সামগ্রিক শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, রাজনীতিম সমাজনীতি এবং অর্থনীতিতেও। এ অবস্থায় বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই আতংকিত।
বেশ কিছু দেশে রাজনৈতিক অঙ্গন শান্ত থাকার পর নির্বাচনকে কেন্দ্র কওে তা আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে সে লক্ষনই যেন স্পষ্ট হয়ে পড়ছে। আইনের মাধ্যমে দীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে মক্ত করতে বর্থ হয়ে সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনটি এখন বলছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকার অপসারণ কোথাও সম্ভব হয়নি। সেই সাথে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণে তিন দফা দাবী নামাও তার উল্লেখ করেছে। বলা হচ্ছে এই দাবী শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না হলে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া তাদেও আর উপায় থাকবে না। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের নেতা-কর্মীদেও এই বলে হুশিয়ারী করেছেন যে বাংলাদেশে আবার ওয়ান-উলেভেনের মত পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য যড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে বিদেশে বিভিন্ন গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ডে একটি গোপন বৈঠকের কথা তিনি প্রকাশ করেন। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন বিএনপি এই ষড়যন্ত্রে জড়িত। এই পেক্ষিতে সরকার ঠিক নির্বাচনের আগেই এমন একজনকে সেনাবাহিনী প্রধান করেছেন যার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন জড়িত। এমন অবিযোড়ও উঠেছে যে এই ব্যক্তিকে সেনাপ্রধান করায় দেশের এই বাহিনীর দেওলিয়াত্বই প্রকাশ পেয়েছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিকল্প কর্মসূচি আসছে
এই অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত পাঁচ মাস নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। তবে এখন আর তারা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রয়োজনে কর্মসূচির কৌশল বদলে কার্যকর কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। বুধবার নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রæয়ারিতে কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। এর পর থেকে দলীয় প্রধানের নির্দেশনা মোতাবেক শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সরকার ঠেকিয়ে রাখবে আশঙ্কা থেকে এখন জোরালো কর্মসূচি দেয়ার কথা বলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতেও আন্দোলনের কথা বলছেন তারা।
বিকল্প কর্মসূচি প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য এতদিন যে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি আমরা দিয়ে এসেছি, সেটা পরিবর্তন করতে হবে। এমন কর্মসূচি দিতে হবে, যে কর্মসূচি কার্যকর কর্মসূচি হবে। যার মাধ্যমে আমরা দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আনতে পারব। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, শুধু ওই নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে পৃথিবীর কোথাও অপসারণ করা সম্ভবপর হয়নি। সুতরাং এ দেশেও এটা সম্ভব হবে না। এ উপলব্ধি থেকে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে, সেই কর্মসূচি সফল হবে এবং দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দলের পরবর্তী কর্মসূচী সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আরো বলেন, ‘শুধু নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে পৃথিবীর কোথাও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং এ দেশেও সেটা সম্ভবপর হবে না। সেই উপলব্ধি থেকে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দয়া হবে। তার মতে, সে কর্মসূচি সফল হবে এবং বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হবে। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
একই সাথে সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও লন্ডন ঘুরে আসা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত আরোপ করেছেন। শর্তগুলো হলো, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং বেগম জিয়াকে মুক্তি। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবসের’ আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, দেশে এখন বাকশালের চেয়েও ভয়ংকর শাসন চলছে। দেশের বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য আবারো জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মির্জা ফখরুল বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্যেও আহবান জানান। তিনি বলেন জাতীয় ঐক্য এখন খুব বেশী দরকার। খুব বেশী পয়েন্ট নয়। কয়েকটি পয়েন্টে আমরা সেই ঐক্য সৃষ্টি করতে পারি। মির্জা ফখরুল দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচন আপনাদেরকে আদায় করে নিতে হবে। আর আদায় করে নিতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের গণমাধ্যমের অবস্থা আরো ভয়াবহ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সবার দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যাচ্ছি। আমরা বলছি, আপনারা দেশটাকে বাঁচান। আমরা মুরুব্বিদের কাছে যাচ্ছি। বলছি, আপনারা দেশের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশটাকে রক্ষা করেন।
তিনি বলেন, আমি অবশ্যই নির্বাচন চাই। কিন্তু এর আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে এবং বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এই কথাগুলো আমরা বারবার বলেছি। কিন্ত তারা (আওয়ামী লীগ) কথা বলবে না এবং আসবে না। বলছে, অন্তর্র্বতীকালীন সরকার হয়ে যাবে। বিএনপি না আসলে কি হবে। অন্য দল আসবে। এটাই তো তারা (আওয়ামী লীগ) চায়।
তিনি বলেন, আমারা বুঝতে পারছি না আসলে কি আওয়ামী লীগ সরকার চালাচ্ছে, না কি অন্য কেউ? তিনি আলোচনায় আসার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা একটি কঠিন পথ। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, এই পথ দিয়ে নির্বাচন হবে। আমরা ক্ষমতায় যাবো। আপনাদেরকে আদায় করে নিতে হবে। আর আদায় করে নিতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সাংবাদিক নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা সারা বাংলাদেশে যাবেন। আমরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা বাংলাদেশের সব জায়গায় যাবো। মানুষকে বের করে আনার চেষ্টা করবো। মানুষকে জাগ্রত করার চেষ্টা করবো।
