ধর্মীয় মর্যাদায় প্রবাসে ঈদুল আযহা উদযাপিত

0
159

প্রবাস রিপোর্ট: মানব জাতির সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে গত ২১ আগস্ট মঙ্গলবার নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার সর্বত্র যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত মুসলমানগণ এদিন স্বপরিবারে নিকটস্থ মসজিদ ও খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঈদ জামায়াতে যেতে পারায় প্রবাসীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলসমূহে ঈদের দিন ছুটি থাকলেও সেটি কাজে লাগলো না এবার সামার ভেকেশানে ঈদ হওয়ায়।
তবে লোকাল ও গেøাবাল মুনসাইটিং মতাদর্শের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে লোকাল মুনসাইটিং মতাদর্শের অনুসারীরা পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করেছেন ২২ আগস্ট বুধবার।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার
নিউইয়র্কে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে। জেএমসির উদ্যোগে থমাস হাই স্কুল খেলার মাঠে আয়োজিত ঈদ জামাতে ১০ সহ¯্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এমনকি অন্যান্য স্টেট থেকেও বাংলাদেশী মুসলিমগণ পরিবারের শামিল হন ঈদের নামাজে। মহিলাদের জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকায় হাজার হাজার মহিলা জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
ঈদের জামাতে ইমামতি ও দোয়া পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের হিফজ স্কুলের প্রিন্সিপাল হাফিজ মুজাহিদুল ইসলাম। ঈদুল আযহার জামাতের আগে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন জেএমসি’র ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি ডাঃ এমএম বিল্লাহ, জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাজা মিজান হাসান। এছাড়া মুলধারার রাজনীতিকদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেটের ডেপুটি গভর্ণর ক্যাটি কহলস, স্টেট সিনেটর টনি এ্যাবেলা কাউন্সিলম্যান ডেরিক মিলার, স্টেট এসেম্বলীম্যান মিক মার্ক, নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা ক্যাটজ ও স্টেট সিনেটর প্রার্থী জন ল্যূ। এ পর্ব পরিচালনা করেন জেএমসি’র সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী।
ঈদের জামাত শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মুনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ জাতির মঙ্গল ও সমৃদ্ধি এবং দেশে দেশে নিপীড়িত নির্যাতিত বিশেষ করে মিয়ানমারে নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় মহান আল্লাহতায়ালার রহমত ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মসজিদ আবু হুরায়রা
জ্যাকসন হাইটসের মসজিদ আবু হুরায়রা’র উদ্যোগে সকাল ৯ টায় জ্যাকসন হাইটসের ৭৯ স্ট্রিট (বিটুইন নর্দান বুলেভার্ড ও ৩৪ এভিনিউ)-এর রোরি স্ট্যাংটোন ফিল্ডে ঈদের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন আবু হুরায়রা মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো: ফায়েক উদ্দিন। নামাজের পূর্বে তিনি বলেন, ঈদুল আজহার দিন মুসলমানদের জন্য একটি বড় নিয়ামত।যেদিনে মুসলমান জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আ.) কে আল্লাহর হুকুম পালনার্থে কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের নজরানা পেশ করেছিলেন,সেটি কিয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলমানদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কুদরত হাসিলের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ঈদের জামাত শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মুনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাসহ দেশ-জাতির মঙ্গল ও সমৃদ্ধি এবং দেশে দেশে নিপীড়িত-নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় মহান আল্লাহতায়ালার রহমত কামনা করা হয়। এসময় ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লাইলাহা ইল্লাহু, আল্লাহ আকবর, আল্লাহু আকবর, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে ঈদগাহ রূপি রোরি স্ট্যাংটোন ফিল্ড প্রাঙ্গণ।
নামাজ শেষে একে অন্যের সাথে আলিঙ্গনের মাধ্যমে পবিত্র ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জামাতে দাঁড়াবার আগে ইসলামিক সেন্টার অব জ্যাকসন হাইটস এর কর্মকর্তারা মসজিদের উন্নয়নকল্পে প্রবাসীদের সহযোগীতা কামনা করেন।
জামাতে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা ছাড়াও শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ ঈদ উপহার সামগ্রী। এখানে প্রায় ৪ হাজার নর-নারীগণ ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন।

