খানস টিউটোরিয়ালের বর্ণাঢ্য এ্যাওয়ার্ড সেরিমনি

0
100

প্রবাস রিপোর্ট : নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান টিউটোরিয়ালখানস টিউটোরিয়াল থেকে চলতি বছরে ৩৭১ জন স্টুডেন্ট সিটির বিশেষায়িত হাইস্কুলে নাইন গ্রেডে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এই স্টুডেন্টদের সম্মানে এপ্রিল রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুইন্স কলেজের কোল্ডেন অডিটোরিয়ামে বসেছিল মেধাবী তাদের অভিভাবকদের নিয়ে এত মিলন মেলা। খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন নাঈমা খান, প্রেসিডেন্ট সিইও . ইভান খান খানস টিউটোরিয়ালের ১১টি শাখার পরিচালক ইন্সট্রাক্টরদের যৌথ সমাবেশ। এই মিলন মেলায় একদিকে যেমন আনন্দউৎসব হয়েছে সেই সঙ্গে এবার যারা স্পেশাল হাইস্কুলে সুযোগ পেয়েছে তাদেরকে খানস টিউটোরিয়ালের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সার্টিফিকেট, মেডেল পুরস্কার।

        

মিলন মেলায় খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন নাঈমা খান বলেন, আজ যারা সফল হয়েছে তাদের সামনে খুলে গেছে নিজের মেধাকে আরও বেশী করে কাজের লাগানোর সুযোগ।

তিনি খানস টিউটোরিয়ালের সফল ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি দিনও নষ্ট করা যাবে না। আগামী চার বছর আরো ভালভাবে সবগুলো সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে, আগামী দিনে ভাল ইউনিভার্সিটিতে কলেজগুলোতে পড়ার সুযোগ পাবে।

প্রতি বছর খানস টিউটোরিয়াল তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষায়িত স্কুলে সুযোগ পাওয়া স্টুডেন্টদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করে। চলতি বছর খান টিউটোরিয়ালে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশেষায়িত স্কুলের মধ্যে স্ট্রাইভেসেন্ট হাইস্কুলে ৭০ জন, ব্রঙ্কস হাইস্কুল অব সায়েন্সে ৯৫ জন, ব্রæকলিন টেকনিক্যাল হাইস্কুলে ১৩৩ জন সুযোগ পেয়েছে। এছাড়াও নতুন স্পেশালাইজড হাইস্কুলে সুযোগ পেয়েছে আরো ৭৩ জন।

খান টিউটোরিয়ালের এই অনুষ্ঠানে শিশুদেরকে সম্মানিত করা হয় পুরো বিকেল জুড়ে। বেলা সাড়ে ১২টার মেধাবী স্টুডেন্টদের তাদের বাবামাকে সাথে নিয়ে কুইন্স কলেজে আসতে থাকে। বেলা ২টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রæকলিন টেকনিক্যাল হাইস্কুলের . ম্যাথিউ মেনড্রি, স্টাইভেসেন্ট স্কুলের প্রিন্সিপাল এরিক কনট্রেরাস, এনওয়াইএস এ্যাসিসটেন্ট এটর্নী জেনারেল, ফাউন্ডার অব ড্রিম চেয়ার্স এবং ব্রঙ্কস হাইস্কুল অব সায়েন্সর গ্রাজুয়েট জেসন ক্লার্ক, ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের নাসাও চ্যাপ্টারের রেভারেন্ড এমানুয়েল এ্যাসেস। এছাড়াও ছিলেন খানের চেয়ারপার্সন মিসেস নাঈমা খান ইভান খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিলয় খান টিউটোরিয়ালের ইতিহাস তুলে ধরেন। মঞ্চে নিলয় খান টিউটোরিয়ালের প্রেসিডেন্ট সিইও . ইভান খানকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ইভান খান বছরে নিউইয়র্কের বিশেষায়িত হাইস্কুলে সুযোগ পাওয়া ৩৭১ জন মেধাবীকে ধন্যবাদ জানান।

. ইভান খানস টিউটোরিয়াল স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। পাঁচজনকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ইভান খান . মনসুর খানকে এসএইচএস এটি অপচ্যুরনিটি স্কলারশিপের ব্যাপারে কথা বলেন। কেটি অল স্টার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন দেইস গারসিয়া।

