হিসাব মিলছে না : খালেদার জেল নিয়ে কি সংকটে সরকার 

0
158

 

প্রবাস রিপোর্ট : কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বেগম জিয়া অসুস্থ নন। অথচ সারকারী আইনজীবি আদালতে বলছেন, বেগম জিয়া অসুস্থ এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কি হচ্ছে কারাগারের খালেদা জিয়ার অবস্থান নিয়ে। সরকার কি খালেদা জিয়াকে কারাগারের বাইরে আনতে ভয় পাচ্ছে- এ প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনের বাইরে রাখাই ছিল সরকারের প্রধান কৌশল। সেটা কারাগারে রেখে হোক বা দেশের বাইরে পাঠিয়ে হোক কোনোটাতেই আপত্তি নেই ক্ষমতাসীনদের। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমনই ইচ্ছে ছিল। সেই সাথে খালেদার অবর্তমানে বিএনপিকে বিভিন্নভাবে দূর্বল কওে তার সুযোগ নেওয়া। কিন্তু কোন কিছুই এখন আর আয়ত্বে থাকছে না।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বৃহস্পদিবার শুনানিতে অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এদিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার পরবর্তী বিচারকাজ পরিচালনার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তবে, ভিডিও কনফারেন্সের বিরোধিতা করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান বলেছেন, দুদক আইনজীবীর এ ধরনের বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং তা বাড়াবাড়ি।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বেগম জিয়াকে নিয়ে সরকার এখন বেশ বেকায়দায় রয়েছে। তাতে আদালতে হাজির করার অর্থ জনসম্মুখে নিয়ে আসা। এসময় কি ঘরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তা নিয়ে সরকারী নীতি-নির্ধারকরা চিন্তিত। এর ফলেই তারা বিভিন্ন উপায় খুঁজছে। এর আগে  ২৮শে মার্চ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে ওই তারিখে তাকে হাজির করা হয়নি।

গত ৮ই ফেব্রæয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদÐ দেন একই আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বকশীবাজারের বিশেষ আদালত ও কারাগার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আদালতের বাইরের বিভিন্ন সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া অসুস্থ তাই বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। কাজল আদালতের উদ্দেশে বলেন, এই মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য ধার্য আছে। আদালতে দুজন আসামি উপস্থিত আছেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি আথ্রাইটিসে ভুগছেন। তাই, তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে চান। খালেদা জিয়াকে চাহিদা মোতাবেক গৃহকর্মী দেয়া হয়েছে। তাঁকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া যেহেতু অসুস্থ, তাকে আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না, তাই আমরা এই মামলার বিচারকাজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিচালনা করতে চাই।

সরকারের প্রস্তাবে রাজী নন খালেদা জিয়া

কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা। একদিকে অসুস্থতার কথা বলে গত বুধবার তাকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির করা হয়নি। একই কারণে বাতিল করা হয়েছে তার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বুধবার ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত সাক্ষাৎ। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম ও রোববার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিম কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। কিন্তু কারাবিধি মেনে বারবার আবেদনের পরও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম এস্কান্দার ও তার পরিবার এবং জিয়া পরিবারের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী শর্মিলী রহমানসহ স্বজনরা কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিবের একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সে গুঞ্জনকে জোরদার করে তোলা হয়।

আওয়ামী লীগের নেতারা সর্বশেষ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী তিনি, তবে একটি একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। আর সেই শর্ত নিয়েই যত আপত্তি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের। আর এ কারণেই ঝুলে আছে খালেদা জিয়ার বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্যে বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এই ক্ষেত্রে তার একটি শর্ত রয়েছে।

তিনি আগে জেল থেকে মুক্তি চান, তারপর বিদেশে যেতে চান এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসবেন। অবশ্য তার শর্তের সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা রাজি নয় বলেই বিদেশ যাত্রায় দেরি হচ্ছে খালেদা জিয়ার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব দেওয় হয় বন্দি হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী তার বিদেশ পাঠানো হবে। নীতি-নির্ধারণী এসব সূত্রের আরও দাবি, জেলে থেকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিদেশে যাওয়ার লিখিত অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়া বিদেশে যাক, সে প্রস্তাবই তাকে দেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সরকার যে উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাজাওে আন্তরীণ করেছে সে লক্ষ্যে পৌছানও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু তাকে মুক্তিও দেওয়া যাচ্ছে না। তা করা হলে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীনরা। তাদের সংশয়, খালেদা জিয়াকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলায় রাজনৈতিক সুফলও বিএনপির ঘরে চলে যেতে পারে।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আদালতের ওপর। দেখি আদালত কী বলেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা আমাদের কোনও ব্যাপারই না। এটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ব্যাপার হলে সেই অনুযায়ী আদালতে কাগজপত্র দাখিল করবে বিএনপি। আদালত যেভাবে আদেশ দেবেন, জেল কর্তৃপক্ষ সেভাবে পদক্ষেপ নেবে।’

ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, ক্ষমতাসীনরা যেভাবে চান, সেভাবে রাজি হচ্ছেন না খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আগে মুক্তির বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সরকারি দলের নেতারা। তাই মুক্তি দিয়ে বিদেশ যাওয়ার শর্তে রাজি হচ্ছেন না খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিদেশ গেলে প্যারোলের শর্তানুসারে তার বক্তৃতা বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। দেশে বসেও কথা বলতে পারবেন না। কিন্তু মুক্তি পেলে তাকে ‘আটকানো‘ যাবে না। ফলে বক্তব্য-বিবৃতি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হতে পারে। মাঠ গরম করে সরকারের বিরুদ্ধে পাবলিক সেন্টিমেন্ট তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এই সুযোগ তাকে দিতে রাজি নয় ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়।

গুজবে কান দেবেন না: ফখরুল

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও তার অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। খালেদা জিয়াকে   ছাড়াই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেতে পারে- রাজনৈতিক মহলের এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন । বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন- গুজবে কান দেবেন না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দলের সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি। আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ আছি আর সেটি সরকারের পছন্দ হচ্ছে না। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা সত্যিকারের একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু বর্তমানে যা চলছে, তাতে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। সেজন্য লড়াই করছেন খালেদা জিয়া। আমরা দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ২০ দলীয় জোটের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০ দল আগেও ছিল, এখনো আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আছি। কিন্তু জোট নিয়ে যেসব সংবাদ প্রচার হয়, তা তারা কোনো বক্তব্য দেননি।

দুই জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্যের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, এখনও সময় আসেনি। রাজনীতির প্রত্যেকটি জায়গার একটা সময় আছে। আমরা কথা বলছি, কথা চলছে। সবাইকে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে একটা জায়গায় আসতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকার সময় আমাকে নিয়ে যেভাবে মনগড়া নিউজ করা হয়েছে, তাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। বিএনপি মহাসচিব হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর একটি পত্রিকায় ‘কে চালাবে বিএনপি’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, এসব মনগড়া নিউজ জাতিকে বিভ্রান্ত করে। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, যেখানে প্রতিটি নেতাকর্মী সবসময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে। তিনি বলেন, আমি খুব উদ্বিগ্ন হয়েছি। যখন আমি হাসপাতালে ভর্তি, তখন আমাকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে মনগড়া নিউজ। এসবের ফলে শুধু একটা দল বা ব্যক্তি নয়, গোটা জাতির ক্ষতি হয়। তাই আমি আহ্বান জানাব, যাতে এমন কোনো সংবাদ প্রচার না হয়, যাতে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন কারাগারে ‘অধিকার বঞ্চিত’ হচ্ছেন। খালেদা জিয়ার যে ন্যূনতম প্রাপ্য অধিকারগুলো তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার যখন ডিভিশন প্রাপ্তির কথা ছিল প্রথম কয়েক দিন তা দেয়া হয়নি। তাকে একটি পরিত্যক্ত নির্জন একটি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। একটি সভ্য দেশে এমন কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাৎ ও সেবা দেয়ার সুযোগ দিচ্ছে না সরকার। এক্ষেত্রে সরকারের আচরণ দেখে পরিষ্কার, তারা খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসা করতে দিতে চায় না। এর একটি মাত্র কারণ তারা তাকে ভয় পায়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, দুদক সরকারের ইচ্ছাপূরণে কাজ করছে। সরকার যেভাবে চায়, তারা সেভাবে কাজ করছে। এখন আমাদের দলের আট নেতার চরিত্রহনন করতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তারা নাকি ১২৫ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন করেছেন? আমি বলব, দুদকের এ অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া। আমাদের দলের যেসব নেতার নাম এসেছে তাদের মধ্যে এমন নেতাও আছেন যার ওই ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্টই নেই। তিনি বলেন, সরকারের যারা দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যারা রাষ্ট্রের অর্থ পাচার করছে, ব্যাংক লুট করছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে- তাদের বিষয়ে দুদক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এমন কি যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা এখনো মন্ত্রী পদে বহাল আছেন। এদের বিরুদ্ধে দুদক কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তিনি বলেন, দুদকের একমাত্র কাজ হচ্ছে বিরোধী দলের মামলাগুলো দাঁড় করানো এবং তদন্তের নামে তাদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা। কিন্তু কেন? গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা যে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, কয়জনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত করেছে দুদক?

