প্রশাসনেই ভরসা সরকারের : গ্রেপ্তারের হিড়িক

0
78

প্রবাস রিপোর্ট: নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে যদি ডিসেম্বরে নির্বাচন হয়ই তবে নির্বাচনের বাকি মাত্র চার মাস। এই সময় পুরনো মামলা চালু এবং নতুন করে মামলা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন রাজনৈতিক এবং বিএনপি রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এটি একটি প্রক্রিয়া। টালমাতাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে গত ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করেছে তাদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ওই সমাবেশে যে পরিমান নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাতে করে ক্ষমতাসীনরা আতঙ্কিত হতেই পারেন। আর তারা যে আতঙ্কিত হয়েছেন তাও প্রায় নিশ্চিত। কেননা ইতোমধ্যেই তারা শুরু করেছেন ব্যাপক ধরপাকড়। রাজধানী পেরিয়ে তৃণমূল পর্যায়েও  এই ধরপাকড় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বড় শোডাউনের পর গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছে দলটি।

রাজপথে উত্তাপ সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নেই বিরোধী রাজনৈতিক জোটের। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। রাজনীতিতে যখন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ উত্তপ্ত করার চেয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির প্রয়াস জোরদার তখন হঠাৎ করেই ধরপাকড় শুরু হয়েছে সারা দেশে। ঈদুল আজহার পর থেকে প্রতিরাতেই জেলায় জেলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রতিদিনই মামলা দায়ের করা হচ্ছে শত শত অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে। সারা দেশে হিড়িক চলছে মামলা দায়ের গ্রেপ্তারের। বিএনপি অঙ্গদলের নেতাকর্মীদের বাসায় না পেলে তাদের পরিবারের সদস্য স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন অভিযোগও আসছে। পরিবারের লোকজনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সংগ্রহ করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাসপোর্ট নম্বর। কোনো কোনো এলাকায় নেতাদের আত্মীয়স্বজনের ঠিকানাও জোগাড় করছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা কারাগারে রয়েছেন তাদের জামিন মিলছে না সহজে। যারা মুক্ত রয়েছেন তাদের জামিনের মেয়াদ না বাড়িয়ে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে।

পহেলা সেপ্টেম্বরের জনসভার পর থেকে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে এই ধরপাকড়। এই ছয়দিনে গ্রেফতার হয়েছে ৩৫০ জনেরও বেশি। চালু করা হয়েছে পুরনো মামলাগুলো। এছাড়াও নতুন করেও নাশকতার মামলা দেয়া হয়েছে কোথাও কোথাও।

মনে করা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। বিরোধীপক্ষের জোরালো কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সারা দেশে চলছে ধরপাকড়। এতে আসামি করা হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের জামিনও মিলছে না সহজে। জামিন পেলেও কারাফটক থেকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। পুরনো মামলাগুলো সক্রিয় করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সক্রিয় নেতাকর্মীদেরও তালিকা হচ্ছে। ধরপাকড় পুলিশের অভিযানের কারণে অনেক নেতাকর্মী বাসায় থাকছেন না।

প্রশাসনেই ভরসা

ভবিষ্যৎ নির্বাচনঅনুকূলে রাখতেজিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিসহ সরকারের বিরুদ্ধে থাকা দলগুলোর নেতাদের নামে দায়ের করা পুরনো মামলা সচল করার ওপর বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেগুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতাদের নামে দায়ের করা মামলার গতিপ্রকৃতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ প্রশাসনে শেষ মুহূর্তের গোছানোর কাজ চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট বরিশালের মতো বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ঢাকার উপকমিশনার পদে সবচেয়ে বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা তাদের নিজেদের এলাকায় পছন্দের ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিতে চান। জন্য তারা আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিচ্ছেন। অনেকে ফোনে যোগাযোগ করে তদবির করছেন।

একই সঙ্গে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সারা দেশে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি জনসভা শেষ হওয়ার পর রাজধানীসহ থানায় থানায় বিএনপি এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের টার্গেট করেই এসব ঘটনাহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা এসব মামলায় এখন চলছে গ্রেপ্তার। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এজন্য অভিযান পরিচালনা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here