পদ্মা সেতু নিয়ে হাসিনা-খালেদা বাহাস 

0
273

আরো ২৩ মাস সময় চেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, নানা শঙ্কা

নাসিরা আফরোজ রোজী: সরকারের মেয়াদ শেষে ভোটের আগে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অন্যান্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ১ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকির সমাবেশে বলেছেন, পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না।

বেগম জিয়ার এই মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ফেনির মহিপালে ছয় লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার উদ্বোধন কালে পাল্টা আত্রমন করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জ্ঞানের অভাবে পদ্মা সেতু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন খালেদা জিয়া জ্ঞানের অভাবেই ‘পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে পদ্মা সেতি নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মধ্যে বিভিন্ন সৃত্র বলছে, নানা সমস্যায় পদ্মা সেতুর কাজ পিছিয়ে পড়ছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে উন্নয়নের অন্যতম নির্দেশক ‘পদ্মা সেতু’র কাজ শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলেও কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত ২৩ মাস সময় চেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী। বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মূল সেতুর কাজ পিছিয়ে আছে ৩৫ শতাংশের বেশি। সর্বশেষ অগ্রগতি না বেড়ে উল্টো কমে গেছে।

একইভাবে মেগা প্রোজেক্ট মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, পায়রা সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী টানেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সরকার। কারণ প্রকল্পে অর্থায়ন, দাতা সংস্থার সরে যাওয়া, ঠিকাদারের গাফিলতিসহ নানা কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে ধীরগতিতে। তবে সময়মতো কাজ শেষ করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলছেন, কাজ শেষ হতে আরও কয়েকমাস লাগবে। তিনি বলেন, সেতুর কাজ পুরোদমে চলছে। ভ‚মি কাঠামোর কারণে ১৪টি ‘পিলার’ বসানো নিয়ে নকশায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পদ্মা সেতুর ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত বুধবার সিরাজদিখান উপজেলার মস্তফাগঞ্জ সেতু উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, মূল সেতুর কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। পদ্মা নদী দক্ষিণ আমেরিকার আমাজানের মতো একটি নদী, একবারে অনিশ্চিত একটি নদী। নির্দিষ্ট তারিখ দিয়েও আমরা সেই নির্ধারিত সময় রাখতে পারি না। ২য় স্প্যান বসতে আমাদের আরো একটু সময় লাগবে। তিনি আরও জানান, পদ্মার পানির নিচে এতো বেশি অনিশ্চিত পরিস্থিতি যেখানে গভীরতা মিলিয়ে টেকনিক্যাল কিছু সমস্যা আছে। আমাদের টার্গেট আমরা যথাসময়েই শেষ করব। একটি-দুইটি স্প্যান বসার পর সাত-আট দিন পর আরও ৩৯টি স্প্যান বসতে পারবে। কাজেই যথাসময়ে কাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পদ্মা সেতু নির্মাণ। সরকারের মেয়াদ শেষে ভোটের আগে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে আলোচিত অবকাঠামো পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করাটা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দুটি পিলারের উপর একটি স্প্যান বসিয়ে সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান করা হলেও নির্ধারিত সময় ২০১৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এ প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল সেতুর কাজে অগ্রগতি হয়েছে ৫২ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় নদী শাসনের কাজে ৩৪ দশমিক ৩০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেতুর জাজিরা সংযোগ সড়কের ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও মাওয়া সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ স্থাপন প্রকল্পের কাজ। অন্তত সেতুর মূল অংশে রেল চলবেই একই দিনে। অর্থাৎ যেদিন এ সেতুতে গাড়ি চলবে, সেদিন রেলও চলবে। তবে এই সেতুর দুই প্রান্তের রেল লাইনের কাজে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে জানা গেছে।

সেতুর কাজ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় আট মাস পিছিয়ে আছে বলে গেল মাসে আইএমইডির তৈরি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, নদী শাসনের কাজ ৩৪ ভাগের বেশি শেষ হলেও এই সময়ে কাজের ৫৬ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতুর কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পরিকল্পনা কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ স্থাপন, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পসহ যে ১০টি প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগেরই কাজ শেষ করতে চায় সরকার। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা ও যানজট নিরসনে যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে সেগুলোও ২০১৮ সালের মধ্যেই শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে এসব কাজ নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস আগেই শেষ করার তাগিদ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশন। তবে সরকার এ সময়ে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখছে বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষের যেন ভোগান্তি কম হয় এ কথা মাথায় রেখেই সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্র মতে, সরকার জনগনকে আগামী নির্বাচনের আগেই ভোটের জন্য উন্নয়নের মহাকর্মকান্ড দেখাতে চায়। তাই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য পদ্মা সেতুটি খুলে দিতে চায় সরকার। এই সেতুকে ঘিরে আরেকটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। তা হলো পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ স্থাপন। সেতুতে যেদিন থেকে যান চলবে সেদিন থেকেই রেলও চলবে। এই লক্ষ্যেই কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া ঢাকাবাসীকে স্বস্তি দিতে মেট্রোরেলের অন্তত প্রথম অংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের কাজ শেষ করতে চায় সরকার। পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালি পর্যন্ত নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-বনানী অংশও নির্বাচনের আগেই চালু করার চেষ্টায় আছে সরকার। এ লক্ষ্যে দ্রæত এগিয়ে চলছে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ।

