দ্য হিন্দু রিপোর্ট : আসাম নিয়ে আশঙ্কায় বাংলাদেশ

0
267

কাজল হক: আশঙ্কায় বাংলাদেশ। আসাম থেকে দলে দলে বাংলাভাষীদের বের করে দেয়া হতে পারে বলে এই আশঙ্কা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দলে দলে বাংলাভাষীদের আসাম থেকে বের করে দেয়া হলে তাতে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। আসামে চলমান ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন (এনআরসি) কার্যক্রম নিয়ে এমন উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা অনলাইন দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন ভারতীয় সাংবাদিক কল্লোল ভট্টাচার্য। ‘বাংলাদেশ ফেয়ারস এক্সোডাজ অব বেঙ্গালিস ফ্রম আসাম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তিনি আরো লিখেছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি বুধবার অবহিত করেছেন সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা।
সফররত ভারতীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তারা বলেছেন, আসামে চলমান ওই কার্যক্রম ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে হুমকিতে ফেলেছে। এর সুযোগ নেবে ভারতবিরোধী চক্র ও ইসলামপন্থি উগ্রবাদীরা। এরা আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে পশ্চাৎপদতার পরে নাগরিকত্ব ইস্যুটি আরেকটি হতাশার কারণ হবে। আসামে নাগরিকত্বের ইস্যুটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি ভারতের ভাবা উচিত বলে আমরা মনে করি। যদি ওই প্রক্রিয়ায় আসামের বাংলাভাষী জনগণের একটি অংশকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয় তাহলে তাতে আরেকটি রোহিঙ্গা সংকটের মতো ইস্যু সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা সর্বসম্মতভাবে মনে করে, নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যর্থতা হতাশার কারণ। তার ওপর আসামে চলমান নাগরিকত্ব নির্ধারণ ও তার পরবর্তী প্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে। এ কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, আমরা তিস্তার পানির যে অংশের মালিক আমাদেরকে সেই অংশ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন দিদিমনি (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)। এই পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করার মতো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাংশ বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে যে পদক্ষেপ বা সমর্থন দিয়েছেন তার উপযুক্ত প্রাপ্য ভারত দিচ্ছে না। তারা বলছেন, শেখ হাসিনার অধীনে আওয়ামী লীগ সরকার কিছু না পেয়েই, ভারতকে সহায়তা করেছেন। তিনি উলফা নেতাদের ধরতে সহায়তা করেছেন। উলফার এসব নেতা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু আসাম থেকে যদি নতুন করে শরণার্থীর ঢল নামে তাহলে এত বছরে অর্জিত দ্বিপক্ষীয় সহাযোগিতা বিনষ্ট হবে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, ২০১৭ সালে বড় দুটি বন্যা মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ। তার ওপর রোহিঙ্গা সংকট সম্পদের ওপর চাপ ফেলেছে। এর ওপর কোনো নতুন গোলযোগ সৃষ্টি হলে দেশের পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তুলতে পারে, যখন বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সরকারি সিনিয়র কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেছেন, যদি কোনো মানুষ কোনো এক স্থানে কিছুদিন বসবাস করেন, তাহলে তিনি ওই স্থানের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা যেখানে অবস্থান করেন সেখানে তাদের স্বাধীনতা থাকা উচিত। কিন্তু দ্বি-জাতি তত্তে¡ এবং দৃশ্যত মনে হচ্ছে, মুসলিমরা বসবাস করবেন বাংলাদেশে। হিন্দুরা ভারতে। কারণ, বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছে। শেখ হাসিনার দল ক্ষমতায় নয় বছর। তারা বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের বিরোধী বিভিন্ন ফ্যাক্টরকে মোকাবিলা করছে। এ অবস্থায় ঢাকার উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে দিল্লির প্রতি আহ্বান জানান যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমাদেরকে অবশ্যই সাহায্য করতে হবে ভারতকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here