আহলুল বাইত মিশন
উডসাইডস্থ আহলুল বাইত মিশনের উদ্যোগে ৫৪-২৫ রুজভেল্ট এভিনিউর খোলা মাঠে ঈদ উল আযহার একটি জামাত মঙ্গলবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। চমৎকার আবহাওয়ায় খোলা আকাশের নীচে মসজিদে সংলগ্ন সড়কে ঈদগাহর পরিবেশে সম্পূর্ণ দেশীয় আমেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আহলুল বাহুত মিশন ও মসজিদের একমাত্র ঈদের জামাত।
সকাল ৮টা থেকে ধীরে ধীরে ঈদগাহ পরিপুর্ণ হয়ে উঠে। ফযরের নামাজের পর থেকে মসজিদ ও মিশনের খাদিমগন সর্বজনাব নুরুল ইসলাম, সৈয়দ আশরাফ আলী, হাকিম, হাফিজ টিপু, ইসকান্দর, ইউসুফ আলী, বাবু, তজিমউদ্দিন সহ আরোও অনেকে ঈদগাহকে বেলুন, ব্যানার, মুসাল্লাহ দিয়ে অত্যন্ত চমৎরকারভাবে সাজিয়ে তুলেন।
সুন্দর, সুশৃঙ্খল এই ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের প্রধান ইমাম ও খতিব মুশতি সাইয়েদ আনসারুল করিম আল আযহারী সাহেব। নামাজের পূর্বে উনার ইংরেজী ও বাংলা মিশ্রিত বয়ান শোনার জন্য দুর দূরান্ত থেকে অনেক মুসল্লী এসে যোগ দেন। মুফতী সৈয়দ আনসারুল করিম সাহেব তার সংক্ষিপ্ত চমৎকার সহজ ভাষায় ঈদ উল আযহা এবং কোরবানীর তাৎপর্য ও গুরুত্বের উপর আলোচনা করেন। কুরবানীর এই থেকে আমাদের সবার হৃদয়কে আলোকিত করার, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ত্যাগের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব বোধ গড়ে তুলার আহŸান জানান। শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। নামাজ শেষে আহলূল বাইত মিশন ও মসজিদের প্রথা অনুযায়ী খোলা আকাশের নীচে, মুফতি সৈয়দ আনসারুল করিম এবং হাফিস টিপু রহমানের যৌথ পরিচালনায় সম্মলিত মুসল্লীদের নিয়ে সালাতুস, সালাম ও মিলাদ মাহফিলের শেষে মুফতী সাইয়েদ আনসারুল করিম সবার মঙ্গল কামনা করে মুনাজাত করেন।
মসজিদের ভিতরে ব্যবস্থা করা হয় মহিলাদের। খাদিম কমিটির প্রেসিডেন্ট জুয়েল চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন, ঈদের শুভেচ্ছা ও মসজিদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সবশেষে খাদিম কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

ইস্ট এলমহার্স্ট জামে মসজিদ এন্ড মুসলিম সেন্টার
ইস্ট এলমহার্স্ট জামে মসজিদ এন্ড মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে পিএস ১২৭ স্কুলের খেলার মাঠে মঙ্গলবার ঈদুল আজহার বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। ঈদের নামাজের পর বাংলাদেশ এবং প্রবাসের সকলের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করা হয়।
এ বছর নিউইয়র্কে স্কুল ছুটি থাকার কারণে অভিভাবকের সাথে বিপুল সংখ্যক শিশু কিশোররাও অংশগ্রহণ করেছেন।

রিয়াজুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টার
জ্যামাইকাস্থ রিয়াজুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে পিএস ৪৮ স্কুলের খেলার মাঠে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের ১টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জামাতে সাউথ জ্যামাইকাবাসী ছাড়াও নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার মুসলিম নারী পুরুষরা অংশগ্রহণ করেন। জামাতে মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
এই সময় নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ এবং মোনাজাত পরিচালনা করেছেন মাওলানা মো: মহিউদ্দিন।
ঈদের নামাজের আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি নাজিম আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, সহ সভাপতি (প্রশাসন মোহাম্মদ আলী, সহ সভাপতি (সাধারণ) খলিল জমাদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, অর্থ সম্পাদক ওয়াহেদ ফেরদৌস, সহ অর্থ সম্পাদক রফিকুর ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক-শামসুল আবেদীন,সাংগঠনিক সম্পাদক-মোহাম্মদ খোরশেদ আলম প্রমুখ।
পার্কচেস্টার জামে মসজিদ
ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদের উদ্যোগে ঈদের দুটো জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ ও সংলগ্ন রাস্তায় সকাল ৮টা এবং সকাল ৯টা টায়।

দ্বিতীয় জামাতে মসজিদের তৃতীয় তলায় মহিলারা নামাজ আদায় করেন। ১ম জামাতে ইমামতি খুৎবা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম।

