উন্নয়নশীল দেশের পথে বাংলাদেশের যাত্রা

0
537

আপাতত পর্যবেক্ষণে, ২০২৪-এ কার্যকর \ দেশব্যাপী জমকালো উৎসব- নেপথ্যে কি রাজনীতি

প্রবাস রিপোর্ট : বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের তালিকায় বাংলাদেশের নাম স্বল্পন্নোত দেশের তালিকাতেই থাকবে। আগামী ছয় বছরে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষনে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে পারলে এই স্বীকৃতি কার্যকর হবে।
একই সাথে জাতিসংঘ আরো কয়েকটি দেশকে এই স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতিসংঘের ওয়েবসেইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাচঁটি দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, বতসোয়ানা, কাবো ভার্দে, গিনিয়া, মালদ্বীপ এবং সামোয়া।
ভেনুয়াতু এবং অ্যাঙ্গুলা আগামি তিন বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাবে। বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং লাও পিপল’স ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্তাবলী পূরণ করলেও তাদেরকে উত্তরণের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য দ্বিতীয়বার এই শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। আর উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য ছএঐ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ পর্যবেক্ষনে থাকবে। আর নেপাল ও তিমুর এ যোগ্যতা অজূন করলেও তাদেরকে গ্রাজুয়েশেনের জন্য আরো তিন বছর পর্যবেক্ষনে রাখা হবে।
শুক্রবার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি-সি.পি.ডি এই ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করে।

এই চিঠি পাওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে বেশকিছু মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার প্রচার করছে, জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছেন।

এদিকে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্তাবলী পূরণ করলেও উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য দ্বিতীয়বার এই শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ‘আনুষ্ঠানিক চিঠি হস্তান্তর: উন্নয়নশীল দেশ হলো বাংলাদেশ’, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লেখালো বাংলাদেশ’, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ’, ‘প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ’, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি জাতিসংঘের’, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ,’- ইত্যাদি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতিসংঘের বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আজ স্বীকৃতি পেয়েছে।’
কিন্তু বিডি ফ্যাক্টচেক-এর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখনও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাতেই আছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ৪৭টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩৩ টি আফ্রিকাতে, ১৩টি এশিয়াতে এবং একটি ল্যাটিন আমেরিকায়। এশিয়ার ১৩ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম আছে। জাতিসংঘ প্রণীত স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
জাতিসংঘের ওয়েবসেইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাচঁটি দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, বতসোয়ানা, কাবো ভার্দে, গিনিয়া, মালদ্বীপ এবং সামোয়া। ভেনুয়াতু এবং অ্যাঙ্গুলা আগামি তিন বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাবে।
বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং লাও পিপল’স ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্তাবলী পূরণ করলেও তাদেরকে উত্তরণের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য দ্বিতীয়বার এই শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। আর উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য ছয় বছর এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এ ৩টির যেকোনো ২টি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে। বাংলাদেশ ৩টি সূচকেই পর্যাপ্ত মানদÐ অর্জন করে এ স্বীকৃতি অর্জন করে নিয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের মানদÐে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২শ ৩০ ডলার। বাংলাদেশের সেখানে রয়েছে ১২শ ৭১ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি। বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। এছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম। সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রীকে বিশাল সংবর্ধনা
এদিকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের সাফল্য উদযাপন হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। সপ্তাহব্যপী এই উদযাপন উৎসবের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া হয় সংবর্ধনা। এই সংবর্ধণায় বিকালে রাজধানীর নয়টি স্থান থেকে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। যা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ম‚ল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল চারটায়। তবে বিকাল ২টার পর থেকেই সচিবালয়সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সরকারি অফিস থেকে কর্মচারী/কর্মকর্তা ও সর্বসাধারণ গাড়িযোগে এবং পায়ে হেঁটে সমবেত স্থলে জমায়েত হন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ঠিক কওে দেওয়া ৯টি সমবেত স্থল দিয়ে সরকারের ৫৭ মন্ত্রণালয় ও সর্বসাধারণ ঢাক-ঢোলসহ বর্ণাঢ্য র্যালী করে ব্যানার, ফ্যাস্টুনসহ র্যালি নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এর আগে ভোরে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শুরু হয়। পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
সাফল্য উদযাপন বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ২৮শে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে আনন্দ র্যালি করা হবে। এসব র্যালির মাধ্যমে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণে দেশের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে শুক্রবার বিআইসিসিতে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
একইভাবে দেশব্যাপী ২২ থেকে ২৮ মার্চ র্যালির আয়োজন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন খাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ছবি প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলার আয়োজন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর ভিডিও প্রদর্শন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল জেলায় উৎসব উদযাপনে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করেছে।
উন্নয়নশীল দেশের তকমায় লাভ কী হবে বাংলাদেশের