এরপর বক্তব্য রাখেন রেভারেন্ড ইমানুয়েল এ্যাসেস। তিনি তার বক্তৃতায় স্টুডেন্টদের সাফল্যে স্টুডেন্ট তাদের পরিবারকে অভিনন্দন জানান। খানসএর এই সাফল্যকে তিনি ইতিবাচক বলে আখ্যায়িত করেন। সাফল্যে এই সময়ে তিনি নাঈমা খানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এরপর পুরস্কার প্রদান করা হয় খানস টিউটোরিয়ালের নাইনথ গ্রেড অ্যাওয়ার্ড। এই পুরস্কার লাভ করেন ইয়াসমিন ইয়ুন। . ইভান খান এই পুরস্কার তুলে দেন। কেটি অল স্টার অ্যাওয়ার্ড লাভ করে দেইস গার্সিয়া। সে . মনসুর খান এসএইচ এসএটি অপরচ্যুনিটি স্কলারশিপ লাভ করে। এছাড়াও সর্বোচ্চ স্কোর করার জন্য শ্রেয় প্যালেট কে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এরপর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্রঙ্কস সায়েন্স স্কুলের প্রতিনিধি হিসাবে জেসন ক্লার্ক। তিনি তার বক্তৃব্যে তার স্কুলে যারা সুযোগ পেয়েছে তারা কেন লাকি সেই ব্যাপারটি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে খানস টিউটোরিয়াল ডাইরেক্টর এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। মঞ্চে  ডেকে নেওয়া হয় খানের ১২ জন  ডাইরেক্টরকে। তিনটি পুরস্কার দেওয়া হয়। খানস টিউটোরিযাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন জেবা ইসলাম। খানস টিউটোরিয়াল ডাইরেক্টর অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ফাহিম।

. খান এক্সিলেন্স ইন এডুকেশন এ্যান্ড ক্যারিয়ার এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় . ম্যাথিউ ম্যানডেরীকে। ইভান খান তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ইভান খান তার বক্তব্যে আরো বলেন, তোমরা এখন কেটির পার্টনার। এই সাফল্যে আমরা খুবই খুশী। তোমরা এখন থেকেই উদ্যোগ নাও এবং সব সুযোগ কাজে লাগাও।

খানস টিউটোরিয়ালের পক্ষে থেকে হায়েস্ট স্কোরারকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দুইজন এই পুরস্কার পান। তাদেরকে আইপেড তুলে দেওয়া হয়। শ্রেয় প্যাটেল এই পুরস্কার পান। এছাড়াও স্পেশাল হাইস্কুলের ট্রেনিংয়ের ডিরেক্টরের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষকদের দুটি টিমকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

পুরস্কার প্রদানের পর বক্তৃতা করেন স্টাইভেসেন্ট স্কুলের  প্রিন্সিপাল এরিক কনট্রেয়ার্স। তিনি সফলদেও উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা বিশেষায়িত স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে এটা তোমাদের জন্য বড় সুযোগ। আগামী দিনে তোমাদের সামনে আরো অনেক সুযোগ আসবে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী চার বছর কষ্ট করতে পারলে এবং সেখানে সফল হতে পারলে আগামী দিনে ভাল কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আসবে। আগামী আট বছরের পরিশ্রমই এনে দিবে জীবনের বড় সাফল্য।

এই পর্যায়ে ইভান খান এস এইচ এসএটি ইন্সট্রাকটরদের মধ্যে ইন্সট্রাকটর অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। দুটি টিমকে পুরস্কার দেওয়া হয়। একটি পুরস্কার লাভ করে জ্যামাইকা আর অপরটি এস্টোরিয়া। এই সময়ে টিমের সদস্যরা মঞ্চে আসেন।

এই পর্যায়ে নাঈমা খান তার বক্তৃতায় বিশেষায়িত হাইস্কুলে সুযোগ পাওয়ার জন্য স্টুডেন্টদেরকে অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে অভিনন্দন জানান অভিভাবকদের

তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানরা বিশেষায়িত হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে, এ্ই জন্য আপনাদের অভিনন্দন। স্টুডেন্ট তোমাদেরকেও অভিনন্দন ধন্যবাদ।

তিনি আরো বলেন, আপনার আমাদের উপর বিশ্বাস রেখেছেন এই জন্য ধন্যবাদ। আপনারা আগামী দিনেও আমাদের উপর বিশ্বাস রাখুন। আমরা আপনাদের সন্তানদের সুযোগ করে দিতে চাই যাতে তারা বিশেষ স্কুলে ভর্তি হতে পারে।

