সুপ্রীম কোর্টের রায় আ’লীগের জন্য অশনি সংকেত

0
564

নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না, দলীয় স্বার্থে ভুয়া ও মেকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে

নাসিরা আফরোজ রোজী: আদালতের একটি রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সরকার ্ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল আনোয়ার তার ঐ পর্যবেক্ষনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সংকট তৈরী করেন। ঐ রায়ের প্রেক্ষিতেই যুক্তি তুলে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ত্রয়োদশ সংশোধনীর বাতিল করে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন করেন। সেই থেকে বাংলাদেশে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ আগামী নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দাবী করছে নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার অধীনেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন বিভিন্ন পক্ষ মুখোমুখি এই অবস্থায় সুপ্রীম কোর্ট বর্তমান সরকারের করা সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায়ে দেশের গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান, সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা-ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ পর্যবেক্ষন দিয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এই পর্যবেক্ষন নিয়ে দেশে শুরু হয়েছে ইগামী নির্বাচন কার অধীনে হবে তা নিয়ে নতুন পরিস্থিতি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সুপ্রীম কোর্টের এই পর্যব্খেন বর্তমান ক্ষমতাসীনদের জন্য ৫ জানুয়ারীর মতো আরেকটি নির্বাচন করার পথটি একবারেই রুদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বা প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার আইনগত বা নৈতিক অধিকার উভয়েই হারিয়েছে।
দেশের আপিল বিভাগের রায়ে দেশের ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যে পর্যবেক্ষণগুলো এসেছে, সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা এখন আর কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। দেশে বর্তমান গণতন্ত্রের দুর্বলতা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পাওয়া, সংসদের যথাযথ ভূমিকা পালনের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা-এই দিকগুলো এখন বিবেচনা করা সরকারের জন্য বাধ্যতামুলক হয়েই দাঁড়িয়েছে। এই রায়ের ফলে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি যেমন তার দাবীর পক্ষে নৈতিক ভিত্তি পেয়েছে তেমনি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ও দেশে গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণ বিভিন্ন মহ কে গভীর চিšাভাবনা শুরু করেছে।
সাপ্তাহিক প্রবাসের ১৯৯ ইস্যুতে হেড লাইন ছিল ‘দেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা সংশয়- হাসিনা সরকার, সহায়ক সরকার আদালতের আদেশ নাকি সেনাবাহিনী’ । এই প্রতিবেদনে আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতের নির্দেশ আসতে পারে বলে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। ঐ রিপোর্ট প্রকাশের মাত্র ২ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালত এই পর্যবেক্ষন দিয়েছে। দেশের আইনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে আদালতের পর্যবেক্ষনে পুঁজি করে একসময় আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাহিল করে নিজেরা ক্ষমতায় থেকে তার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করেছে সেই আদালতের আরেক পর্যবেক্ষনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ভিত্তি যেমন ধ্বসে পড়েছে একই সাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির তুলনায় দরকষাকয়িতে দূর্বল অবস্থানে চলে গেছে।
জানা যায়, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে সুপ্রিম কোট স্পষ্টভাবে বলেছে ‘নিরপেক্ষ ও হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। আর বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সংসদ প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের ৭৯৯ পৃষ্ঠা দীর্ঘ রায়ে, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, বিচার ব্যবস্থা, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলা হয়েছে।
এতে নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘আদালত লক্ষ্য করেছেন প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই পরাজিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শেষমেশ ১০ম সংসদীয় নির্বাচনে এসে অন্যতম বড় একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনেই অংশ নেয়নি। এই আদালত এমনটা ভেবেছিল যে, অবাধ ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করবে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের শূন্যপদগুলো সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হবে। এক্ষেত্রে সরকার পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে নির্বাচন কমিশন এখনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। নিরপেক্ষ ও হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন একটি সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা না গেলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সংসদ প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। ফলে আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংসদ অবিকশিতই রয়েছে। জনগণ এই দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা স্থাপন করতে পারে না। আর জনগণের আস্থা ও সম্মান অর্জনের লক্ষ্যে এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পেলে কোনো বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না বিজ্ঞ রাজনীতিকদের সমন্বয়ে সংসদ হবে না এবং এটা সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’
রায়ের পর্যবেক্ষনে বলা হয়, ভারসাম্য আর কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে উদ্ধত আর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে সরকার। মানবাধিকার হুমকির মুখে, দুর্নীতি অবাধ, সংসদ অকার্যকর, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত কয়েক কোটি মানুষ আর প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা মারাত্মক।