বাংলাবাজার জামে মসজিদ
নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় মসজিদের নিকটবর্তী খোলা মাঠে (আইএস ১০৬ প্লে গ্রাউন্ড) বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া। নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন সিংগেরকাচ আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা এ কে এম আবদুন নুর।
বাংলাবাজার জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিন মসজিদ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সকলের সহযোগিতায় মসজিদটি ব্যাংক ঋণ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু কর্জে হাসানা মুক্ত তথা সম্পূর্ণ ঋৃণমুক্ত করতে বর্তমানে আরো ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার প্রয়োজন। এজন্য সকলের আর্থিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
ঈদের নামাজ শেষে নিরব রেস্টুরেন্ট এবং খলিল বিরিয়ানী হাউজের পক্ষ থেকে ঈদের সেমাই ও দই এবং মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে মুসল্লীদের মাঝে পানি বিতরণ করা হয়।
নিউইয়র্ক ঈদগাহ
নিউইয়র্ক ঈদগাহের উদ্যোগে ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় ডাইভারসিটি প্লাজায়। সকাল ৭টায়, সকাল ৮টায়, সকাল ৯টায়, সকাল ১০টায় এবং সকাল ১১টায় ঈদের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ
নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯ টায় ব্রঙ্কসের ওভাল পার্কে বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের খতীব মাওলানা মাসহুদ ইকবাল জামাতে ইমামতি করেন।
এস্টোরিয়ার আল আমিন মসজিদের উদ্যোগে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ সংলগ্ন ৩৬ স্ট্রিট ও ৩৬ এভিনিউতে।
ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদের উদ্যোগে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ সংলগ্ন ওজোন রোড পার্কে।
জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ৭৩ স্ট্রিট ও রোজভেল্ট এবং ৪১ এভিনিউর মধ্যে সকাল ৮টা ৩০মিনিটে।
এস্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদের উদ্যোগে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ৩১ স্ট্রিটের ডিটমার্স এবং ২১ এভিনিউর মধ্যে।
জ্যামাইকা দারুস সালাম মসজিদের উদ্যোগে ঈদের ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভিতরে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ জামাত সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত ছাড়া সকল জামাতেই মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।
ব্রæকলীন বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে এবং সকাল ৯টায় ঈদের দুটো জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কুইন্সের জ্যামাইকার আল আরাফা ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে স্থানীয় সুসান বি এন্থনী স্কুল মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জ্যামাইকার বাংলাদেশ মিশন (হাজী ক্যাম্প) মসজিদ, দারুস সালাম মসজিদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, মসজিদ আবু হুরায়রা, মোহাম্মদী সেন্টার, ওজনপার্কের আল আমান জামে মসজিদ, দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ, আল ফোরকান জামে মসজিদ, ব্রæকলীনের বাংলাদেশ মসুলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ, আসসাফা মসজিদ, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, গাউছিয়া মসজিদ, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার প্রভৃতি মসজিদের উদ্যোগে ঈদুল আযহার একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নিউইয়র্কে আরো বেশ ক’টি ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন মসজিদে।
এদিকে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ম্যারিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহিও, ফ্লোরিডা,নর্থ ক্যারোরিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, এরিজোনাসহ প্রভৃতি স্টেটে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব স্টেটে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা এলাকার মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
এদিকে, এদিন সকাল বেলায় মুসলিম পরিবারের সদস্যরা নানা রঙের পাজামা পাঞ্জাবি, শাড়ী, সালওয়ার কামিজ পরে নিকটস্থ মসজিদ কিংবা খোলা মাঠে হাজির হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। প্রায় ২৭ শতাধিক মসজিদ ছাড়াও খোলা মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারে এবং বিলাসবহুল হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ জামাত। বিশেষ পোষাক পরিধান করে একত্রে বিপুল সংখ্যক মুসল্লীর ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি ভীন দেশীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ঈদের জামায়াত গুলোতে স্থানীয় রাজনীতিক, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ প্রবাসের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষ প্রবাসী স্বজনের সাথে ঈদ করার জন্যে বাংলাদেশে গেছেন। তাদের প্রায় সকলেই ঈদুল আযহার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন জানা গেছে।
তবে দেশে থাকা মা-বাবা, পরিবারকে খুব করে মনে পড়ার কথা জানালেন তারা। ঈদের নামাজ শেষে ঘরে ফিরেই ফোনে বাংলাদেশে স্বজনদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
চাঁদরাতে মেহেদী রঙ্গে মেতেছিল জ্যাকসন হাইটস
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীদের সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে মিনি বাংলাদেশ হিসাবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটস। নৈমিত্তিক বাজার করা থেকে শুরু করে যে কোনো উৎসব, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি বা ¯্রফে আড্ডা মারার জন্যও প্রবাসী বাংলাদেশীরা জ্যাকসন হাইটসকেই বেছে নিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশী স্টাইলে এই জ্যাকসন হাইটসে চালু হয়েছে চাঁদ রাত পালন ও মেহেদী রাত।
২০ আগস্ট সোমবার চাঁদ রাতে জ্যাকসন হাইটস্ ছিলো জমজমাট। ঈদ উপলক্ষে বিপনী বিতানগুলো আগেই সাজানো হয়েছিলো,গ্রোসারিগুলোতেও ছিলো নানা আয়োজন।গত কয়েকবছর যাবত চাঁদ রাতে যোগ হয়েছে মেহেদী। জ্যাকসন হাইটস্ ে৭৩ স্ট্রিট ও ৭৪ স্ট্রিটে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চাঁদ রাতে যেন মানুষের ঢল নেমেছিল। বিপনী বিতানের মালিকরা জানিয়েছেন,এ বছর ব্যবসা মোটামুটি ভাল হয়েছে।চাঁদরাতে জ্যাকসন হাইটস এলাকার স্ট্রিটে একটা-দুটো চেয়ার এবং ক্যাটালগ নিয়ে মেহেদীর পসরা সাজিয়ে বসে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা। কেউ মেহেদী লাগিয়েছেন ৫ ডলারে, আবার কেউ লাগিয়েছেন ১০ ডলারে। এক হাত ৫ ডলার, ২ হাত ১০ ডলার।

বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা এবার কোরবানী দিয়েছেন
ঈদুল আযহার নামাজের পর পশু কোরবানী করা মুসলমানদের জন্যে অন্যতম বিশেষ পর্ব। নামাজ শেষে কেউ কেউ চলে যান কোরবানির পশু জবাই করতে খামারে বা হালাল ¯øটার হাউজে। অনেকে আবার ঈদের নামাজ আদায় করেই চলে যান কাজে। অধিকাংশ প্রবাসী অবশ্য আগে থেকেই স্থানীয় গ্রোসারী ও রেষ্টুরেন্টে কোরবানীর অর্ডার দিয়ে রাখেন। সুবিধামত সময়ে গ্রোসারী ও রেষ্টুরেন্ট থেকে প্রবাসীরা তাদের পশু কোরবানীর মাংস নিয়ে যান। সিটির বাংলাদেশী মালিকানাধীন পোলট্রি ফার্ম ও গ্রোসারীগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে প্রবাসীরা কোরবানীর অর্ডার দিয়েছেন। অনেকেই আবার নিউইয়র্কের বাইরে বিভিন্ন খামারে বা হালাল ¯øটার হাউজে যেয়ে নিজেরাই কোরবানীর পশু দেখেশুনে কোরবানী দিয়েছেন। কোরবানীর মাংস হাতে পাওয়ার পর সেই মাংস আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বাসায় গিয়ে বিতরণ করেছেন প্রবাসীরা।
জ্যাকসন হাইটস, ব্রæকলিন, জ্যামাইকা, এস্টোরিয়া, ব্রঙ্কস এবং ওজনপার্কের বাংলাদেশী মালিকানাধীন গ্রোসারি মালিকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানীর পশুর মূল্য একটু বেশি হলেও প্রবাসীরা ঠিকই কোরবানী দিয়েছেন।

এস্টোরিয়ার ইউনাইটেড এস্টোরিয়া হালাল লাইভ পোল্টিতে এবার কোরবানীর অর্ডার নেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার জনাব হাসান জানান,আমরা প্রবাসীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। পছন্দমত দেখে আল্লাহর নামে হালালভাবে খাসী-ভেড়া কোরবানী করার সুযোগ প্রবাসীরা নিতে পেরেছেন।
তিনি বলেন,ঈদের দিনে কেউ কেউ নিজ হাতে কোরবানী দিয়েছেন।তিনি জানান,ইসলামী আদর্শ মেনে প্রবাসীরা কোরবানী করা মাংস বাসায় নিয়ে যেতে পেরেছেন।
এস্টেরিয়া লাইভ চিকেন মিট মার্কেটের স্বত্ত¡াধীকারী মিস্টার গামাল জানান,অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছরেও কোরবানীর অর্ডার বেশি হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরু এবং খাসির দাম কিছুটা বেশি ছিল।
তবে আমাদের ফার্মে প্রচুর গরু,ছাগল ও ভেড়া মজুত থাকায় বিভিন্ন দেশের মুসলমানগণ নিজেদের পছন্দমত কোরবানী দিতে পেরেছেন।
জ্যাকসন হাইটসের মান্নান সুপার মার্কেট, হাটবাজার,খাবার বাড়ী, ইত্যাদী,উডসাইডের ফুডফেয়ার সুপার মার্কেট,জ্যামাইকা ও ব্রঙ্কসের মান্নান সুপার মার্কেট,শাহজালাল সুপার মার্কেটসহ বাংলাদেশী মালিকানাধীন গ্রোসারিগুলোতে কোরবানীর অর্ডার নেয়া হয়েছিল। সব গ্রোসারীতেই গতবারের তুলনায় বেশী কোরবানী দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here