মেট্রোরেল

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মডেল বাস্তাবায়নে আরেকটি চ্যালেঞ্জ মেট্রোরেল। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানী ঢাকার যানজট সমস্যা প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের কাজও চলছে বিরামহীন দিনরাত ২৪ ঘণ্টা। আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ গুছিয়ে আনতে চায় সরকার। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রকল্পটির একাংশ উদ্বোধন করা যায় কিনা সে চিন্তা করছে সরকার। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রকল্পর শুরু থেকে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৬২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত লাইন স্থাপন করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, মতিঝিল পর্যন্ত লাইন স্থাপন করা হবে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

হযরত শাহজালাল অন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণের কথা। এর অনেক পরে নেওয়া প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। কিন্তু এ প্রকল্পের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০১১ সালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। একই বছরে হয় ভিত্তি স্থাপন। এরপর পেরিয়ে গেছে ৬ বছর। অগ্রগতি মাত্র ৯ শতাংশ।

জমি অধিগ্রহণে জটিলতা আর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সময়মতো অর্থ জোগাড় করতে না পারায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। গত বছরের ৬ জুলাই ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় সিনো হাইড্রো। এ নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ইতাল থাই ও সিনোহাইড্রো যৌথভাবে এখন নিশ্চয়তা দিয়েছে, প্রকল্পে অর্থছাড় করতে সমস্যা হবে না। পুরোদমে কাজ চলবে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দফায় দফায় সময় পেছানোর পর সর্বশেষ ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে এ সময়ের মধ্যে

কর্ণফুলী টানেল

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে দেশে প্রথমবারের মতো টানেল নির্মাণের কথা। ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলের পূর্ব প্রান্তে ৫ কিলোমিটার এবং পশ্চিম প্রান্তে ১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। ঋণচুক্তির এক বছর পর সম্প্রতি অর্থছাড় করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক।

সময়মতো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টানেল নির্মাণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টানেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। এতে ২ শতাংশ সুদে ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে চীন।

কক্সবাজার-দোহাজারি রেলপথ

বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের জন্য ১২৫ বছর আগে চিন্তা করেছিল ব্রিটিশরা। কিন্তু এখনো এর বাস্তবায়ন নেই। নভেম্বরে কাজ শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয়নি প্রকল্পের নির্মাণকাজ। তাই ২০১৮ সালের মধ্যে রেলপথটি দৃশ্যমান হচ্ছে না তা সহজেই অনুমেয়। গত অক্টোবর ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিসই হয়েছে। সিআরইসি ও সিসিইসিসি নামে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে মোট ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায় প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে।

খালেদা জিয়া ‘জ্ঞানের অভাবে’ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন -প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জ্ঞানের অভাবে পদ্মা সেতু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জ্ঞানের অভাবেই ‘পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন। যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেন, মানুষ পোড়ায়, তাদের হাতে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। জোড়াতালি দিয়ে বানানো এ সেতুতে কাউকে না উঠতে বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের কারণে তার মাথার ‘ঘিলু’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজকে যখন আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি, তখন খালেদা জিয়া বক্তৃতা দেন যে ওই পদ্মাসেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে। কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। এখন যার এইটুকু জ্ঞান নেই, একটা জিনিস নির্মাণ করতে হলে কীভাবে, কী পদ্ধতিতে করতে হয়, যার মাথায় ওইটুকু ঘিলু নাই। ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কীসের? চুরি করা, টাকা বানানো, এতিমের টাকা খাওয়া, মানুষ পোড়ানো, মানুষ মারা এটাই তো?

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের এ উপদেশ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কীসের? বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, এখন একটা সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে। হ্যাঁ, একদিকে ঠিক, যেহেতু একেকটি পার্টস (অংশ) তৈরি করে তারপর একেকটা করে বসায়।

শেখ হাসিনা বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) বুঝিয়ে দিয়েছেন ওনার কথার মধ্যে দিয়ে। নইলে যার মধ্যে এতটুকু সেন্স আছে, এতটুকু বুদ্ধি আছে বা যার এতটুকু জ্ঞানে আছে এবং সে যদি সজ্ঞানে থাকে নিশ্চয়ই এ কথা বলবে না।

৬ লেন ফ্লাইওভার উদ্বোধন

 

দেশে প্রথমবারের মত নগরবাসীর গণপরিবহনের যাতায়াতের সুবিধার্থে ডিজিটাল ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বি আরটিসি কর্মকর্তা এবং যাত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জাইকার আর্থিক সহায়তায় ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা যে ব্যবস্থা করেছি সেটা হচ্ছে র‌্যাপিড পাস। এরজন্য বাসে উঠে আর টাকা বের করতে হবে না। কার্ডটা থাকলেই হবে।

প্রথমবারের মত ই-টিকেটিংয়ের মাধ্যমে এ দিন যাত্রা শুরু করা বি আরটিসির মতিঝিল টু নবীনগরগামী যাত্রীদের সঙ্গে এ সময় প্রধানমন্ত্রী মত বিনিময় করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here