তিনি বলেন, সন্তানকে সময় দিন। তাদের সামনে যে সুযোগগুলো আসবে সেগুলো কাজে লাগান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে যোগ দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তা নুর এলাহী মিনা। তিনি স্টুডেন্টদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তৃতা করেন।

প্রথমেই পুরস্কার প্রদান করা হয় লাগোর্ডিায় হাইস্কুল ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড টেকনিক্যাল এট সিটি কলেজ, হাই স্কুল অব আমেরিকান স্ট্রাডিস এট লেহমান কলেজ, কুইন্স হাইস্কুল ফর দ্য সায়েন্সেস এট ইয়র্ক কলেজ, ব্রæকলিন লেটিন হাইস্কুল, ব্রæকলিন টেকনিক্যাল, ব্রঙ্কস হাইস্কুল অব সায়েন্সেস স্টাইভেসেন্ট হাইস্কুলকে। তারা একে একে মেডেল গ্রহন করেন।

এরপর স্টাইভেসেন্ট স্কুলে সুযোগ পাওয়া সর্বোচ্চ স্কের করা দুইজনকে পুরস্কার করা হয়।

খান টিউটোরিয়ালের সিইও প্রেসিডেন্ট . ইভান খান তার বক্তৃতায় এই বছর যারা স্পেশালাইজড হাইস্কুলে চান্স পেয়েছে তাদেরকে অভিনন্দন জানান। বলেন, আমার খুব ভাল লাগছে গর্বিত পরিবারগুলি দেখে।

তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেমেয়েদের এস এইচএসটি পরীক্ষার জন্য আগামী দিনে প্রস্তুত করবো আশা করি। এখন ৬তম বা ৭তম গ্রেডে তারা আছে তাদেরকে খানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আগামী দিনেও পরীক্ষার জন্য আমাদের ক্লাসগুলি ভরছে। স্টুডেন্টরা যোগ দিচ্ছে। আমরা পরবর্তী বছর আরও ৩৭১ টি কিংবা তার বেশিী স্টুডেন্ট যাতে বিশেষায়িত স্কুলে সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

 

এসএটিতেও বিপুল  স্কোর খানস টিউটোরিয়ালের

সিটির সর্ববৃহৎ টিউটোরিং সেন্টার খান টিউটোরিয়ালে প্রস্তুতি নিয়ে যারা গত মার্চ মাসে এসএটি দিয়েছিল, তাদের স্কোর জানিয়েছে এই স্বনামধন্য টিউটোরিয়াল। মোট ১৬০০ মধ্যে ১৫৬০ ১৫২০ স্কোর করেছে যথাক্রমে ফাহমিদা আকতার আহনাফ হাসান। ১৪৭০ স্কোর করেছে তানজুম লগ্ন নাহিদুল ইসলাম। ১৪৬০ করেছে  আবীর আহমেদ। ১৪৪০ স্কোর করেছে জন জন। তারা হলো: এ্যালিস ঝাং, সিয়াম সাইকানাম, ড্যানিশ চৌধুরী, ড্যানিয়া চৌধুরী নাজমুস সাকিব।

 

উপরোক্ত ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও ১৪৩০ স্কোর করেছে মোহাম্মদ কাশফ মাশরাফি, ১৪২০ পেয়েছে ব্রান্ডেন নাকাজিমা, ১৪১০ পেয়েছে অর্নব হক, ১৪০০ পেয়েছে মনিরুল ইসলাম, সাইমা আফরিন, আফাক কাজী হোসেন।

উল্লেখ্য, খান টিউটোরিয়ালের এসএটি প্রশিক্ষণ প্রজেক্টটি পরিচালিত হয় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট তাসনিম ইমাম খানের নেতৃত্বে একদল অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষকের সমন্বয়ে।

প্রসঙ্গে ইন্টেরিম এসএটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জেসান যীশু বলেন, এসএটিতে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের অসাধারণ সাফল্যে আমরা গর্বিত, আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা ইলেভেনথ টুয়েলফভ গ্রেডের ছাত্রছাত্রীর দিকে চেয়ে আছি যারা আসন্ন  সামারে নিউ এসএটি প্রোগ্রামে যোগ দেবে।  এই কর্মসূচিটি এমন যা কোনো ছাত্রছাত্রী বা অভিভাবকরা আগে দেখেন নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here