স্টেট ডিপার্টমেন্টে মেমো : ১১ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাড়তি বাধা

0
341

 

রয়টার্স: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার অধীনে ১১টি দেশের শরণার্থীরা বাড়তি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন। এসব দেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে সনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই এসব দেশের বেশির ভাগ শরণার্থীর বিষয়ে কর্মপ্রক্রিয়া অস্থায়ীভাবে বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্যের আফ্রিকার। মঙ্গলবার সংক্রান্ত একটি মেমো পাঠানো হয়েছে কংগ্রেসে।

ওই মেমোটি দেখতে পেয়েছেন রয়টার্সের সাংবাদিক। তাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী শরণার্থীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের পুনরেকত্রীকরণের যে অনুমোদন ছিল সে সংক্রান্ত কর্মসূচি স্থগিত করবে প্রশাসন। বিষয়ে স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই নতুন করে আবার শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়েই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যদিকে শরণার্থী বিষয়ক অধিকারকর্মীরা বলছেন, কার্যত এটা হলো ১১ টি দেশের শরণার্থীদের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞা, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তারা তো এরই মধ্যেই পুনঃনিরীক্ষিত হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডেনিাল্ড ট্রাম্পের ১২০ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ১২০ দিনের ওই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় মঙ্গলবার। এদিন কংগ্রেসে যে মেমো পাঠানো হয়েছে তাতে ১১ টি দেশ থেকে শরণার্থী প্রবেশের অনুমতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সরকার বিষয়ে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ করবে। তাতে পরীক্ষা করে দেখা হবে বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নতুন করে যে ১১টি দেশের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অবস্থানরত শরণার্থীরা বড় বাধার মুখে পড়বেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান প্রক্রিয়ায় ছিল সিকিউরিটি এডভাইজরি অপিনিয়নস (এসএও) এর অধীনে তাদেরকে উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের সামনে হাজির হতে হতো। প্রক্রিয়া বিলম্বিত করায় তারা পড়বেন বিপাকে।

২০১৬ সালের শেষে মিশর, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, মালি, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেন ফিলিস্তিনের বেশির ভাগ পুরুষ শরণার্থীর এসএও করাতে হতো। স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যুক্ত সূত্র বলেছেন, ওই তালিকা এখনও বহাল রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা দেশগুলোর নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

নিজ দলে বিদ্রোহ বাড়ছে

ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকানের দুজন সিনেটর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ট ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করায় রিপাবলিকান দলের চাপা ক্ষোভ যেন আগ্নেয়গিরির লাভার মতো উদগীরণ ঘটছে। তারা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনীতিকে দেশে বিদেশে হুমকিতে ফেলে দিয়েছেন। এর ফলে দলের মধ্যে বিদ্রোহ দানা বাঁধার সমুহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রচন্ড হোঁচট খেতে পারেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ করেছেন সিনেটর জেফ ফ্লেকস বব করকার। মঙ্গলবার সিনেটে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন সিনেটর ফ্লেক। তিনি মুহুর্মূহু আক্রমণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসন ব্যবস্থাকে। সময় সমমনা সিনেটররা উঠে দাঁড়িয়ে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন, সংহতি প্রকাশ করেন।

ফ্লেক বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে কার্যকর করা থেকে নিয়ে গিয়েছেন বেপরোয়া অবস্থায়। এটা হয়েছে হোয়াইট হাউজের গর্হিত অসম্মানজনক আচরণের কারণে। উল্লেখ্য জেফ ফ্লেক আরিজোনা থেকে নির্বাচিত সিনেটর।

ডিপোর্টেশনের আশংকা

তরুণতরুণীরা নবায়ন করছেনা ডেকা

প্রবাস রিপোর্ট: ২০১২ তে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাহী আদেশে সেইসব ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাময়িক বৈধতা ঘোষনা করেন যারা শৈশবে তাদের পিতামাতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল, কিন্তু পরে পিতামাতার কারণে বৈধতা পায়নি তারা যাতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে এবং কাজ করতে পারে তার জন্য নবায়নযোগ্য এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন কার্ড দেয়া হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ডেকা প্রোগাম বাতিল করে মাসের মধ্যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কংগ্রেসের ওপর চাপিয়ে দেন কিন্তু কংগ্রেস আদৌ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে পাবে বিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে এই অবস্থায় ডেকা কর্মসূচীতে আবদেনকারী অনেক তরুণতরুণী গত অক্টোবরের মধ্যে তাদের কার্ড নবায়ন করেনি বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

তারা বলেছে প্রায়, ২১,০০০ তরুণ তরুনী ডিপোর্টেশন আশংকার কার্ড নবায়ন থেকে বিরত রয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, তারা তাদের তথ্য নতুন করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে দিতে রাজী  নয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, এটা তাদের প্রাথমিক হিসাব। এই সংখ্যা আরো বেশী হতে পারে।

সেপ্টেম্বর মাসে এই ডেফার্ড এ্যাকশন ফর চাইন্ডগুড এরাইভাল বা সংক্ষেপে ডেকার পাঁচ বছর পুর্তির দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রতি অনুযায়ী বা বাতিল ঘোষনা করেন। তবে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তিনি কংেগ্রেসের ওপর ন্যাস্ত করেন। কয়েকজন কংগ্রেসম্যান নিয়ে কয়েকটি বিল উত্থাপন করলেও তাদের মধ্যে ব্যপক মতবিরোধ রয়েছে। ফলে নিষয়টি যে কুব শিগগিরই সুরাহা হচ্ছে না তা মোটামিুটি স্পষ্ট।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ডেভিড ল্যাপান বলেছেন, ১৫৪,০০০ আবেদনকারীর মধ্যে ১৩৩,০০০ নবায়নের লক্ষ্যে তথ্য জমা দেয় ডিপার্টমেন্টে। উল্লেখ্য ডেকায় আবেদনকারীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত তরুণতরুণীও রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here