সংশয়, অবিশ্বাস, ষড়যন্ত্র \ জটিলতর হচ্ছে দেশের রাজনীতি

0
195

 

নাসিরা আফরোজ রোজী:বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। আর ক্রমেই তা জটিলতর হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে আগামী দুইতিন মাসে কী ঘটছেসেদিকে যেমন কঠোর নজর বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ নীতিনির্ধারকদের। সকলের মনে সংশয়, অবিশ্বাস সকলেই এক অপরের বিরুদ্ধে য়ড়যন্ত্রে অভিযোগ তুলছেন। অভিযোগ সবাইকেই পরস্পরের মনে শংকা অবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সাথে পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রাখছে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, বিদেশী কুটনীতিবিদ, দাতা সংস্থাসহ বাংলাদেশের ক্ষমতার অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা।

বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আগামী দিনে ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী রাজনৈতিক বক্তব্য চালিয়ে গেলেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নানা শঙ্কা তাদের পিছু ছাড়ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছুর মধ্যেই ষড়যন্ত্র দেখছেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি দিয়ে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা শিশুদের নিয়ে খেলতে চেয়েছিল, শিশুদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল, তারা দেশের শত্রæ, জাতির শত্রæ বাস দুর্ঘটনায় দুই শিশু মারা গেছে। আমরা দ্রæ ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনে একদল উস্কানি দিয়েছে। বক্তব্যেও মধ্য দিয়ে তিনি মুলত একটি ন্যায়ের বিরুদ্ধ অবস্থান নিলেন।  তিনি আরো বলেন দামি দামি লেখকসাংবাদিকরা দেশটাকে  কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে উপলব্ধি কি তাদের থাকবে না? উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যায় হয়ে যাবে? পর্যবেক্ষকরা বলছেন তিনি তার বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে দেশের বুদ্ধিজীবিদেও বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পথ করলেন। সেই সাথে তার শাসনের বিরুদ্ধে সে যেই হোক মুখ খোলার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারীও দিয়ে রাখলেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বিক্ষোভের সঙ্গে সরকার যেভাবে বিরোধীপক্ষকে বিভিন্ন  ঘটনার সাথে জড়াচ্ছে, সেটা ছিল বেশ অবাক করার মতো। এটা সরকার যে বেশ নার্ভাসসেটিই প্রকাশ করে। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। একের পর এক সমস্যা আসছিল খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। কারণেই সরকার হয়তো অনেক নার্ভাস হয়ে উঠে। সরকার এই বিষয়টি বুঝে যে, তারা খুব একটা জনপ্রিয় নয় এই মুহূর্তে।

পর্যবেক্ষকরা মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের অভাব এখানে দায়ী। আর বাংলাদেশের রাজনীতির উভয়পক্ষই এই সুশাসনের অভাবে এক ধরণের আতঙ্কে ভোগে। শেখ হাসিনার সরকার সবসময় ভয় পায় যে, ধরণের বিক্ষোভের নেপথ্যে বুঝি বিরোধী দল, এমনকি বিক্ষোভ স্বতস্ফূর্ত হলেও। অপরদিকে বিরোধীপক্ষ ভাবে, যা হোক না কেন সেটা সরকারী দলের চাল। তারা ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে কোন ন্যায়নীতির ধার ধারবে না। কোনো বিরোধীপক্ষই ধরণের পরিস্থিতিতে চুপ থাকবে কিংবা পরিস্থিতি ব্যবহার করতে চাইবে নাএটা হতে পাওে না। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সংশয়, শঙ্কা, অবিশ্বাস অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি থেকে। দেশের মধ্যে কী হচ্ছে, সেই ব্যাপারে কোনো সমালোচনা সরকার সহ্য করছেন না। সমালোচনা গঠনমূলক হলেও। সরকার এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সেই সাথে সরকারের প্রতিপক্ষও।

