ঐক্য প্রত্রিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়ার প্রচারণা!

0
106

সরকার বিরোধী আন্দোলন-নির্বাচন এবং কথিত তিন শর্ত
নাসিরা আফেরোজ রোজী: জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশে ‘সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন’ কথাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত। এটা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সফর শেষে দেশে আসার পর দলের মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ভারতও সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়’। ভারত কিন্তু ৫ জানুয়ারি ‘১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হউক, তা চায়নি।
বর্তমানে জাতিসঙ্ঘ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ইইউসহ সবাই সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবির মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল ‘বিএনপির ধানের শীষের’ অংশগ্রহণের দিকে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করা এবং সে নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আগামীতে একটি জাতীয় ঐক্যেও সরকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বিরোধী প্রায় সকল রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্য প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত কাঠামো গঠনে এগিয়ে যাচ্ছে সেই সময়ে শুরু হয়েছে অপপ্রচারণা। সরকার একদিকে যেমন এই প্রক্রিয়াকে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র হিসাবে অবিহিত করছে অন্যদিকে সরকার সমর্থক কিছু মিডিয়া এ সম্পর্কে নানা মুখরোচক খবর দিয়ে এই ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রধান দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি পত্রিকা ঐক্য প্রক্রিয়ার ‘তিনটি শর্ত’ তুলে ধরে রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই সংবাদ পরবর্তীতে এ সম্পর্কে স্যোসাল মিডিয়ার আলোড়ন তুলেছে। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, সংবাদে অর্ধসত্য কিছু তথ্য দিয়ে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে এই ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করার অপচেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতা-কর্মী ও বিএনপির মধ্যে জামায়াতের প্রতি দূর্বল মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তিরা স্যোসাল মিডিয়ায় এই ঐক্যেও মধ্যে উঠে-পড়ে লেগেছেন।
বিএনপি এবং তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বয়কট করার দরুন অংশগ্রহণমূলক হয়নি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। ১৫৪টি আসনের এলাকাধীন জনগণকে অর্থাৎ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে তখন ভোট দেয়া হতে ক্ষমতাসীনরা বঞ্চিত রেখেছিল। এহেন প্রেক্ষাপটে ভারত ব্যতীত কোনো দেশই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। ওই নির্বাচনে বাদ বাকি অন্যান্য আসনে ৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ছিল। দেশ-বিদেশে ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই এদিক দিয়ে দশম জাতীয় সংসদ অবৈধ। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এই সংসদ ও সরকার প্রায় ৫ বছর ক্ষমতাসীন রয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অবশ্য এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠাতে সহায়তা ও সেচ্ছাচারী শাসনের পথকে আরো মসৃণ করেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে একাদশ সংসদ নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’ হবে না। তখন ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচনের পুনঃদৃষ্টান্তই স্থাপিত হবে। ক্ষমতাসীন জোট তাদের পরিধি বৃদ্ধি, ২০ দলীয় জোটের শরিকদের কিছু অংশে ভাঙন সৃষ্টি এবং জাতীয় পার্টিকে ‘বিরোধী’ দলের অবস্থানে নিয়ে বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের পাঁয়তারা, যত কিছুই করুন না কেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনই শুধু দেশকে উপহার দিতে পারবেন। ৫ জানুয়ারির কলঙ্ক ঘুচানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। বিএনপির অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন উপলব্ধি করা যাবে না। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে তাদের নেত্রীর মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন থাকবে। তাই এদেশে ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ অর্থই বিএনপির অংশগ্রহণ। ক্ষমতাসীনরা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাথে সংলাপ ও সমঝোতা প্রয়োজন নেই বলে জোর গলায় প্রচার করে যাচ্ছেন। তবে বর্তমানে তাদের গলার স্বর নি¤œমুখী। প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও এমপিরা জনসভা করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। পক্ষান্তরে দেশের বেশির ভাগ জনগণকে যে দল বিএনপি প্রতিনিধিত্ব করে, তার নেতারা ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচার করার তুলনায় ঐক্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার বিরোধী আন্দোলনের ওপরই ও তাদের দেশনেত্রীকে বন্দিখানা থেকে বের করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
