কোন পথে সৌদি:মসজিদুল হারামের ইমাম গ্রেফতার

0
308

মিডল ইস্ট মনিটর: সউদী আরবের মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম শেখ সালেহ আল-তালিবকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে সামাজিক মাধ্যম অ্যাডভোকেসি গ্রæপ প্রিজনার্স অব কনসায়েন্স। অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, ‘মন্দ কাজ’ নিয়ে সর্বশেষ বক্তব্যের কারণেই আল-তালিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আল খালিজ অনলাইন জানায়, এই ইমাম সর্বশেষ হজ নিয়ে কয়েকটি টুইট করেন। যদিও তিনি নিজে এসব পোস্ট করেছেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। ২০১৭ সাল থেকে সউদী আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন ইসলামি চিন্তাবিদদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছেন।
গত সপ্তাহেই সউদী আরবের কারাগারে মারা গেছেন প্রখ্যাত ইসলামি বিশেষজ্ঞ শেখ সুলেইমান ডয়েশ। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি যুবরাজের সমালোচনা করেছিলেন।
২০১৮ সালের মে মাস হতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নারী অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে সউদী কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী গাড়ি চালানোর অনুমতি ও পুরুষ অভিভাবকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। মে মাসে কর্তৃপক্ষ নারী অধিকারকর্মী এমান আল-নাফজান, লুজাইন আল-হাতলুল, আজিজা আল-ইউসেফ, আয়শা আল-মানিয়ে, ইব্রাহিম মোদেইমাহ ও মোহাম্মদ আল-রাবেয়াকে গ্রেফতার করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও বিদেশি শত্রুদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার মতো সন্দেহজনক কর্মকাÐের জন্য সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আরও গ্রেফতার করা হতে পারে।
যে বক্তব্যের কারণে গ্রেফতার
মক্কা মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শাইখ সালেহ আত তালিব হাফিজুল্লাহ, যে বক্তব্যটি সোশাল মিডিয়ায় দেন সেটি হলো- তোমরা আল্লাহর নাফরমান এবং যারা এই সমাজের মধ্যে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে চালু করছে তাদেরকে বয়কট করো। যা আমাদের পূর্বসূরি বড় বড় উলামায়ে কেরামগণ বলে গেছেন। ঐ সমস্ত মানুষদের অনুষ্ঠানকে বর্জন করো যাদের কর্মপদ্ধতি সন্দেহযুক্ত, এবং যারা নারীদেরকে রাস্তায় বের করে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের অনুমতি দেয়, যারা নারীদেরকে উলঙ্গপনার দিকে আহবান করে, যারা নারী-পুরুষের অবাধে মেলামেশার দিকে উৎসাহিত করে বর্তমান সমাজে ফাসাদ শুরু করেছে, তাদেরকে বয়কট করুন । যারা নেশাযুক্ত পানীয়কে বৈধতা দান করে তাদেরকে বয়কট করুন । আপনারা পরিপূর্ণভাবে গান-বাজনা এবং কমেডি, কৌতুক ও সিনেমার অনুষ্ঠানকে বয়কট করুন । যদিও যারা এই সিনেমা ও কমেডি চালু করেছে তারা এটাকে নিছক বিনোদন মনে করে। এটা কেবল বিনোদন নয় বরং এই সিনেমার অনুমোদন দ্বারা একমাত্র উদ্দেশ্য হল পশ্চিমা চিন্তা-চেতনাকে লালন করা এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পশ্চিমা আদর্শ ও নীতিকে ঢুকিয়ে দেওয়া। যে নাচ গানের এবং কমেডি নাটক সিনেমার অনুমোদন একেবারে ইসলামী নেই। ইসলামী নীতিতে এই কাজ হারাম, ইসলাম এর অনুমোদন প্রদান করে না ।
তাদের এই অসৎ উদ্যোগ পবিত্র এই ভূমির জন্য লজ্জাজনক বিষয়, এবং এই পবিত্র ভূমিকে লাঞ্ছিত করার শামিল, তাদের এই অসৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত, এক সময় আসবে যখন এই বেহায়াপনায় ‘কুদওয়াতুন লিশ্শাবাব’ তথা যুবকদের উত্তম মডেল হিসাবে স্থান পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here