তাদের উদ্দেশ্য কি?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করেছি।  সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উস্কানি দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার  চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানি চিন্তাচেতনা যাদের মধ্যে রয়েছে, যারা সবুর খানের বংশধর, তারা এর উস্কানিদাতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন খুব নামিদামি লেখক, সাংবাদিক, Ðিত হলেই তাদের অপরাধ আর অপরাধ নয়। তাদের অপরাধ সব ধুয়ে মুছে যাবে। তারা প্রটেকশন পাবে। কেন? তিনি বলেন, কেউ যদি এই ধরনের শিশুদের ব্যবহার করে তাদের ওপরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চায়, তাহলে কি তাদেরকে বাহবা দিতে হবে? আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সেটাই কি অন্যায় হয়ে যাবে? দেশকে রক্ষা করা, দেশের মানুষকে রক্ষা করাএটাই তো আমাদের কর্তব্য।

১৫ আগষ্ট ষড়যন্ত্রে জড়িত খালেদা জিয়া জড়িত তত্ত¡

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব ফিরে না আসার ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, জাতির পিতার হত্যকান্ডের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যত বড়ই হোক, কেউ যদি কোন অন্যায় করে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই।

একই সাথে তিনি এবার বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তথ্যটি এবারই প্রথম বাজারে এল। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা এবং ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতার খুনীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিলেন অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। আর তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে সেই খুনীদের জাতীয় সংসদে বসিয়েছিলেন। তার অর্থ কি দাঁড়াচ্ছে জিয়া শুধু নিজেই নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্ট হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি

এদিকে দেশে এখন ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ওয়ানইলেভেনে যারা দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল, তাদের সহযোগী ছিল মিডিয়ার একটি অংশ। যারা উস্কানি দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে হঠানোর চক্রান্ত করছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, অরাজনৈতিক আন্দোলনে হঠাৎ দেখলাম রাজনীতি প্রবেশ করেছে। হাজার হাজার স্কুলব্যাগের ভেতরে রডচাপাতিপাথর। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক চেয়েছে; আর বিএনপি তাদের ওপর ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে। শিশুদের একটি যৌক্তিক আন্দোলনে তারা এমন একটি নিষ্ঠুর এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখন নালিশ করতে শুরু করেছে। বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে, দেশের সমস্যা বিদেশিদের বলছে, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করছে।

. কামালকে নিয়ে যা বললেন .লীগের নেতা মন্ত্রীরা

তবে সরকারের এবারের প্রতিপক্ষ সম্ভবত বিএনপি জামায়াত এক না। গণফোরাম নেতা . কামাল হোসেনও একণ সরকারের টার্গেট। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী নীতিনির্ধারকরা প্রতিদিনই ষড়যন্ত্রেও অভিযোগ আনছেন। আওয়ামী লীগের নেতা মন্ত্রীরা একটি ব্যাপক সমালোচনা করেছেন রাজনীতিতে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে আক্রমণ করে যত না বক্তব্য রাখছেন, তার চেয়ে বেশি কথা বলছেন গণফোরাম নেতা . কামাল হোসেনকে নিয়ে। এককালে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কামাল হোসেন দলের সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতি ঘটান ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর। গঠন করেন গণফোরাম।  তবে এবার তিনি জাতীয় ঐক্যও ডাক দিয়েছেন। সেআ সাথে আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে গণফোরাম সভাপতি . কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, গুন্ডাতন্ত্র আছে বলে মন্তব্য করে। তিনি আরও বলেছেন, আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও গুন্ডাতন্ত্র মুক্ত হোক। আমি এই গুন্ডাতন্ত্রের মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই না। আমি চাই যে আমাকে গুলি করে মারা হোক। তাহলে অন্তত বলতে পারব গুন্ডাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মারা গেছি। এরপর . কামালকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা মন্ত্রীরা।

. কামাল সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে যখন শান্তিময় রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছিল, ঠিক সে সময় /১১এর কুশীলবেরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অসম্ভব খেলায় মেতে উঠেছে। তিনি বলেছেন, সবিনয়ে . কামাল হোসেনের কাছে জিজ্ঞেস করতে চাই, গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে?’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, . কামাল হোসেনরা যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে কামাল হোসেনরা একটি সভাও করেন। স্কুল ছাত্রদের ঘটনায় সরকার সকল দাবি মেনে নেয়ার পরও তারা সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করেন।