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরী হবে তেমনি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে রপ্তানী আয়, বৈদেশিক ঋণ ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রপ্তানী আয়
বাংলাদেশের রপ্তানী আয়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী পড়বে পোশাক শিল্পের ওপর। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানীর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাজার হওয়ায় ঐ অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যের শর্তাবলী পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে সুবিধা কমে যাওয়াটাই হবে বাংলাদেশের সামনে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গ্রার্মেন্টস ছাড়াও আরো অনেক রপ্তানী পণ্য তৈরি করতে হবে । শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে রপ্তানিতে শুল্ক সংযোজনের পাশাপাশি দেশের শিল্প কারখানায় শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকারের মত বিষয়গুলোতে আরো স্বচ্ছতা দাবী করবে আমাদানিকারকরা। সেক্ষেত্রে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মনে করেন এসব প্রতিবন্ধকতা সহজেই পার করতে পারবে বাংলাদেশ। ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, সঠিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুষ্ঠ ও নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানিখাতের নিশ্চয়তা পেলে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মত বাংলাদেশও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারবে।
বৈদেশিক ঋণ
উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে আগের মত সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য পাবে না বাংলাদেশ।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হলে বাংলাদেশ আগের মত রেয়াতি সুদে ঋণ পাবে না। বাংলাদেশকে ক্রমান্বয়ে একটি মিশ্র অর্থায়নে যেতে হবে যেখানে উচ্চ সুদে বৈদেশিক ঋণ নিতে হবে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভাবমূর্তি উন্নয়নের ফলে বৈদেশিক ঋণ পাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।
ড. ভট্টাচার্য বলেন, “স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ মসৃণ ও টেকসই করতে দেশের অভ্যন্তরীন সুশাসন ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ
উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো উৎসাহী হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির হার, বৈদেশিক সাহায্য ও বৈদেশিক আয় কমেছে। তবে প্রায় প্রত্যেক দেশের ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে।
একটি দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ার সুযোগ তৈরী হয়। তবে অনেকসময় দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় সঞ্চয়ের চেয়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) সৃষ্টি হয়। যার ফলে বৈদেশিক আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ড. ভট্টাচার্য বলেন, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভাবনা কতটা আছে তা যাচাই করা হয়। এক্ষেত্রে শুধু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতিই যথেষ্ট হবে না। একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার বাস্তবায়ন,আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণের মাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন টিকে থাকার সম্ভাবনার ওপর প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ নির্ভর করে। বৈরী বৈশ্বিক পরিস্থিতি, উন্নত দেশগুলোর সংরক্ষণবাদী মনোভাব ও ভৌগলিক-কৌশলগত সমস্যা বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।
মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈথিক ভঙ্গুরতা- এই তিনটি সূচকে বিচার করা হয় একটি দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল ধাপে উত্তরণ করবে কি না। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে হলে অন্তত দু’টি সূচক পূরণ করতে হয় একটি দেশকে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে তিনটি সূচকের সবকটি পূরণ করে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালে একদফা পর্যবেক্ষণের পর ২০২৪ এ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে।
কেন এই মহা-উৎসব
স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় তা উদযাপন করছে সরকার। কিন্তু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। তাহলে এখনই কেন এই উদযাপন?
এর আগে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পাবার বিষয়টি উদযাপন করেছিল সরকার। একইভাবে ২০১২ সালে, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (ইটলস) করা মামলায় বাংলাদেশ জেতার পরেও একই রকমভাবে উদযাপন করা হয়েছিল।
এর পেছনে রাজনৈতিক কোন হিসেব-নিকেষ আছে-এমন প্রশ্নে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, সামনে নিব্যাচনকে সামনে রেখেই এ কাজটি করা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে হয়েছে, বতসোয়ানা, কাবো ভার্দে, গিনিয়া, মালদ্বীপ এবং সামোয়া। ভেনুয়াতু এবং অ্যাঙ্গুলা আগামি তিন বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাবে। বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং লাও পিপল’স ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্তাবলী পূরণ করলেও তাদেরকে উত্তরণের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য দ্বিতীয়বার এই শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। আর উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য ঐ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ পর্যবেক্ষনে থাকবে। আর নেপাল ও তিমুর তিন বছরের পর্যবেক।সনে আছে। কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দেশ এই কারণে এমন উৎসব করেছে বা বিয়টি ঘটা কওে প্রচার করছে এমন উদাহরণ নেই।
বাংলাদেশকে এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবার জন্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ জাতিসংঘ ২০২১ সালে একটি পর্যালোচনা করবে। এরপর ২০২৪ সালে আরেকটি মূল্যায়ন হবে বাংলাদেশের। সব কিছু ঠিক থাকলে ঐ বছরই আসবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি। এজন্য সপ্তাহব্যাপী উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার সমন্বয় করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here