হামিদ না আশরাফ: কে হচ্ছেন ২১তম প্রেসিডেন্ট 

0
115

 

তারেক সালমান : বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষে কে তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন-আলোচনা। দেশের ২০তম প্রেসিডেন্ট এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ আগামী ২১ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হলে তার মৃত্যুর ৬ দিন পূর্বেই ১৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তিতে তাকেই দেশের ২০তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়ে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত করে জাতীয় সংসদ।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষে কে হতে যাচ্ছেন দেশের ২১তম প্রেসিডেন্ট তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন, তেমনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। তবে বিষয়টি অতি উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার হওয়ায় দলটির কোনো নেতাই এ বিষয়ে কোনো ধরণের বক্তব্য দিতে রাজি হননি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এ সাংবিধানিক পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে সরকারকে।

সূত্র আরও জানায়, দেশের ২১তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ যদি টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি সর্বোপরি দলীয় সরকারের প্রতি আস্থায় ঊত্তীর্ণ ব্যক্তি। সেক্ষেত্রে সবদিক বিবেচনায় তারও পূণনির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমন্ডলীর একসদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হতে যেহেতু বেশ কিছুদিন সময় আছে, তাই এখনও এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি।

জানা গেছে, ইতোমধ্যেই দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেট, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

সূত্র জানায়, বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য। আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন দিক পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া, বর্তমান দশম জাতীয় সংসদে যেহেতু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা রয়েছে, সেহেতু আওয়ামী লীগের প্রার্থীই হবেন দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং যার ওপর তিনি নির্ভর করতে পারবেন এমন ব্যক্তিকেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট করা হবে বলে দলটির একাধিক সূত্র জানায়।

তবে একটি সুত্র বলছে, আবদুল হামিদ ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত উজ্জল ‘রিজার্ভ ব্যক্তিত্বের অধিকারী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দেশের ২১তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সামনে জাতীয় নির্বাচন। দেশের রাজনীতিতে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণতো বটেই আওয়ামী লীগের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক চিত্র ক্ষণে ক্ষণে পাল্টানোর আশঙ্কা সরকার মহল থেকেই নিয়মিত করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে সবচেয়ে আস্থাভাজন বিকল্প নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চেয়ে আর কেউ নেই। তাই আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষে সৈয়দ আশরাফই হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম প্রধান পছন্দ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের অধিকার প্রদান ও রাজনীতিতে ‘চমক’ দিতে জাতীয় রাজনীতিতে প্রায় অনভিজ্ঞ ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীকে দশম জাতীয় সংসদের স্পিকারও নির্বাচিত করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীও দেশের পরবর্তি প্রেসিডেন্ট এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এ তিন রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়া কূটনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সফল ঝাঁনু কূটনীতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও হতে পারেন দেশের পরবর্তি প্রেসিডেন্ট। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মুখে পরবর্তি প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য তালিকায় ড.গওহর রিজভীর নামও আলোচিত হচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

আব্দুল হামিদ বাংলাদেশের ২০তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ২৯ এপ্রিল, ২০১৩ সালে। এর আগে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ২১ এপ্রিল। এ নির্বাচনে অন্য কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইপূর্বক বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রাকিবউদ্দীন আহমদ ২০ এপ্রিল তারিখে তাকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন।

এদিকে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ১২৩ (১) ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শুন্য হলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের আয়োজন করবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি (এ সময়কালে তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন) এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট; বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর; মোহাম্মদউল্লাহ ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি; খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৬ নভেম্বর, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল; জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে; বিচারপতি আবদুস সাত্তার ১৯৮১ সালের ৩০ মে থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ; জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ থেকে ২৭ মার্চ এবং ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর; আ ফ ম আহসানুদ্দিন চৌধুরী ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর; বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ১ ফেব্রæয়ারি এবং ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর; এ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর; ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০১ সালের নভেম্বর ১৪ থেকে ২০০২ সালের ২১ জুন; জমিরউদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর; প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি, মো. জিল্লুর রহমান ১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০ মার্চ ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here