নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন জন্মোত্সব

0
119

আদি বাংলা নাটককে আধুনিক মঞ্চে তুলে এনেছিলেন নাট্যকার সেলিম আল দীন। আজ বাাংলা নাট্যরীতির শেকড়সন্ধানী এই নাট্যকারের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার থেকেই তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে জন্মদিন উদ্যাপন শুরু হয়ে গেছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বরেণ্য এই নাট্যজনের জন্মতিথিতে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ঢাকা থিয়েটার। একইভাবে দুই দিনের ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন জন্মোত্সবের’ আয়োজন করেছে নাট্যদল ‘স্বপ্নদল’।

আজ শনিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে ঢাকা থিয়েটার। আজ শনিবার সকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা থেকে বাসযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা এবং ক্যাম্পাসের পুরাতন কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধি অভিমুখে স্মরণ-শোভাযাত্রা ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবে স্বপ্নদল।

গতকাল শুক্রবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে সেলিম আল দীন স্মারক বক্তৃতার মাধ্যমে ঢাকা থিয়েটারের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ‘বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী নাট্যগীতির প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক বক্তৃতায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউসুফ হাসান অর্ক। ঢাকা থিয়েটারের দলপ্রধান নাসির উদ্দীন ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন অভিনয়শিল্পী শিমূল ইউসুফ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ, নাট্যকার সাধনা আহমেদ, জাহিদ রিপনসহ বিভিন্ন নাট্য সংগঠনের শিল্পীরা।

মূল প্রবন্ধে ইউসুফ হাসান অর্ক বলেন, বাংলাদেশে লোকসঙ্গীত বা ধ্রুপদী সঙ্গীত-নৃত্য ইত্যাদি শিল্প গুরু-শিষ্য পরম্পরায় প্রবাহিত। সাধারণত গুরুগৃহে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যায়তনে শিষ্যকুল গুরুর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গীত কিম্বা নৃত্য আত্মস্থ করেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অভিন্ন।

পরে সন্ধ্যায় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় সেলিম আল দীন রচিত ঢাকা থিয়েটারের নাটক ধাবমান। প্রযোজনাটির নির্দেশনায় ছিলেন শিমূল ইউসুফ।

এদিকে ‘সেলিম আল দীন সতত অনিবার্য রয়, বাঙলা নাট্যের শিল্পসুধা বিশ্ব করবে জয়’ প্রতিপাদ্যে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বপদল আয়োজিত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন জন্মোত্সবের সূচনা হয়। শিল্পকলার স্টুডিও থিয়েটারে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের জীবন-কর্ম-দর্শন নিয়ে আলোচনাসহ উত্সবের উদ্বোধন করেন নাট্যজন আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. রফিকুজ্জামান এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বপ্নদলের প্রধান সম্পাদক জাহিদ রিপন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঞ্চস্থ হয় বাদল সরকারের রচনা অবলম্বনে জাহিদ রিপনের রূপান্তর ও নির্দেশনায় স্বপ্নদল প্রযোজনা ‘ত্রিংশ শতাব্দী’। আজ সন্ধ্যায়ও এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হবে সেলিম আল দীন রচিত স্বপ্নদল প্রযোজনা ‘হরগজ’।

এক মঞ্চে এক দ্রৌপদী চরিত্রে চার অভিনয় শিল্পী : দেশের মঞ্চ নাটকের ইতিহাসে এই প্রথম নাটকের একটি চরিত্রে চার অভিনয় শিল্পী একসঙ্গে এক মঞ্চে অভিনয় করলেন। নাটকটির নাম ‘নিত্যপুরাণ’। এটি দেশ নাটকের নিয়মিত প্রযোজনা। মাসুম রেজার নির্দেশনায় এ নাটকের ‘দ্রৌপদী’ চরিত্রটিতে প্রথম অভিনয় করেন শিরিন খান মনি। পরে পর্যায়ক্রমে এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বন্যা মির্জা, নাজনীন হাসান চুমকী ও সুষমা সরকার। গতকাল শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির দুটি শো মঞ্চস্থ হয়। এ দুটি শোতেই চার অভিনেত্রী একই চরিত্রে পর্যায়ক্রমে অভিনয় করেন।

মাসুম রেজা বলেন, ‘এটি মহাভারতের সাতটি চরিত্রকে উপজীব্য করে একটি নতুন আখ্যান। যা মহাভারতের চরিত্রনির্ভর নতুন আখ্যান। তবে মহাভারতের গল্পের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। মহাভারতে একলব্যের সঙ্গে দ্রৌপদীর দেখা হয় না। কিন্তু আমার এ নাটকে একলব্যের সঙ্গে দ্রৌপদীর দেখা হওয়াটাই মূল বিষয়। এ নাটকে দ্রৌপদী ছাড়াও চরিত্র হিসেবে আছে যুধিষ্ঠির, ভিম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব এই পঞ্চপাণ্ডব। এছাড়াও তাদের অস্ত্রশিক্ষার গুরু দ্রোনাচার্য।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুন চৌধুরী রিপন, আসিফ হাসান, কামাল আহমেদ, ফিরোজ আলম, লরেন্স উজ্জ্বল গমেজ, হোসাইন নিরব, মাইনুল হাসান মাঈন, সমাপন সরকার প্রমুখ। নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন কামাল উদ্দিন কবির, পোশাক পরিকল্পনায় শাহনেওয়াজ কাকলী, সঙ্গীত পরিকল্পনায় নাসিরউদ্দিন শেখ, আবহসঙ্গীতে ইমামুর রশিদ খান ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন নাসিরুল হক খোকন। নাটকে ব্যবহূত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন লরেন্স উজ্জ্বল গমেজ, অসীম কুমার নট্ট, ইমামুর রশিদ খান, নন্দিতা বিশ্বাস, আমরিন তাসনিম জাইমা ও জারিফা তাসনিম জেমিমা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here