উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ আন্দোলন : ২৫ জনের জামিন,বাকিদের অপেক্ষায় স্বজনেরা

0
117

আফজাল হোসেন: নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে পুলিশের কাজে বাধা এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৫২ শিক্ষার্থীর  জনের জামিন দিয়েছে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ জন। এই তালিকায় রয়েছে চারজন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীও। বাদ যায়নি শিশু। এই চারজনের মধ্যে দু’জন শিশু হিসেবে প্রেরিত হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে।
রবিবার ঢাকার আদালতে ২৫ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। দুপুরে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে আইনজীবী আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও তাদের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার সবাই ছাত্র।
শুনানি শেষে আজ আবেদন করা ২৫ জনই জামিন পেয়েছে। বাড্ডা ও ভাটার থানার মামলায় গ্রেফতার ২২ জনের মধ্যে ১৬ জন জামিন পেয়েছে। অন্যদিকে ধানমন্ডির আলাদা তিন মামলায় আটক ৯ শিক্ষার্থীকে জামিন দেয়া হয়েছে। তাদের জামিনের কাগজ কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
বাড্ডার মামলায় জামিন পাওয়া ১০ শিক্ষার্থী হলেন রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, জাহিদ হক ও হাসান। আর ভাটারা থানার মামলায় জামিন পেয়েছেন আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার ও সাখাওয়াত হোসেন। ধানমন্ডির মামলায় জামিন পাওয়া নয় শিক্ষার্থী হলেন সোহাদ খান, মাসরিকুল আলম, তমাল সামাদ, ওমর সিয়াম, মাহমুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, ইকবাল হাসান, মিনহাজ রহমান ও নাইমুর রহমান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক বাকি শিক্ষার্থীদের কারও কারও জামিন শুনানি আগামীকাল হতে পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে, আগামীকাল যদি তাদের জামিন না হয় তবে এই শিক্ষার্থীরা কি ঈদ করবে কারাগারে। বিনা অপরাধে কারাবরণ করা এইসকল শিক্ষার্থীর স্বজনেরাইবা কি করে ঈদের আনন্দে শামিল হবে?
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় বাসচাপায় স্কুল শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘নিরাপদ সড়ক’র দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সে আন্দোলনে পুলিশ-ছাত্রলীগ যৌথ আক্রমণে আহত হয় শিক্ষার্থীরা। সেদিকে লক্ষ্য না করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করতে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
জামিন পেলেন নওশাবা
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে সিএমএম আদালতের বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আগামী ২রা অক্টোবর পর্যন্ত নওশাবাকে জামিন দেয়া হয়েছে।
এর আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় নওশাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দফায় রিমান্ডে নেয় পুলিশ। প্রথম দফায় চার দিন এবং দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নেয় নওশাবাকে।
গত ১৩ই আগস্ট দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন নওশাবা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দিলে সরকার পতন আন্দোলন
সরকার গুজবের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের আটক করে যৌক্তিক আন্দোলন বন্ধের অপচেষ্টা করছে। একদিকে তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ন্যায্য ও যৌক্তিক বলছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আটক করে রিমান্ডে দিচ্ছে। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দিলে সকল শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সরকার পতন আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। শনিবার বিকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন যুক্ত হয়ে প্রতিবাদ সভায় তারা এমন দাবি জানান।
সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, সরকার একদিকে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনকে বাহবা দিয়ে, আবার গুজবের নামে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডের নামে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের গুন্ডা বাহিনী, হেলমেটধারী আর পুলিশ বাহিনী রাবার বুলেট ছুড়ে মারছে।
তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক তৈরিতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় নামে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, কিভাবে নিরাপদ সড়ক তৈরি করা সম্ভব।
আইন-শৃঙ্খলা মেনে বৈধ চালক দিয়ে এই সীমিত রাস্তায়ও সুষ্ঠুভাবে যান চলাচল সম্ভব তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। অথচ শিশুদের উপর হেলমেট বাহিনী হামলা চালিয়ে এ আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা চালায়। তার প্রতিবাদে সরকারি-বেসরকরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে তাদের আটক করে পুলিশ রিমান্ডে নিচ্ছে। গুজব ছড়ানের নামে আলোকচিত্র শহীদুল আলমসহ অনেক শিক্ষার্থীদের পুলিশ আটক অব্যাহত রয়েছে।
সকল আটক শিক্ষার্থী ও শহীদুল আলমকে মুক্তি দাবি জানিয়ে সাকী বলেন, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করে কেউ বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে ধাকতে পারেনি। এই ফ্যাসিবাদী সরকারও তা পারবে না। দ্র“ত সকলকে মুক্তি দিয়ে আপনাদের পাপ কমিয়ে নেন। গুজব ও বিএনপি-জামাত নামে আটক বন্ধ করুন। পাশাপাশি ৫৭ বাতিল করে এ ধারার সকল মামলা প্রত্যাহার করুন। নতুবা সাধারণ জনগণ চুপ থাকবে না। তারা রাস্তায় মেনে সরকারের সৈ¦রাচারী আচারণের প্রতিবাদ করতে বাধ্য হবেন।
সমাবেশে ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়কে নৈরাজ্য ও জুলুম বন্ধে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পচাগলা সংস্কার কাজ শুরু করলেও বর্তমান সরকার তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে শিক্ষার্থীদের আটক করে জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমরা তা মেনে নিব না। ঈদের আগে আটককৃত সকল শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে। নতুবা ঈদের পর সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে। তারা বলেন, সাধারণ জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। নানা অজুহাতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে অন্যায়ের প্রতিবাদ বন্ধ রাখা যাবে না। যার প্রমাণ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা দিয়েছে। সরকারের উচিৎ সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া। যদি এতেও তাদের শিক্ষা না হয়, তবে সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীরা একযোগে রাস্তায় নেমে সরকার পতন করার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে হুশীয়ারী দিয়েছেন।
বিকাল থেকে নানা শ্লোগান লেখা ফেস্টুন, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে আলাদাভাবে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাসে এসে সমাবেত হয় ছাত্রদের কয়েকটি সংগঠন। তাদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, সিপিপি, বাসদ মার্কবাদী, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনসহ কয়েকটি দল যুক্ত হয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বিক্ষোভ ও জনসভায় অংশগ্রহন করেন। দুই ঘন্টা ধরে তারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ অব্যহত রাখেন। পরে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে তারা স্থান ত্যাগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here