অভিযোগ আছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১/১১ এর স্বৈরসরকারের সময়ে খালেদা জিয়ার নামে দায়েরকৃত মোকদ্দমা ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য বহাল রেখেছেন। একটিতে সাজা প্রদানের নামে তাকে কারাবন্দী রেখে আরো অনেক মামলা জুড়ে দিয়ে জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। ১/১১-এর পর্যায়ে সৃষ্ট একই ধরনের কয়েকটি দুর্নীতির মামলা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও ছিল। ক্ষমতাসীন সরকার শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সবগুলোই তুলে নিয়েছে। অথচ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সৃষ্ট মামলাগুলো রেখে দিয়েছে। এর কারণ নিছক রাজনৈতিক। জনগণ অবিলম্বে তার মুক্তি চাচ্ছে। কারামুক্তির বিলম্বে ক্ষমতাসীনদের এ জন্য মূল্য দিতে হবে।
সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে, আইনের দোহাই দিয়ে বেগম জিয়া রাজনৈতিক বন্দী বলে নাটক সৃষ্টি করছে । খালেদার বিরুদ্ধে এতিমের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাননীয় আদালত তাকে সাজা দেননি। সাজা হয়েছে কথিত অনিয়মের কারণে। সে টাকা যথারীতি সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের ফান্ডের নামে ব্যাংকে জমা থেকে সুদে আসলে কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা তা জেনে শুনেও প্রচার করে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া ‘এতিমের টাকা চুরি করেছেন’।
প্রথম দিকে, সবার ধারণা ছিল খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালেও তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে মুক্ত হয়ে আসবেন। কিন্তু সরকারকোনো অবস্থাতেই তাকে মুক্ত হতে দিচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য দীর্ঘ দিন বন্দী করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রেখে দেশে অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন আদৌ কি সম্ভব?
৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বছর ক্ষমতাসীন থাকা লীগের জন্য পরম সৌভাগ্য। আওয়ামী লীগ ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আরো ৫ বছর এবং এমনকি ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখতে চায়। বিএনপি অভিযোগ করছে, পুলিশি শাসন কায়েম করে গণতন্ত্রের আন্দোলনকে দমন, পীড়ন, গুম, খুনসহ বিরোধী নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। গণতন্ত্রের উদ্ধারের কাÐারী যে নেত্রী, তিনি বন্দিখানায়। ক্ষমতাসীনরা ঈর্ষান্বিত হয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘আগুন সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে তার জনপ্রিয়তাকে আঘাত করতে চাচ্ছে। খালেদা সন্ত্রাসী নন, ক্ষমতাসীনরা জানেন, তাদের জন্য এই দেশনেত্রী অগ্নিকন্যাসম। নির্বাচনের সময়ে তার কণ্ঠ জনগণের মধ্যে অমৃতসুধার মতো মনে হবে, ক্ষমতাসীনরা তা নিশ্চিত ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে তাকে বন্দী রাখতে চান।
সরকারের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট, গুম, খুন, মাদকের নামে ক্রসফায়ারে মানুষ খুন, মানবতা ভূলুণ্ঠিত, ব্যাংক লুটপাট, দুর্নীতি, ছাত্রলীগের অত্যাচারে ছাত্র ও শিক্ষক দিশেহারা, কোটা আন্দোলনের নিরস্ত্র ছাত্র এবং শিক্ষকদের ওপর মারমুখী আক্রমণ সত্তে¡ও পুলিশের নীরব ভূমিকা, সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া ইত্যাদি ঘটেছে। এই নৈরাজ্য ও অরাজকতা থেকে মুক্তি চায় এমন একটি কথা বেশ চোওে শোরেই বলা হচ্ছে।
