চরম অনিশ্চয়তায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

0
109

প্রবাস রিপোর্ট: গত সপ্তাহের মঙ্গলবার দিবসটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ২০ মাসের শাসনে তার জন্য কঠিন একটি দিবস। এই দিনে একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বচনে প্রচার শিবিরের সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট কর ফাঁকি, ব্যাংক জালিয়াতি, বিদেশি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়াসহ আটটি অভিযোগে ভার্জিনিয়ার একটি আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার এ রায় দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক এটর্নী মাইকেল ডি কোহেন আদালতে স্বীকার করছেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচার চলার সময় দুই নারীকে ট্রাম্পের নির্দেশে অর্থ দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে এসব নারীর সম্পর্ক নিয়ে যাতে তাঁরা মুখ না খোলেন, সে জন্যই দেওয়া হয় ওই অর্থ। এই দুটি বিশাল ঘটনায় উত্তেজিত ট্রাম্প তার চিরায়ত অভ্যাস বশত যে টুইটটি করেন, সেটি তার জন্য ডেকে আনে আরেক চরম পরিণতির ইঙ্গিত। টুইট বার্তায় তিনি আভাস দেন আদালতে জালিয়াতির অভিযোগে দোষি সাব্যস্ত এমন একজনকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমা ঘোষণার এবং ট্রাম্পের নির্দেশে অর্থায়নের আইন ভাঙার অপরাধ স্বীকারকারী কোহেনের বিরুদ্ধে বিষোদগারের। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কোন বিশ্বে আছে?
যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নৈতিকতার প্রশ্নে বহু অভিযোগ আছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেন সবকিছুই ছড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষরা বলছেন, সামনের দিনগুলো তার জন্য আরো কঠিন। একদিকে জাল গুটিয়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ান হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তকারী বিশেষ কৌশলী মুয়্যেলার। অন্যদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে যেমোক্রাটদেও আবার সংখ্যাগরিষ্ট হিসাবে আবির্ভূত হওয়ার ইঙ্গিত।
মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়নের আইন ভাঙার অপরাধ স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইক্যাল কোহেন। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৬ ট্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে কেন্দ্রীয় দফতরের একজন প্রার্থীর নির্দেশেই আইন ভেঙেছেন তিনি। এখানে কোহেন ওই প্রার্থী বলতে ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন বলে বলা হয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমে।
৫১ বছর বয়সী কোহেন মঙ্গলবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে ৫টি কর জালিয়াতি, একটি ব্যাংক জালিয়াতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় আইন ভাঙা বিষয়ক দু’টি অপরাধে দায় স্বীকার করেন। এই অপরাধগুলোর কারণে তার চার থেকে পাঁচ বছরের জেল হতে পারে। আগামী ১২ ডিসেম্বর আদালত এ বিষয়ে রায় দেবে।
বিচারকদের প্রশ্নের জবাবে কোহেন জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এমন দুই নারীকে মুখ বন্ধ রাখার বিষয়ে অর্থ পরিশোধ করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় দফতরের একজন নির্দেশনায়ই এমনটা করেছেন বলে জানান কোহেন। নারীদ্বয়ের নাম প্রকাশ করেননি কোহেন। পাশাপাশি প্রার্থীর নামও প্রকাশ করেননি তিনি। তবে কোহেন জানিয়েছেন, উভয় নারীকে ফেডারেল কার্যালয়ের এক প্রার্থীর নির্দেশনাতেই অর্থ পরিশোধ করেছেন তিনি ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক এটর্নী মাইকেল ডি কোহেন আদালতে দোষ স্বীকারে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প!
‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোহেন আদালতের সামনে নির্বাচনী আর্থিক আইন ভঙ্গ করার কথা স্বীকার করেন। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ওই দুই নারীকে অর্থ দিয়েছেন ‘কেন্দ্রের প্রার্থীর নির্দেশেই’। এর অর্থ হলো, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই অর্থ দিয়েছিলেন।
কোহেন বলেন, ‘আমি ম্যানহাটনেই ওই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলাম। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা।’
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বচনে প্রচার শিবিরের সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট কর ফাঁকি, ব্যাংক জালিয়াতি, বিদেশি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়াসহ আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ভার্জিনিয়ার একটি আদালত মঙ্গলবার এ রায় দেয়। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অন্য ১০টি অভিযোগের প্রমাণ না হওয়ায় তা খারিজ করে দেন।
মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। আদালত ম্যানাফোর্টকে দোষী সাব্যস্ত করলেও দÐাদেশ আপাতত স্থগিত রাখে। খালাস করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নতুন করে বিচার চান কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে আদালত আইনজীবীদের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।
এই ঘটনাকে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তে গঠিত দলের প্রথম বিচারিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটির সঙ্গেই নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের সম্পৃক্ততা নেই।
এ রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ম্যানাফোর্টকে দÐ দেওয়ার বিষয়টি হচ্ছে ‘উইচ হান্টের’ অংশ। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় এক র্যালিতে অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যা হলো, তা খুবই দুঃখজনক।’ এর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
৬৯ বছর বয়সী ম্যানাফোর্ট ছিলেন ট্রাম্পের কাছের মানুষদের একজন। ম্যানাফোর্টের আইনজীবী কেভিন ডাউনিং বলেন, তাঁর মক্কেল এ রায়ে হতাশ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আইনের সীমায় থেকে যা যা করণীয়, সব করা হবে।
জাল গুটিয়ে আসছে: হোয়াইট হাউজের চীফ এটর্নীকে ৩০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে গঠিত তদন্ত দল হোয়াইট হাউজের প্রধান আইনজীবী ডোনাল্ড ম্যাকঘানকে ৩০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্ত দলের সঙ্গে মেকঘান সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তদন্ত দল জানতো এমন অনেক বিষয় মেকঘান জানিয়েছে বলেও জানিয়েছে পত্রিকাটি।
নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ক তদন্ত ও বিচারের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন বাধা সৃষ্টি করেছিলেন কিনা সেটি জানার জন্যই মেকঘানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মেকঘান তদন্ত দলের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর আইনজীবী উইলিয়াম বুর্কও। তিনি জানান, মেকঘান তদন্ত দলের সব প্রশ্নের উত্তর সবিস্তারে দিয়েছেন। কোন কিছু লুকাননি।
ব্রেননের ‘নিরাপত্তা অনুমতিপত্র’ নতুন চাপে ট্রাম্প
সাবেক সিআইএ-প্রধান জন ব্রেননের ‘নিরাপত্তা অনুমতিপত্র’ বাতিল করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। এক নির্বাহী ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, তিনি ব্রেননের নিরাপত্তা অনুমতিপত্র বাতিল করছেন। কারণ হিসাবে ট্রাম্প বলেন ব্রেনন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যে গোপনীয় গোয়েন্দা নথি পড়ার সুযোগ পান, এর অপব্যবহার করে তিনি এই মিথ্যা প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। শুধু ব্রেননই নন, আরও এক ডজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিরাপত্তা অনুমতিপত্র বাতিল করা হবে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এঁদের মধ্যে বিচার বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
ব্রেনন ও অন্যান্য যাঁদের নাম বাতিল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁরা প্রায় সবাই ট্রাম্পের প্রবল সমালোচক। টিভি বা সংবাদপত্রে বিভিন্ন সংবাদ ভাষ্যে ট্রাম্পের অনুসৃত নীতির কঠোর সমালোচনা করে তাঁরা প্রেসিডেন্টের বিরাগভাজন হয়েছেন। বলা হচ্ছে, এরা সবাই ট্রাম্পের ‘শত্রু তালিকা’য় রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নিক্সন ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির সময় তাঁর প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন, তাঁদেরও এই রকম একটি ‘শত্রু তালিকা’ তৈরি করেছিলেন।
ব্রেননের নিরাপত্তা অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত সিআই-এর সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রবল সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এঁরা সবাই বলছেন, এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা কোনো সম্পর্ক নেই। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিগত চারটি প্রশাসনের ১৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তা, যাঁদের অধিকাংশ হয় সিআইএর সাবেক প্রধান বা পরিচালক, একযোগে এক প্রতিবাদপত্র প্রকাশ করেছেন, যার মূল কথা, ট্রাম্প তাঁর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আরও ৬০ জনের মতো সাবেক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তাও পরে এই প্রতিবাদপত্রের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করে এক বিবৃতি দেন।
