৫ জানুয়ারি ঘিরে দুই দলের কর্মসূচি : ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন 

0
143

 

আলমগীর হাসান: ৫ জানুয়ারি। ২০১৪ সালে এই দিনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো দেশ-বিদেশে চলছে বিতর্ক। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে প্রতিবছর দেশের বড় দুই দল দিবসটি পালন করে বিপরীত মেরু থেকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিবসটি পালন করে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে। আর মাঠের বিরোধী দল বিএনপি দিবসটি পালন করে ‘গণতন্ত্র হত্যা’। ২০১৫ সালে দিবসটি পালন উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বাধা দেয়ায় টানা ৯২দিন হরতাল-অবরোধ হয়েছে।

সেই ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ওইদিন নিজ নিজ দলীয় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির বর্জন ও বিরোধীতার মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। যে আসনগুলোতে ভোট হয়েছে সেখানেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সামান্যই। সংবিধান রক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করছে দলটি। অন্যদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে উল্লেখ করে দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তারা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকেই ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। দিনটিতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। কখনো একই স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা, কখনো বা পাশাপাশি স্থানে সমাবেশ করতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারাদেশেই। দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষেরাও।

বিগত দিনগুলোর মতো এবারও একই দিনকে পৃথক দিবস হিসেবে পালন করতে মাঠে নামছে দল দুটি। গতবার একই স্থানে কর্মসূচি পালন করতে চাইলেও এবার পৃথক পৃথকভাবে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলের নেতারা। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে চাইলেও সেখানে অনুমতি পাচ্ছে না বিএনপি।

অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবসে রাজধানীতে দুটি স্থানে সমাবেশ পালন করবে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর উত্তর সমাবেশ করবে বনানী খেলার মাঠে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। এই সমাবেশেও প্রধান অতিথি থাকবেন ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতারা এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন মহানগর দক্ষিণের নেতারা।

বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় তারা। বিএনপি নয়াপল্টনেও সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পুলিশ সেখানেও অনুমাত দেয় নি।  এদিকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই-সরকার বিএনপি’র গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাবে। সমাবেশের অনুমতি দিয়ে বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ করে দিবে। যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া হয় তাহলে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আগামী ৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন আওয়ামী লীগের

৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গণতন্ত্র প্রগতি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করে দলটি। দিবসটি  উপলক্ষে সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানাপর্যায়ে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওইদিন বেলা ৩টায় রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানাসমূহে ৫ই জানুয়ারির এই কর্মসূচি পালন করবে।

দেশব্যাপী এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে গণতন্ত্রের বিজয়ের ঐতিহাসিক দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

সারা দেশে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি বিএনপির

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন ৫ই জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ও সারা দেশে জেলা-উপজেলা সদরে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন বর্তমান সরকার গায়ের জোরে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। বিএনপি এ দিবসটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস ও গণতন্ত্র অপহরণ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

৫ই জানুয়ারি সারা দেশে জেলা-উপজেলা সদরে কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি ঢাকা মহানগরের আওতার বাইরে থাকবে।

সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি

৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে কালকের সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। তবে বিএনপি চাইলে ইনডোরে যেকোনো সময় কর্মসূচি পালন করতে পারবে। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কর্মসূচি পালন করতে হলে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিএনপিকে অপেক্ষা করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে একথা জানিয়েছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

তিনি বলেন, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আমাদের সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। আমরা চাইলে যে কোনো দিন সমাবেশ করতে কোনো সমস্যা নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেটা ইনডোরে করতে হবে। এই মুহূর্তে বাইরে কর্মসূচি করা যাবে না। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে চাইলে আমরা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে করতে পারবো। এখন আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমপিকে জানানোর কথা বলে এসেছি।

শুক্রবার নয়াপল্টনে সমাবেশ করার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না এমন প্রশ্নে এ্যানী বলেন, আমরা নয়াপল্টনে সমাবেশ করার কথা বলেছিলাম। তবে রাস্তায় এই মুহূর্তে সমাবেশ না করতে ডিএমপি কমিশনার আমাদের অনুরোধ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here