চট্টগ্রাম সমিতির নেতাদের হাতাহাতি:সাংবাদিক সম্মেলন পণ্ড

0
124

 

প্রবাস রিপোর্ট: নেতৃত্বের কোন্দলে বহিস্কার পাল্টা বহিস্কারের ঘটনায় প্রবাসের অন্যতম বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতির সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। বহিস্কার-পাল্টা বাহিস্কারের পর এবার সমিতির নেতারা হাতহাতিতে লিপ্ত হয়েছেন। এরই ফলে সভাপতির নেতৃত্বাধীন গ্রæপের হামলায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহুত সাংবাদিক সম্মেলন পন্ড হয়ে গেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশী হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম সমিতির নেতারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দু গ্রæপে ভাগ হয়ে যায়। এরই অংশ হিসাবে একটি গ্রæপ আরেক গ্রæপকে পাল্টা-পাল্টি বহিস্কার করে। দুটি গ্রæপই পরস্পরেরর বিরুদ্ধে সংগঠনের অর্থ আত্মসাৎ ও সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।

 

এই অবস্থায় গত ৪ ফেব্রæয়ারী রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে চট্টগ্রাম সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল হোসেন মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্ম্দ সেলিম এর নেতৃত্বে সমিতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে। সাংবাদিক সম্মেলনে সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আজমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আসন নেয়ার পর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এই সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীন সেখানে চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের নেতৃত্বে তাদের সমর্থকরা উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন বন্ধ করার দাবি জানায়। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ সেলিম তার বক্তব্য পাঠ করা অবস্থায় তার মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কেউ কেউ সাংবাদিক সম্মেলন মঞ্চে উঠে দখলসহ ব্যানার টেনে নেয়ার চেষ্টা চালায়। ফলে শুরু হয় তুমুল বাক বিতন্ডা, হৈ চৈ। ঘটনা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রুপ নেয়। প্রায় ১৫ মিনিট চরম উত্তেজনা চলার সময় পালকি পার্টি সেন্টারের অন্যতম সত্ত¡াধিকারী হারুন ভুইয়া ও কামরুজ্জামান উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে পার্টি সেন্টার থেকে বের করে দেয়।

এই ঘটনায় সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত মিডিয়াকর্মীরা বিব্রত বোধ করেন। উপস্থিত একজন মিডিয়া কর্মী দ:খের সাথে জানালেন,প্রবাসে বিভিন্ন আঞ্চলিক-রাজনৈতিক সংগঠনের মিটিংয়ে মাঝে মাঝেই এক পক্ষ অপর পক্ষের দ্বারা বাঁধা পেয়ে থাকেন। কখনো বা সভাও ভন্ডুল হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে এমনটা আগে দেখা যায়নি-এটা খুবই ন্যাক্কারজনক কাজ হয়েছে।

এদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে হানা এবং পন্ড করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আজম জানান,সমিতিতে এখন লুটপাটের রাজত্ব চলছে। প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীদের নিয়ে যে করেই হোক এই লুটপাট বন্ধ করা হবে।

সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম বলেন,চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতেই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীদের হামলার কারণে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা কোন অশান্তি চাই না বলেই বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম সমিতির ভবিষ্যত মর্যাদা ক্ষুন্ন হবার ভয়ে এতদিন সংবাদকর্মীদেরকে কিছু বলেননি বলে জানান সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম।

সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া বলেন,বহিস্কৃতদের চট্টগ্রাম সমিতির ব্যানার ব্যাবহারের কোন সুযোগ নেই বলেই এ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয়েছে। সমিতির অর্থ যারা নিয়েছে বা যারা এদেরকে উসকানি দিচ্ছে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে না। আমরা দ্রæতই ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করতে যাচ্ছি।

ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ বলেন,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম ও কোষাধ্যক্ষ মীর কাদের রাসেল সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে আমরা তাদেরকে সমিতি থেকে বহিস্কার করেছি।এরা বহিস্কৃত বলেই সমিতির ব্যানার ব্যবহার করতে পারেন না। যার জন্য তাদের সাংবাদিক সম্মেলনন আমরা বাধা দিয়েছি।এই গ্রæপটি যতদিন অর্থ ফেরত না দিবে ততদিন পর্য়ন্ত যেখানেই সমাবেশ করুক না কেন আমরা সভাপিতির নেতৃত্বে বাঁধা দিতে থাকবো।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সমিতির ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া অভিযোগ করেছেন যে,বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো.সেলিম এবং কোষাধ্যক্ষসহ কয়েকজন ভুয়া ভাউচারে সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিপ্রায়ে ব্যাংক একাউন্ট থেকে ৪৪ হাজার ৬২২ ডলার সরিয়েছেন। এ ব্যাপারে শীঘ্রই আদালতে যাবো।

অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী আজম পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘মোহাম্মদ হানিফের কারণেই চট্টগ্রাম সমিতি আজ খন্ড-বিখন্ড হয়ে পড়ার পথে। এ থেকে উদ্ধারের জন্যে দরকার দক্ষ নেতৃত্ব।

সমিতির গত বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মুলত চট্টগ্রাম সমিতিতে বিরোধ বিভক্তি আর নেতৃত্বের কোন্দল শুরু হয়।সেই নির্বাচনে দুটি প্যানেল মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ‘জাহাঙ্গির-বিল্লাহ প্যানেল নির্বাচন থেকে সরে দাড়ায়। ‘জাহাঙ্গির-বিল্লাহ প্যানেলর কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় ‘জিয়া-সেলিম প্যানেলকে একতরফা বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ‘জিয়া-সেলিম প্যানেলর মধ্যেও এখন বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সমিতির নিজস্ব ভবন দখল,পাল্টা দখলের ঘটনাও ঘটে।

সিটির ব্রæকলিনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে প্রবাসের অন্যতম বৃহত্তম চট্টগ্রাম সমিতির। এই ভবনের এপার্টমেন্ট থেকে মাসিক ভাড়া আদায় হয় ৭ হাজার ডলারের অধিক। এই অর্থই হয়েছে সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যেকার হিংসা-বিদ্বেষের অন্যতম কারণ বলে অনেকেই মনে করছেন।

ডিসেম্বর মাসেও বিভক্তির কারণে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নীবীর অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। সমিতির এসব কর্মকান্ড বিব্রত সাধারণ প্রবাসী চট্টগ্রামবাসী।সংশ্লিষ্টদের মতে সমিতির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বদ্ব, নেতৃত্বের কোন্দল, মত পার্থক্য প্রভৃতি কারণে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে প্রবাসের এক সময়ের সনামধন্য সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here