বর্তমান দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ এসে প্রতিরোধ করবে না। আমাদেরকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। খালেদা জিয়া বের হয়ে এসে যে বাঁশি বাজাবেন। সেই বাঁশিতেই হাজার হাজার লোক রাজপথে নেমে আসবে। এটা আমরা বিশ্বাস করি এবং এটা ঘটবে।
নির্দলীয় সরকারের দাবি সকল বিরোধী নেতাদের
আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বললেও অন্য দলের নেতাদের দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা ও সংসদ ভেঙে দেয়ারও দাবি তাদের। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, তেমন কোনো সরকার জাতি চায় না। জাতি যেহেতু চায় না, তাই সেটা হবেও না। বর্তমান সরকার একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার। একটি অবৈধ অবস্থানে দাঁড়িয়ে তারা এসব কথা বলছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও জমিদারি নয়, গণতন্ত্র ও নির্বাচন কোনো অনুদানের বিষয়ও নয়। কারও অনুদান বা সাহায্যের উপর এগুলো নির্ভর করে না। এগুলো জাতির অধিকার। এ অধিকার ফিরে পাওয়া ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন। যে সরকার হবে দল-মত ও দেশের নাগরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব এ বিষয়ে বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মন্তব্যও নেই। তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার- নির্বাচনের তফসিলের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি সরকার, পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া, মন্ত্রিসভা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ- হবে। এর পূর্বে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। আ স ম আবদুর রব বলেন, আমাদের দাবি পূরণ হওয়ার ব্যাপারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হবে এবং আমরা পরিবর্তিত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই বক্তব্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করবো না।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কি বোঝায়, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন সেই ব্যাখ্যা আগে তার কাছ থেকে পেতে হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে না কি বড় হবে সেটি প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা হলো নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হবে কি না? তিনি বলেন, সরকারের চরিত্র ঠিক থাকবে, সরকারে যারা আছেন তারাই থাকবেন, যারা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন তারাই থাকবেন এবং ইতিমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন কোথাও বিশ্বাস জন্মাবার সুযোগটাও নষ্ট করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি নির্বাচন টার্নিং পয়েন্ট
জিসিসির নির্বাচনকে আগামী জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে নিয়ে উভয় জোটের নেতৃবৃন্দ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এ নির্বাচনের মূল ফ্যাক্টর গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের স্থায়ী ঠিকানা অন্য জেলায় হলেও কর্মক্ষেত্রের কারণে গাজীপুরে বসবাস করায় এ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হয়েছেন। এ ধরনের ভাসমান ভোটারের সংখ্যা লক্ষাধিক। প্রার্থীদের জয়-পরাজয় অনেকটা তাদের ভোটের ওপর নির্ভর করবে।
চার সিটি নির্বাচনে কৌশল নিয়ে বিএনপিতে নানা চিন্তা
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের শেষ পরীক্ষা হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। খুলনা সিটি নির্বাচনে পুলিশের গ্রেপ্তার-হয়রানি, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তার ও ভোট জালিয়াতির কারণে পাল্টে গিয়েছিল পরিবেশ ও ফলাফল। সে নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলটির সকল স্তরে। কয়েকদিন ধরে গাজীপুরে বিএনপি নেতাকর্মীসহ দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তার-হয়রানির পর নতুন করে ভাবছে বিএনপি। সোমবার দলের স্থায়ী কমিটি ও বুধবার জোটের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনাও করেছেন নেতারা। সে প্রেক্ষিতে গাজীপুরে খুলনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে পরবর্তী সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচন থেকে সরে আসতে পারে বিএনপি।
এ জন্য ওই তিন সিটি নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রাপ্তদের কাছে প্রত্যাহারের সই রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০শে জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৮শে জুন। ৯ই জুলাই পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ই জুন একই দিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরিফুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও আহসান হাবিব কামাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অক্টোবরে গঠিত হতে পারে নির্বাচনকালীন সরকার
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার চলতি বছরের অক্টোবরেই গঠিত হতে পারে। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে নতুন কোনো সরকার গঠিত হবে না। বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব নেবে। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের আকার এত ঢাউস হবে না। মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট হবে। বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের নিয়ে বিএনপি এবার সক্রিয়
ওবায়দুল কাদেও আরো বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের নিয়ে বিএনপি এবার সক্রিয়। তারা মনে করছে, আমরা জানি না। এবারও কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। দেশের জনগণ প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা-তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা এবার সক্রিয় হয়েছে- এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে এমন প্রশ্নের জবাবে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আছে, কথাতো থাকতেই পারে, থাইল্যান্ডের বৈঠক। আরো অনেক জায়গায় তারা (বিএনপি) ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঢাকাতেও এখানে-ওখানে গভীর রাতে বৈঠক চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here