ত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আপনারা দিন দেখেছেন, দেশের কয়েকজন নামকরা রাজনীতিবিদ কী কথা বলেছেন। উসকানিমূলক কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেতাদের এবং . কামাল হোসেনের ভাষা আর গুন্ডাদের অ্যাকশনের ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার রায়ের পর আমরা দেখেছি, . কামালের বাড়ির বারান্দায় বিএনপি নেতারা ঘুর ঘুর করছে। তখনই বলেছি, এই বর্ণচোরা . কামাল ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন, তাই হয়েছে। . কামাল, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুররা এখন শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাকারী বিএনপিজামায়াতের ভাষায় কথা বলে। আগস্ট বুধবার মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগরের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় তিনি কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিÐলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উনি (কামাল হোসেন) তো /১১ সময়েও তৃতীয় শক্তি আনার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এখন আবারও সেই প্রক্রিয়াই আছেন তিনি। একবার তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে করেছিলেন সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। কামাল হোসেনদের সকল ষড়যন্ত্র আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করব। তাঁরা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছিলো, এবারও তাঁরা ব্যর্থ হবে।

খালেদার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বয়স ৭২ হলেও সাবেক বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশে জনপ্রিয় নেত্রী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপির বক্তব্য, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।  সোমবার একটি মানহানি মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেয়েছেন। তবে আরও মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনও কারাগারে। বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতারা এখনও আশাবাদী যে তিনি মুক্তি পাবেন। অংশ নেবেন এই বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ ডয়েচে ভেলেকে বলেন, নি¤œ আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলায়অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করা হচ্ছে। তার বক্তব্য, সরকার চায় না খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিন। এছাড়া তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিক বিধিনিষেধেরও আওতাধীন। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে, কেউঅনৈতিক অপরাধে দন্ডিত হলে অন্তত দুই বছর নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, হাই কোর্ট চাইলে এই দন্ড বাতিল করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য তার নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বীতা করার কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

খালেদা জিয়ার প্রভাবশালী উপদেষ্টা বাংলাদেশের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, ‘যেই গতিতে তার বিরুদ্ধে মামলা এগোচ্ছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, এগুলো নির্বাচনের পর পর্যন্ত গড়াবে।

২২ সেপ্টেম্বর সম্মিলিত বিরোধী দলের আত্মপ্রকাশ!

এদিকে গণফোরাম সভাপতি . কামাল হোসেন সরকার বিরোধী জাতীয় ঐক্য করতে চাইছেন। এই উদ্দেশ্যে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মহাসমাবেশের আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে . কামাল পুলিশের কাছে মহাসমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়েছেন। এই মহাসমাবেশে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মহাসমাবেশে বিকল্প ধারার বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির আব্দুর রবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অর্থ্যাৎ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জামাত ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে মহাসমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছেন . কামাল। এছাড়া এই সমাবেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। . কামালের মহাসমাবেশে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ শিক্ষাবিদ আকবর আলী খান উপস্থিত থাকবেন।

. কামাল হোসেন বলেছেন, এই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়েই সম্মিলিত বিরোধী দলের যাত্রা শুরু হবে। সরকারের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হবে এই বিরোধী দলগুলো। তবে এই জোটে জামায়াতে ইসলামী দক্ষিণপন্থী ইসলামি দলগুলো থাকবে না।

বেশ কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, অক্টোবর থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হবে। এমন পরিস্থিতিতে . কামাল মহাসমাবেশে আমন্ত্রণপ্রাপ্ত বিরোধী দলগুলো নিয়ে নির্বাচনী মোর্চা করতে চান। এই মোর্চা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। এই মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন . কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা। . কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে মহাসমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সরকার অবশ্য এখনো মহাসমাবেশের অনুমতি দেয়নি।

ডিসেম্বরের শেষদিকে নির্বাচনইসি সচিব

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরের শেষদিকে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে ইসি প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে কমিশন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে ৩০শে জানুয়ারি থেকে আমাদের কাউন্টডাউন শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সেই হিসেবে অক্টোবরের শেষে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সকল প্রস্তুতি আছে। তবে নির্বাচনের তারিখের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষার্ধে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here