ধীর হয়ে আসছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া 

0
237

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর নীতির প্রতিফলন আইসিইতে 

প্রবাস রিপোর্ট: হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব গ্রহনের আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ইমিগ্রেশন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। একমাত্র স্ত্রীসন্তান ছাড়া সকল ফ্যমিলী ভিসা বাতিল, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচী বন্ধ করে দেওয়া, শরণার্থী ভিসার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং এই ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে মুসলিমদের বাইরে রাখা, শিশু বয়সে যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে তাদের বৈধতা দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যরাইভাল (ডেকা) কর্মসূচী চালু করেছিলেন তা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক কোটি ২০ লাখ আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টকে ডিপোর্ট করা এবং মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণইত্যাদি প্রসঙ্গে তিনি কোন রাখঢাক করেন নি। হোয়াইট হাউসে আসীন হওয়ার পরও তিনি তার কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির বিষয়ে প্রতিদিনই বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে তার এই ইমিগ্রেশন নীতির পক্ষে কংগ্রেসে কোন আইন পাশ করতে ব্যর্থ হলেও প্রশাসনিক বিভিন্ন কায়দায় তার নীতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা দাবী করছেন।

জানা যায়,প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কর্মকান্ড যেমন, গ্রীনকার্ড ধারীদের নাগরিকত্ব আবেদন, মাবাবা বা ভাইবোনের জন্য ফ্যামিলি ভিসার আবেদন ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রত্রিয়া ক্রমেই ধীর হয়ে পড়ছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ এসব আবেদন প্রসেস করতে পূর্বের তুলনায় দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। একমাত্র ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত শুনানী ছাড়া অন্য সকল ইমিগ্রেশন কেইসও ইমিগ্রেশন আদালতে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না।

শিশু বয়সে যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে তাদের বৈধতা দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যরাইভাল (ডেকা) কর্মসূচী চালু করেছিলেন তা বাতিল কওে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ জারী করেন তা বহাল রাখতে সুপ্রীম কোর্ট অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ইতিমধ্যেই দুটি ফেডারেল আদেশ স্থগিত করে। ফেডারেল আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা প্রশাসনের আপিল শুনতে অস্বীকার করেন। সেই সাথে একমাত্র স্ত্রীসন্তান ছাড়া সকল ফ্যমিলী ভিসা বাতিল, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচী বন্ধ করে দেওয়া, শরণার্থী ভিসার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং এই ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে মুসলিমদের বাইরে রাখা ইত্যাদি বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিও কংগ্রেসে পাত্তা পাচ্ছে না। ডেমোক্রাটরা তার ইমিগ্রেশন নীতির কঠোর বিরোধিতা তো করছেই সেই সাথে তার নিজ দল রিপাবলিকানদেও একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতির ঘোর বিরোধী। প্রায় এক চতুর্থাংশ রিপাবলিকান আইন প্রণেতা বেঁকে বসার কারণে আপাতত ভেস্তে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন সংস্কারের নামে কঠোর আইন প্রস্তাবের উদ্যোগ। তার এই পরিকল্পনা রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের অনেকেই তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।

ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নে ব্যর্থ হলেও প্রচলিত ইমিগ্রেশন আইনের কঠোর প্রয়োগ করে একদিকে যেমন আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের ব্যপকহারে ডিপোর্ট করা হচ্ছে সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেমের কার্যক্রমের গতি কমিয়ে দিয়ে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্টদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। এই প্রত্রিয়ায় বর্তমানে গ্রীনকার্ড হোল্ডারের সিটিজেনশীপ আবেদনপত্র দাখিলের পর সে প্রািত্রয়া সম্পন্ন হতে মাত্র এক বছর আগের চেয়ে এখন দিগুন সময় লাগছে। মাত্র এক বছর আগেও প্রেসিডেন্ট ওবামার সময় একজন গ্রীনকার্ডধারী তার সিটিজেনশীপ আবেদন পত্র দাখিলের পর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নেচারালাইজেশন সার্টিফিকেট পেতেন। অথচ বর্তমানে এই সময় লাগছে প্রায় এক বছর থেকে দেড় বছর। ফলে এই সময়কাল দ্বিগুণ কিংবা তারচেয়ে বেশী হয়ে গেছে। বিষেশজ্ঞরা মনে করছেন আগামী দিনগুলোতে এই সময় ক্ষেপনের আশঙ্কা আরো বাড়বে।

এছাড়াও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অন্যান্য আবেদনের ফয়সালা হতেও এখন দিগুণেরও বেশী সময় লাগছে। স্ত্রী এবং মাতাপিতার ইমিগ্রেশনের আবেদন করার পর প্রায় ছয় মাসের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সমাধা হত কিন্তু সেই সময়ও দিগুণ হয়েছে।

ব্রæকলিনে প্রবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান সিটিজেন আবদুল হক জানান, তিনি তার মাবাবার ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ছয় মাস পার হতে চলল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে আবেদনের এক্সেপট্যান্স লেটারই আসেনি। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আর কতদিন লাগবে কেই বলতে পারে না।

একইভাবে জ্যামাইকার করিরুল আলম প্রবাস পত্রিকাকে জানান, তিনি গ্রীনকার্ড পাওয়ার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাস পার হওয়ার পরও তার ইন্টারভিউএর জন্য ডাকা হয় নি। প্রসঙ্গে ইউএস কাস্টমস এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের হেলপ লাইন বা ইমেইলে যোগাযোগ করে জানতে চাইলেও উত্তর পাওয়া যায় না। ফোন করলে ঘন্টার পর ঘন্টা হোল্ডে থাকতে হয়। তারপরও ফোনে যেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় সেসব বিষয়ে তথ্য কোন সমাধান দিতে পারে না।

এছাড়াও একজন ইমিগ্র্যান্টকে সিটিজেনশীপ দেয়ার ব্যাপারে ইন্টারভিউতে যেভাবে প্রশ্ন করা হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ইমিগ্র্যাশন বিভাগ যেন গ্রীনকার্ডধারী বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের সিটিজেনশীপ দিতে ইচ্ছে করেই সময় নিচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, ইমিগ্রেশন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর নীতিরই যেন ইউএস কাস্টমস এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে ভর করে গ্রীনকার্ড দেয়া বা সিটিজেনশীপ দেয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কম। সে কারণেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এই কাজে ধীরগতি সম্পন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here