জনগণের প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন : জিয়াউদ্দিনকে স্টেট ডিপার্টমেন্টে তলব 

0
216

প্রবাস রিপোর্ট: ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ঘটনার পরদিন রাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তরফে নোটভারবাল পাঠিয়ে ঘটনার দ্রæ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়। পরে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে স্টেট ডিপার্টমেন্টে ডেকে নিয়ে ঘটনা পরবর্তী সরকারের অ্যাকশন সম্পর্কে জানাতে চাওয়া হয়।

এদিকে বাংলাদেশে চলয়মান বাকস্বাধীনতা প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠে আসলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নর্ট এই সমর্থন দানের কথা জানান।

হিদার নর্ট বলেন, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ বাংলাদেশ সরকারকে পরিষ্কার জানিয়েছি। আমরা সেখানে বাকস্বাধীনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করি। তিনি বলেনবাংলাদেশে সপ্তাহ খানেক আগের ওই আন্দোলনের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সেখানে দ্রæতগামী একটি বাসের ধাক্কায় দুই শিশু নিহত হয়। পরে তরুণরা জেগে ওঠে। তারা আরো নিরাপদ গাড়ি চালনার দাবি জানায়। পরে ওই আন্দোলন তীব্র হতে থাকে।

হিদার নর্ট বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি মনে করি, আন্দোলনের লাগাম টেনে ধরার জন্যই তারা এমনটি করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে ১২ দিন পর ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটিকেদুর্ভাগ্যজনক অভিহিত করে সরকারের তরফে জানানো হয়েছেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে থাকা কূটনৈতিক কোরের সদস্যদের সুরক্ষা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

গত ৪ঠা আগস্ট রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি নৈশভোজের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল আরোহীসহ সশস্ত্র ৩০৪০ জন লোক হামলা চালায়। রাষ্ট্রদূত তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত দলের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে রাষ্ট্রদূত অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনার দীর্ঘদিন পার হলেও ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবী করছে তারা হামলাকারী কাউকে চিহ্নিত করতে পারছে না। তবে স্কুল ছাত্রছাত্রীদেও আন্দোলনে যারা সমর্তন দিয়েছে বা কোটা বিরোধী আন্দোলনে গভীর রাত্রির সহিংস ঘটনায় জড়িতদের খুব সহজেই চিহ্নিত করতে পারলেও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার পত্রিকায় কারা হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যপ্রমান দেওয়া হলেও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের কাউকে চিহ্নিত করতে পারছে দাবীর নিয়ে সন্দেহ সুষ্টি হয়েছে।

অবশ্য ঘটনার পরপরই ঢাকায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সচিব বৈঠক করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনের ওই বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সেখানে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বার্নিকাটকে একটি বিষয় স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন যে হামলাটি অপ্রত্যাশিত, আচমকা। সেখানে রাষ্ট্রদূত হামলাকারীদের টার্গেট ছিলেন না। কিন্তু ১০ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সমাবেশে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক হামলা পূর্ববর্তী নৈশভোজের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাষ্ট্রদূতকে সঙ্গে নিয়ে কামাল হোসেনরা সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র করছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমাতে গতকাল সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয় বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here