দেশে বিরাজমান ‘অপশাসনের অবসান’ ঘটাতে নির্বাচন সামনে রেখে ফলপ্রসূ আন্দোলনের ছক তৈরি করতে একদিকে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া চলছে। জানা যায় এ ঐক্যের পথে সরকার বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল প্রায় সম্মত হয়েছে। এ অবস্থায় বিরোধী দলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিরও চেষ্টা চলছে। কয়েকটি পত্রিকা ঐক্য প্রক্রিয়ায় এমন কিছু অবাস্তব শর্তের কথা তুলে ধরছে যা কোন কোন দলের নেতা কর্মীদের হতাশ করার অপচেষ্টা হিসাবে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি সুত্রে জানা যায়, ঐক্যের শর্তে বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানের মামলা প্রসঙ্গে সম্ভাব্য জোটের অন্যান্য শরীকের যে শর্ত তা বিএনপির এ সম্পর্কিত নীতির সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য আছে। বিএনপি বরাবরই বলে আসছে, ‘তারা আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সব মামলার সমাধান করতে চায়’। এমনকি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনই তারা সে অবস্থান উল্লেখ করেছে। বিএনপি মনে করে এইসব মামলার সবগুলোই যেহেতু অসত্য সুতরাং আইন স্বাভাবিক গতিতে চললে দলের নেতারা ছাড়া পেতে বাধ্য। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতে হস্তক্ষেপ করছে। ফলে আইন স্বাভাবিক গতিতে চলছে না। কিন্তু ঐক্যের সরকার ক্ষমতায় আসলে এই বাধা আর থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের মামলার কথা উল্লেখ কওে বলেন, তার বিরুদ্ধে আদালতে কোন অবিযোগই প্রমানিত হয়নি। ফলে নি¤œ আদালতের বিচারক তার মামলা খারিজ করে দেয়। পওে সরকার ঐ বিচারকের ওপর নির্যাতন চালায়। ফলে সরকার হস্থক্ষেপ না করলে প্রতিটি মামলায় বেগম জিয়া ও তারেক রহমান মুক্তি পেতে বাধ্য। সুতরাং এ প্রসঙ্গে জোটের শরীকদেও শর্ত কোন বিষয় নয়। বরং এটি বিএনপিরই নীত।
তবে এই বিএনপি নেতা বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক অধিকার প্রসঙ্গে একটি প্রত্রিকায় যে শর্তেও কথা বলা হয়েছে তা বিকৃতভাবে উপাস্থাপন করা হয়েছে। মুলত জোটের কোন কোন শরীকের মত হচ্ছে, ঐক্য প্রক্রিয়ায় আন্দোলনে ও নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে যে সরকার গঠন হবে সেখানে বিএনপির প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রী হিসাবেঅন্যরা অংশ নিতে পারলেও তারেক রহমান অন্তর্ভূক্ত হতে পারবেন না। বিএনপির শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান উভয়রই এ শর্তে কোন আপত্তি নেই। তবে তারেক রহমানের রাজনীতি করার অধিকার থাবে না- সে কথাটি অসত্য। কারো রাজনীতি করার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এটি গণতন্ত্র বিরোধী। সুতরাং এ ধরণের কোন শর্তেও বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই। এটি মুলত ঐক্য প্রত্রিয়ায় বিভেদ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে।
এই নেতা আরো বলেন, এ ধরণের ষড়যন্ত্র আরো হবে। এ বিষয়ে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা সজাগ। বিএনপি দেশের স্বার্থে যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। বিএনপির কাছে দলের চেয়ে দেশ বড়। এটি অতীতে বহুবার প্রমানিত হয়েছে। এমনকি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি দেশের স্বার্থে তার গঠনতন্ত্রের ধারার বিপক্ষে যেয়ে প্রেসিডেন্টসিয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে পার্লামেন্টেরিয়ান সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনে রাজী হয়ে ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। অনেকেই সে দিন বলেছিল, ‘এটি বিএনপির নৈতিক পরাজয়। বিএনপি হারিয়ে যাবে।’ কিন্তু আমাদের নেত্রী জাতীয় ঐক্যকে প্রধান্য দিয়ে বলেছিলেন ‘আল্লাহ ভরসা’। প্রমানিত হয়েছে নেত্রী সেদিন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিএনপিই পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ‘মুজিব প্রবর্তিত’ প্রেসিডেন্টশিয়াল সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলন করে। বিএনপিই ঐক্যর শর্ত পালন করেছে। এবারও এই খুনী স্বৈারাচার আওয়ামী লীগ সরকারকে হঠিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারেও নেত্রী সম্ভাব্য ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যান্য শরীকদের কথা অনুযায়ী আগামীতে ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানকে অর্ন্তভুক্ত না করার শর্তে রাজী হয়েছেন। আমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী ঐক্যর সরকারই শেষ কথা নয়। তারেক রহমান দেশের আগামী দিনের নেতা। গণতন্ত্র অব্যাহত থাকলে জনগণ চাইলে নিশ্চয়ই তিনি কোন সরকারের মন্ত্রী নয় একসময় দেশের প্রধানমন্ত্রীই হবেন। আমরা জানি বিএনপিই দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। অতীতেও যেমন ছিল ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনটি আরেক নেতা বলেন, জনগণ আন্দোলন ও ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং কুশাসনের অবসান চায়। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতাকে আঁকড়ে রাখার জন্য সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক তা চান না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে, বৈরী পরিস্থিতিতে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা সরকারের কৌশল। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। বিএনপি বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেনা মোতায়েন এবং তাদের নেত্রীকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের দাবি করছে। এই যুক্তিযুক্ত দাবি মেনে নিলে নৌকার ভরাডুবি হবে। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে এ দাবি মেনে নেয়া প্রয়োজন হলেও সরকার তা মানবে না। তাকে মানতে বাধ্য করতে হবে। এজন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। দেশবাসীর ঐকান্তিক ইচ্ছা, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক। এর অর্থ স্বেচ্ছাচারী শাসনের অবসান। কিন্তু জনগণের দাবি ক্ষমতাসীনরা মেনে নেবে না যতক্ষণ জনগণ তাদের বাধ্য করছে রাজপথের আন্দোলনে।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণতন্ত্রকে উদ্ধারের বিকল্প নেই। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিরোধী শক্তিগুলো এক প্লাটফরমে এসে গণতন্ত্র উদ্ধারের ডাক দিয়ে রাজপথে নামা ছাড়া গত্যন্তর নেই। বিএনপির সাথে সব বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামলে স্বৈরশাসনের অবসান হবে নিশ্চিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বৈরাচারী আইয়ুবের কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য মওলানা ভাসানী নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। ফলে আইয়ুবের লৌহ কপাট ভেঙে যায়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সকল দল ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষনা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তার পতন ঘটে। গণতন্ত্র শুধু বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার প্রয়োজনে নয়, দেশের এবং জনগণের প্রয়োজনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ দেশেরই লোক। গণতন্ত্র তাদেরও প্রয়োজন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে যে দল ক্ষমতাসীন হবে, সেটাই হবে গণতান্ত্রিক সরকার। এমন সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবে না। নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনে সব দল সমান সুযোগ পাবে।
জাতীয় ঐক্য ঘোষণার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে
এদিকে জাতীয় ঐক্য ঘোষণার প্রক্রিয় এগিয়ে চলছে। এ উদ্দেশ্যে বৈঠক করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রোববার দিবাগত রাতে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নানের গুলশানের বাসায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকটি রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।
বৈঠকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি মহাসচিব আবুল মালেক রতন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ।
‘একটি অশুভ শক্তি চক্রান্তে মেতেছে’
অপরদিকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেও মন্তব্য করেছেন, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর ভর করে ব্যর্থ হয়ে এবার একটি অশুভ চক্র গার্মেন্ট খাতকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে মেতেছে বলে মন্তব্য করেছেন । রোববার একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাদের বলেন, গার্মেন্টস খাতে চক্রান্তকারীরা অবিরাম যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারা কারা যোগাযোগ করছে আমরা জানি।
১/১১ এর পদধ্বনি শুনছেন, হঠাৎ এমনটি বলছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য তো আছেই।
‘প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিচারকদের নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব নয়’
অপরদিকে বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যয়বিচার সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য ২১ আগস্ট মামলার রায়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। বুধবার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ২১ আগস্টের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমান সরাসরি জড়িত। এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে এই সরকার বিচার বিভাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তারা আগে থেকেই বলে দিতে চায় কারা জড়িত আর কারা জড়িত ছিল না। প্রধানমন্ত্রী যখন এমন মন্তব্য করেন, তখন তদন্তকারী ও বিচারকদের নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে ২১ আগস্টের মামলার কাজ করা সম্ভব নয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here