তিন সিটির নির্বাচন : ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা কাটছে না 

0
124

 

রাহাত আলম: খুলনা ও গাজীপুরের উদাহরণকে সামনে রেখে প্রার্থীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে শঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশের সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল তিন সিটি কর্পোশেনের নির্বাচন প্রচারণা চলছে। মুলত এই তিনটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ ও পরস্পরকে অভিযুক্তকরণ। তিনটি সিটি নির্বাচনেই দুটি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন গ্রæপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।

সিলেট: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিলেটে প্রধান দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপি মেয়র প্রার্থী আরিফুল হকের মধ্যে বাকযুদ্ধ জমে উঠেছে।

এ প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, দুর্বলরা সব সময় অপপ্রচার করে । ভোটের মাঠে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারের অভিযোগে তিনি এ কথা বলেন। অন্যদিকে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নানা অভিযোগ করেছেন করে বলেছেন, প্রশাসন থেকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নগরীর শামীমাবাদ গলির মুখ, বর্ণমালা পয়েন্ট, নরসিংটিলা বাগবাড়ি নুরানী মসজিদ এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমাদের বিশ্বাস নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা এটা জানেন না যে, অপপ্রচার চালিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

এছাড়া সিলেটের আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের নিয়ে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। আইনজীবীরা তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর বাদামবাগিচা এলাকায় গণসংযোগ করেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

অন্যদিকে আরিফুল হকের গণসংযোগে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, ‘সিলেটের মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা দেখে অভিভূত। প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি মহল্লায় জনসমুদ্র প্রমাণ করে আরিফুল হক চৌধুরীকে জনগণ কত ভালোবাসে। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে নগরীর মদিনা মার্কেট পয়েন্ট থেকে পাঠানটুলা পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণসংযোগকালে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন প্রমুখ। গণসংযোগে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দলসহ অঙ্গ সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ সিলেটের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বরিশাল : মাঠ গুছিয়ে এনেছে বড় দুই দল

নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে বরিশালে প্রচার-প্রচারণা ততই চালিয়ে যাচ্ছে বড় দুই দল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয়  নেতারা প্রকাশ্যে মাঠে রয়েছেন। সাজাচ্ছেন নির্বাচনী কৌশল। অপর দিকে এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে বরিশালে দেখা যায় নি। বাম দলের দু’জন প্রার্থী থাকায় তারাও এখন বিভক্ত।

ঢাকা থেকে আসা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম ও মীর্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মাঠে নামেন। কয়েক শ’ কর্মী নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারণায় আশাবাদী হয়ে উঠছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিদিনই কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বের হয় বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে মিছিল। মিছিলে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেডিকেল এলাকায় গণ-সংযোগে অংশ নেন। এর পর মেডিকেলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ও সভা করেন। তিনি এ সময় নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি দেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, সরকার বরাদ্দ দেয়ার পরও বরিশাল সিটি করপোরেশনে বিগত পাঁচ বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।  তিনি বর্ধিত এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাÐের কথা বলছেন।

বরিশালে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ উঠেনি। বড় দুই দলই সমান তালে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। কোনো অপ্রীতিকর  ঘটনারও সংবাদ মেলেনি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুলিশের সতর্ক প্রহরা ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাজশাহী: আতঙ্কের মধ্যে প্রচারণায় বিএনপি

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের গণসংযোগে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা টক অব দ্য সিটিতে পরিণত হয়েছে। হামলার পেছনে জড়িত হিসেবে ঘুরেফিরে একটি পরিবারের নাম আসছে। যে পরিবারের চার ভাইয়ের তিনজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত  এবং অপর এক ভাই বিএনপি’র রাজনীতিতে। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে বোয়ালিয়া থানার এসআই শামীম উদ্দিন বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলাও করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে আসামি করা হয়। তবে বিএনপি’র পক্ষ থেকে হামলাকারী হিসেবে একজনকে শনাক্ত করা হয়।

নির্বাচনে প্রচারণায় যখন দুইপক্ষ সমানে সমান টক্কর দিয়ে মাঠ কামড়ে আছে ঠিই সেই মুহূর্তে ককটেল হামলায় নেপথ্যে কারা জড়িত তা নিয়ে ভোটাররাও দোদ্যুলমান। বিভিন্ন মোড়-চায়ের দোকানে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে ঘটনাটি। এর ভেতরে জটিল অঙ্ক খুঁজছেন অনেকে। আর ভোটারদের পাশাপাশি ফেসবুকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কর্মী-সমর্থকরা জাবেদের ছবি দিয়ে হামলার পেছনে বিএনপি’র সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে নির্বাচনের প্রথম থেকে ভোটের মাঠ একচেটিয়া দখলে রাখে আওয়ামী লীগ। তবে ক্রমেই ভোটের সমীকরণ উল্টাতে থাকে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনৈক্য ও জামায়াতের নীরবতাকে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসে বিএনপি। রাজশাহীতে বিএনপি’র দুই কেন্দ্রীয় নেতা অবস্থান করছেন। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। অন্যদিকে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রচারণার শক্তি হিসেবে দেখা গেছে ছাত্রলীগকে। বর্তমানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও খুলনা সিটি নির্বাচনের সদ্য বিজয়ী মেয়র আবদুল খালেক রাজশাহীতে আছেন। দুই পক্ষই রাজশাহী সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে চাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here