সময় এসেছে আজকে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করার। আর সরকারের পতন হলে খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন, জনগণও মুক্তি পাবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জনগণের মুক্তি তাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা যাবে কিন্তু তিনি যে চেতনা লালন করেন, সেই চেতনার কোনো দিন মৃত্যু হবে না। আমরা যারা তার অনুসারি আছি, দীর্ঘদিন তার নেতৃত্বে পা?শে আ?ছি, আমাদের মধ্যেও সেই চেতনাবোধ অঙ্গিকার প্রতিশ্রæতি আছে। আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করছি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়।

বিএনপি নেতাদের বৈঠকে চার সিদ্ধান্ত

সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সরকারের কৌশল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, দলের সাংগঠনিক সফর ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেদন তৈরি, চলমান আন্দোলন জোরদার করা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বাত্মক নির্বাচন পরিচালনার কৌশল প্রণয়ন। বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক   নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। বিএনপি’র একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, কারাগারে যাওয়ার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শে ও সিনিয়র নেতাদের সমন্বিত মতামতের মাধ্যমে দল পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন খালেদা জিয়া। সে অনুযায়ী দলের সিনিয়র নেতাদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা হচ্ছে সব সিদ্ধান্ত। নেতারা জানান, বৈঠকের শুরুতেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

বিএনপি নেতারা জানান, সরকারের ধারণা ছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে রাজনীতির মাধ্যমে বড় ধরনের ইমেজ সংকটে পড়বেন তিনি ও তার দল। অন্যদিকে চাপ ও লোভে ফেলে নেতাদের একাংশের মাধ্যমে বিএনপিতে ভাঙন ধরানো যাবে। কিন্তু সরকারের দু’টি ধারণাই মিথ্যা প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে বিশ্বাস করেনি দেশের মানুষ। কারাগারে গিয়ে ইমেজ সঙ্কটের চেয়ে উল্টো জনপ্রিয়তা বেড়েছে খালেদা জিয়ার। অন্যদিকে দলের নেতাকর্মীদের নানা ক্ষোভ-বিক্ষোভও ভুলিয়ে দিয়েছে খালেদা জিয়ার কারাবাস। নেতৃত্বের সর্বস্তরে সবধরনের দ্বিধাদ্ব›দ্ব ভুলে এককাতারে অবস্থান করছেন নেতারা। দলে ভাঙন ধরানোর ব্যাপারে যাদের নিয়ে গুঞ্জন তৈরি করা হয়েছিল বাস্তবে তারাই বেশি সক্রিয় আইনি লড়াই ও রাজপথের কর্মসূচিতে। নেতারা জানান, প্রাথমিক কৌশলে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন নতুন কৌশলে এগোনোর চেষ্টা করছে। বিএনপি নেতাদের দ্ব›দ্ব ও পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস তৈরির অপচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে কারাগারে প্রথম তিনদিন ডিভিশন না দেয়া, প্রাপ্যসুবিধা বঞ্চিত করা, পরিত্যক্ত ভবনে রাখা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ না দেয়ার পরও মানসিকভাবে টলেনি খালেদা জিয়ার মনোবল। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই বয়সজনিত কিছু অসুস্থতা রয়েছে ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার। ফলে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরির মাধ্যমে নতুন কৌশল করছে সরকার।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- নেতাদের যাকে যে জেলায় সাংগঠনিক সফরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যেন সফরগুলো সম্পন্ন করেন। সেই সঙ্গে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংগঠনিক প্রতিবেদন তৈরি করে যথাযথ সময়ে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নেতাকে জবাবদিহি করতে হবে। নেতারা জানান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি’র চলমান আন্দোলনের নানাদিক পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। বেশির ভাগ নেতাই চলমান আন্দোলনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে বিএনপি কড়া আন্দোলনের যাবে এবং সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘাড়েই তার দায়ভার চাপাবে সরকার সমর্থকরা- এমন একটি আশঙ্কা ছিল বিএনপি’র। অতীত আন্দোলনের পূর্বাপর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সে পথে হাঁটেনি। এতে একদিকে সরকার যেমন বিরোধী নেতাকর্মী দমনে সফল হয়নি তেমনি দেশের মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি বিএনপি’র আন্দোলন। বরং বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি এবং সেসব কর্মসূচিতে সরকারের বাধার কারণে বেড়েছে জনমত ও জনপ্রিয়তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here