সবচেয়ে নাটকীয় প্রতিবাদটি আসে ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সামরিক কমান্ডার উইলিয়াম ম্যাকরাভেনের কাছ থেকে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় এক উপসম্পাদকীয়তে নিজের নিরাপত্তা অনুমতিপত্র বাতিল করার অনুরোধ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রেসিডেন্ট, জন ব্রেনন একজন অসাধারণ সরকারি কর্মকর্তা, আপনি তাঁর নিরাপত্তা অনুমতিপত্র বাতিল করেছেন। আপনি যদি আমার অনুমতিপত্রও বাতিল করেন, তাহলে আমি সেটি গভীর সম্মানের কাজই মনে করব।’
রাশিয়া তদন্ত বাতিলে সম্মত না হওয়ায় সিআইএ-প্রধান জেমস কোমিকে তিনি দায়িত্বচ্যুত কওে প্রথম তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। তারপরও সে তদন্ত বাতিল না হওয়ায় কখনো কথায় কখনো ইঙ্গিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টাইনের অপসারণ করার ইঙ্গিত দেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এসব কাজের মাধ্যমে ট্রাম্প বিচারকাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, তার বিস্তর প্রমাণ রাবার্ট ম্যুলারের হাতে ইতিমধ্যে জমা পড়েছে।
রাশিয়া তদন্তকে ট্রাম্প যতই ‘ষড়যন্ত্র’ বলে বাতিল করুন না কেন, বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট ম্যুলার ইতিমধ্যে ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নামা চূড়ান্ত করেছেন। নিজের অপরাধ স্বীকার করে এই তদন্তকাজে সহযোগিতা করছেনÍএমন লোকের সংখ্যা পাঁচ। ট্রাম্পের সাবেক এটর্নী মাইকেল কোহেন তাদেও অন্যতম। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের আইনজীবী ডন ম্যাগেন পর্যন্ত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই তদন্তের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন ব্রেনান
লিহান লিমা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন সাবেক সিআইএ প্রধান জন ব্রেনান। সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, ট্রাম্প তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যা ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অবৈধ ব্যবহার।
তিনি আরো বলেন, তার সঙ্গে কয়েকজন আইনজীবী যোগাযোগ করেছেন এবং তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ব্রেনান বলেন,‘নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে নেয়া আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। আমার সাথে যা হলো অন্যদের সাথেও এটি করা থেতে ট্রাম্পকে আটকাতে হবে। এর মানে আমাকে অবশ্যই আদালতে যেতে হবে এবং আমি সেটি করব।’
একজন সিআইএ প্রধানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা, দুই দলের নেতা, রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তবে সমালোচনা কানে না তুলে উল্টো ট্রাম্প বলেন, যারাই তার সমালোচনা করার মত দুঃসাহস করবে তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে নেবেন তিনি। বিজনেস ইনসাইডার
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টায় ৪ দেশ: জন বোল্টন
রাশিয়ার মত চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। মার্কিন টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
বোল্টন বলেন, ‘২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অনেকবড় ইস্যু। আমরা এটি ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একসাথে ৩৫০টি সংবাদপত্র
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিরতিহীনভাবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আমেরিকায় প্রায় ৩৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র একযোগে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। সেইসাথে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিপূলসংখ্যক রেডিও ও টিভি নিউজ সংবাদপত্রসমূহেরসাথে একাত্মতা ঘোষনা করে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। উল্লেখ্য আমেরিকার সংবাদপত্রগুলোর নিউজরুম এবংসম্পাদকীয় বিভাগ দুটি পৃথক সত্তা। সম্পাদকীয় নীতিমালা সাধারণত প্রকাশক ও সম্পাদকের মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।
নিউইয়র্ক টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে সংবিধান প্রণয়নের পর থমাস জেফারসন তার বন্ধুকে এক চিঠিতে লেখেন, আমাকে যদি সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, আমি সরকার নাকি সংবাদপত্রকে অগ্রাধিকার দেব রাষ্ট্রে,আমি বলব সংবাদপত্র।
সম্পাদকীয়গুলোতে লেখা হয়, আমেরিকান নীতি নির্ধারকরা প্রথম সংশোধনী পাশ করে ফ্রি প্রেসের চর্চা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছেন। কিন্তু ২০১৮ সালে এসে আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়েছে।
ট্রাম্প সংবাদ প্রতিবেদনকে ভুয়া খবর এবং সাংবাদিকদের জনগণের শত্রæ বলে আক্রমণের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে দেশব্যাপী সমালোচনার ডাক দেয় বোস্টন গেøাব। ট্রাম্পের এই ভুমিকায় জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, এতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঝুকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এবার সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নোংবা যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার ডাক দিয়েছে বোস্টন গেøাব। অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোকেও একই কাজ করার আহŸান জানিয়েছে তারা। প্রাথমিকভাবে ১০০ সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান তাদের এ আহŸানে সাড়া দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের পাশাপাশি ছোট ছোট স্থানীয় গণমাধ্যমেও ওই আহŸানে সাড়া দেওয়ায় সংখ্যাটি সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here