আদালত বলেছেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন আর অপরাধের পরিবর্তনশীল মাত্রায় নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। রায়ে বলা হয়, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম নয় আর এসবের সামগ্রিক ফল হলো একটি পঙ্গু সমাজ, এমন একটি সমাজ যেখানে একজন ভালো মানুষ ভালো কোনো স্বপ্ন আদৌ দেখে না। কিন্তু মন্দ লোকজন আরও কিছু সুবিধা আদায় করে নিতে নিরন্তর প্রচেষ্টায় রয়েছে।’ রায়ে আরো বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিেিত, নির্বাহীরা উদ্ধত আর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে আর আমলাতন্ত্র কখনই কার্যকর হওয়ার দিকে ঝুঁকবে না।’
আদালত বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমরা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্ষম হইনি। ভারসাম্য নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় নয়। ফলে ক্ষমতায় থাকা লোকজন ক্ষমতার আরও অবব্যাবহার করার দিকে ঝুঁকছে আর তারা ক্ষমতার যথেচ্ছা ব্যবহারের ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।’
রাজনীতি প্রসঙ্গে আরও বলা হয়েছে, ‘রাজনীতি এখন আর ফ্রি নেই। এটা এখন অত্যন্ত বাণিজ্যিক আর চালকের আসনে রয়েছে অর্থ যা কাজের ধারা এবং এর গন্তব্য নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এখন নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতা, মেধা নয়। পরিহাসের বিষয় হলো, অটল সংকল্প আর অদম্য উদ্যম নিয়ে আমরা দেশকে একটি সামরিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের থাবা থেকে মুক্ত করতে পেরেছিলাম, কিন্তু আমরা সেই দেশে নিজেদের কাছেই পরাজিত।’
সংসদ নিয়ে রায়ে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।’ আদালত বলেছেন, ‘পরিণত গণতন্ত্রের দেশগুলোতেও যেখানে কিনা নির্বাচন পদ্ধতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে এবং সাংসদরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত হন, তারাও সঠিকভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে উচ্চতর আদালতের বিচারকদের অপসারণের কাজ করতে পারেনি। এটা এমন একটি দেশে প্রত্যাশা করা যায় যে দেশ নিম্নবর্ণিত অপরিহার্য উপাদান সমৃদ্ধ সাংবিধানিক গণতন্ত্র দিয়ে পরিচালিত: (১) নির্বাচনের অখ-তা, (২) শাসনে সততা, (৩) ব্যক্তিগত মর্যাদার পবিত্রতা, (৪) আইনের শাসনে শ্রদ্ধা, (৫) বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা (৬) বিচারব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র, নির্বাচন কমিশন, পার্লামেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা (৭) এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের চারিত্রিক অখ-তা এবং শ্রদ্ধালাভের উপযুক্ততা।’
আদালত বলেন, ‘প্রতিটি আইন হয়তো ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে কিন্তু একজন সাংসদের যদি ওই গুণগুলো থাকে যেগুলো তার থাকা প্রয়োজন, তাহলে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রের কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব। এটাই ছিল ওই লাখ লাখ মানুষের ঐকান্তিক প্রত্যাশা যারা এমন একটি দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিল যেখানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থাকবে। এই আস্থাটা ফিরিয়ে আনতে হবে। সেটা করতে ব্যর্থ হলে স্বাধীনতা হবে অর্থহীন।’
রায়ে প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আমি ও আমিত্ব’-এর সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ভিত্তি হচ্ছে, “আমরা জনগণ” সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। জাতীয় সংসদ সংবিধানের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না এবং কোনো আইন সংবিধানসম্মত কি না, তা বিচার করার অধিকার সংবিধান সুপ্রিম কোর্টকেই দিয়েছে। আজ ঔদ্ধত্য এবং অজ্ঞতাকে আমরা প্রশ্রয় দিয়ে চলছি। কোনো একজন ব্যক্তি দ্বারা কোনো একটি দেশ বা জাতি তৈরি হয়নি। আমরা যদি সত্যিই জাতির পিতার স্বপ্নে সোনার বাংলায় বাঁচতে চাই, তাহলে এই আমিত্বর আসক্তি এবং আত্মঘাতী উচ্চাভিলাষ থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। এই আমিত্ব হলো কেবল এক ব্যক্তি বা একজন মানুষ সবকিছুই করতে পারেন এমন ভাবনা। আমাদের দেশে একটি রোগ আমাদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। আর সেই রোগের নাম ‘অদূরদর্শী রাজনৈতিকীকরণ। এটা একটা ভাইরাস এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের সংস্কৃতিকে তা এমন বিস্তৃতভাবে সংক্রমিত করেছে যে আমাদের নীতিনির্ধারকেরা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে বা কল্পনা করতেও পারছেন না যে ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরো জাতি, কোনো একজন ব্যক্তি নন।
প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষনে বলেন, এই বাজে রোগের কারণে নীতিনির্ধারকেরা সবকিছু ব্যক্তিকরণ করে ফেলেছেন। তাঁরা তাঁদের ক্ষুদ্র এবং সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে একটি ভুয়া ও “মেকি গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এটা তাঁরা লজ্জাজনকভাবে আমাদের সংবিধানের অন্যায্য সুবিধা নিয়ে করেছেন।
ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার সরে দাঁড়াক: ফখরুল
এদিকে এই রায় ঘোষণার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে পদত্যাগের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সভ্য দেশ হলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পরেই সরকার পদত্যাগ করতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেন, সভ্য দেশ হলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর সরকার পদত্যাগ করত। সরকারের উচিৎ রায় আমলে নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া।
মির্জা আলমগীর বলেন, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ রায়ে বলা হয়েছে এই দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই, পার্লামেন্টে আইনের কোনো শাসন নেই। বিচার বিভাগকে তারা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। সার্বিকভাবে দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই, ভোটের অধিকার নেই। বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ষোড়শ সংশোধনীর যে রায় আপিল বিভাগের রায়ের পরে প্রকাশিত হয়েছে, কোনো সভ্য দেশ হলে এতক্ষণে সরকার পদত্যাগ করত। কিন্তু বর্তমান সরকার জোর করে অবৈধভাবে এখনো ক্ষমতায় আছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি সহায়ক সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here