সুষ্ঠু নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট বার্তা: টেস্ট কেইস মালদ্বীপ : বার্নিকাট কি থাকছেন!

0
74

নাসিরা আফরোজ রোজী: যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা øুম বার্নিকাট। অক্টোবরে তার ঢাকা মিশন শেষ হওয়ার কথা। তার স্থলাভিভিক্ত হচ্ছেন আর্ল রবার্ট মূলার। গত ২৩ আগস্ট মূলার সিনেট ফরেন এফেয়ার্স কমিটির অনুমোদনও পেয়েছেন। কথা ছিল অক্টোবরে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কিন্তু একটি সুত্র বলছে তার এই দায়িত্ব গ্রহন ২০১৯ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত পৌছাতে পারে। বলা হচ্ছে মার্শা øুম বার্নিকাট বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পর্য তার দায়িত্ব পালন করে যেতে পারেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ধরণের বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই মার্শা øুম বার্নিকাট  বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশ জোর তৎপরতা চালান। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুষ্ঠানে তিনি বারবার বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদেও প্রতি আহবান জানান। তার এই তৎপরতায় সরকারের নীতি নির্ধারকরা প্রকাশ্যেই বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে তা সত্তে¡ তিনি তার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে  বার্নিকাট বুধবার দিনের শুরুতে সেগুনবাগিচায় যান। পরে পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তরে বৈঠকে বসেন তিনি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছেবৈঠকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, খ্যাতিমান শিল্পী শহিদুল আলমের আটকাদেশ, ১৩ই সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় টিকফার চতুর্থ বৈঠক, ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশন এবং নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন তারা। সূত্র মতে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের কারাবন্দি নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তবায়নও আশা করেন।

রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন দেশের পরবর্তী একাদশ সংসদ নির্বাচনটি আসলে কবে হবে? নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি? সচিবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি সাক্ষাৎ চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি নিয়ে সরাসরি একটি নোটভারবালও হস্তান্তর করেছেন। অবশ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষেই বিমানবন্দরে আকাশবীণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে বার্নিকাটের। বিমানের ভেতরে সরকার প্রধানের পাশে বসে ছিলেন তিনি। সেলফিও তুলেছেন।

এদিকে সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য পরিবেশে আয়োজন নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় বলে জানান রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। নির্বাচন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দূত বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়াই এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া। তবে সেই প্রক্রিয়াটি কি হবেতার বিস্তারিত বাংলাদেশকেই ঠিক করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা মিলে এটি চূড়ান্ত করবে বলেও আশা করেন তিনি।

বার্নিকাট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি এমন হতে হবে যাতে বাংলাদেশের জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারও সব দলকে নিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা আশা করি সরকার সেই অঙ্গীকার এবং দায়িত্ব পালন করবে। এদিকে দূত বেরিয়ে যাওয়ার ঘণ্টার মধ্যে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত (প্রিশিডিউল) বৈঠকে বসেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। একই দিনে সচিবের সঙ্গে হাইপ্রোফাইল দুই কূটনীতিকের বৈঠক (পৃথক) নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না সেগুনবাগিচাতেও। নিয়ে বিকালে ভারতীয় দূতের কাছে সরাসরি প্রশ্নও রাখেন এক সাংবাদিক। জবাবে অবশ্য ভারতীয় দূত এটি কাকতালীয় বলেই উড়িয়ে দেন।

টেস্ট কেইস মালদ্বীপ

এদিকে গণতন্ত্র প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট মালদ্বীপকে বৃহস্পতিবার কড়া হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। বৃহস্পতিবার স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বার্তায় আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাতে কোন ধরণের অনিয়ম না হয় তার জন্য সে দেশের ক্ষমতাসীনদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধীদের দমনে সেখানে ক্ষমতাসীনরা নানারকম পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আদালত প্রশাসন ব্যবহার করে কওে ক্ষমতাসীনরা তাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডে দন্ডিত করছে যা গণতন্ত্র ন্যায়বিচার এবং অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিপন্থি। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ঐক্যমত পোষন করে মালদ্বীপে গততন্ত্র প্রতিষ্ঠা সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহবান জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২৩ সেপ্টেম্বর মালদ্বীচে অনুষ্ঠিতব্য সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপরে নজর রাখছে। এই নির্বাচন মালদ্বীপে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যদি অনিয়ম বা কারচুপি ঘটে তবে যেসব ব্যক্তি এই অনিয়ম বা গণতন্ত্র আইনের শাসনের বাত্যয় ঘটানোর জন্য দায়ী তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই হুশিয়ারী ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি বড় আঘাত। বিশেষ করে যারা নির্বাচনে অনিয়মের সাথে জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন অর্থ হতে পারে ঐসব ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমন নিয়ন্ত্রন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে কোন আর্থিক স্বার্থ থাকলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। সেটি করা হলেতা হবে একটি বড় পদক্ষেপ। পর্যবেক্ষকরা আরো মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেকটা মালদ্বীপের মতই। বেশ কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। বাংলাদেশে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট মালদ্বীপের মত একই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের অনেকেরই যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক স্বার্থসহ বিভিন্ন  স্বার্থ রয়েছে সেক্ষেত্রে ধরনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তারা বড় ধরণের বিপদে পড়ে যেতে পারেন। অবস্থায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের জন্য আগামী নির্বাচন বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে।

.

দুই ইস্যুতে কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে বিএনপি

এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে বিএনপি। বুধবার বিকালে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। বিএনপির কূটনীতিক উইং সূত্র জানায়, মূলত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার সম্ভাব্য রায়কে কেন্দ্র করে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। তবে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারে কারাগারের মধ্যেই আদালত স্থাপনের বিষয়টিও উঠে আসে।

সূত্র জানায়, ব্রিফে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় নানা তথ্যউপাত্তের মাধ্যমে কূটনীতিকদের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিএনপি। বিষয়ে তথ্যউপাত্ত সংবলিত একটি লিখিত প্রতিবেদনও কূটনীতিকদের দেয়া হয়। বিএনপি নেতারা কূটনীতিকদের জানান, ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা ১৬১ ধারায় একটি জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেখানে কোথাও তিনি বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বা অন্য কোনো নেতার নাম বলেননি।

কিন্তু ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর মহাজোট ক্ষমতায় এসে পুরো বিষয়টি তারা নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালিত করে। সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা, জামিন প্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপট ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়। বৈঠকটি চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্পেন, তুরস্ক, রাশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুইডেন, জাপান, ফিলিস্তিন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৫টি দেশ সংস্থার প্রতিনিধি কূটনীতিকরা অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here