নিউইয়র্কসহ দেশে দেশে নববর্ষ পালন

0
28

প্রবাস রিপোর্ট: একটি বছর চলে যায়। আরে আরেকটি নতুন বছর। নববর্ষ পালনের ক্ষেত্রে একেক দেশ একেক রীতি পালন করে থাকে। পালনে অনেক দেশে আজব কিছ’ রীতিও রয়েছে। এদিকে,যারা বিশ্বেই বেজে গেছে ইংরেজি নতুন বছরের আগামী বার্তা। এই দিনকে কেন্দ্র করে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া কিংবা আফ্রিকার থাকে নতুন নতুন আয়োজন। তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে তাঁরা এই ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। তবে সব দেশের ইংরেজি বর্ষ পালনের কিছু সমর্থক উপায় আছে। যেমন-ভালো খাওয়া দাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা, পটকা-আতশবাজি ফোটান ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে এবারের নববর্ষের রাতটি ছিল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় শীতলতম। নিউইয়র্ক সিটিতে এদিন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে শীতের প্রচ-তাও দমিয়ে রাখতে পারে নি বর্ষবরণের উৎসব। নগরীর টাইম স্কয়ারে আয়োজিত বর্ণিল বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেন বিপুল পরিমাণ মানুষ। সাম্প্রতিক দুটি সন্ত্রাসী হামলার কথা মাথায় রেখে এসময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে বর্ষবরণের সময় অগ্নিকান্ডের গটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাজার হাজার মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে আহত হন ২ জন।
নিউইয়র্ক: বরাবরের মতোই সিটির টাইমস স্কোয়ারে বিশাল বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে এবারও নিউইয়র্ক বরণ করল নিউ ইয়ার, ২০১৮। এই আয়োজনে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেও প্রায় এক মিলিওন নিউইয়র্কবাসী উপস্থিত ছিলেন। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত ১২ টা বাজার সাথে সাথে বিশাল বলটি নীচে নেমে আসে সেই সাথে নানা বর্ণের কাজগ আকাশে উগতে শুরু করে মিলিওন নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে শুরু হয় আনন্দ-উৎসব। এসময় সেন্ট্রাল পার্কে শুরু হয় আতস বাজির খেলা।
ইউরোপ: ইউরোপে ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধরন আবার এক দেশে হতে অন্য দেশে কিছুটা আলাদা। যেমন পর্তুুগাল নতুন বছরকে স্বাগত জানায় ম্যাজিক লাইটের মাধ্যমে। পর্তুগিজরা রাত ১২টার পর তারা ১২টা আঙ্গুল ফল খায়। তাঁরা মনে করে এই আঙ্গুর ফল তাদের নতুন বছরের জন্য সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসবে।
ফ্রান্সের নতুন বছর উদযাপন কিছুটা আমাদের দেশের ঈদের মতো। তাঁরা এ দিয়ে বিশেষ কিছু দেশীয় খাবার খেয়ে থাকে সঙ্গে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের টাকা উপহার দেয়। যুক্তরাজ্য তাদের নতুন বছরের যাত্রা শুরু করে ফাস্ট ফুড বা বছরের প্রথম পদক্ষেপ বলে প্রচলিত একটি ঐতিহ্যের মাধ্যমে।
এশিয়া: এশিয়াতেও ইংরেজি নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন করা হয়। যেমন জাপানীর হাতে হাত ধরে এক ধরনের বেঁড়ি বা বন্ধন তৈরী করে যাতে করে তাদের ঘর থেকে যা কিছু খারাপ তা বের হয়ে যায়। আর ভারত, বাংলাদেশের মতো এশিয়ার অন্য দেশগুলো ইংরেজি নতুন বছরে ভালো কাপড় পরে,নাচ গান,খাওযা দাওয়া কিংবা বিভিন্ন পার্টিতে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে পার করে।
আফ্রিকা: আফ্রিকা জুড়ে নতুন বছর মানেই সরকারী ছুটির দিন। আর এই দিনে তাঁরা বিভিন্ন পার্টিতে যায়,নাইট ক্লাবে গিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে থাকে। তবে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে নতুন বছরের উদযাপন আবার কিছুটা ভিন\ তারা ধর্মীয় দিনকেও নতুন বচরের জন্য বেঁছে নেয়।
মেক্সিকো: মেক্সিকোতেও ১২টা বাজার সাথে সাথে ১২বার ঘন্টা বাজানো হয়। এ সময় প্রতি ঘন্টাধ্বনির সাথে একটি করে আঙুর খাওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে এ সময় যা কামনা করা হয়, তাই পুরন হয়।
জাপান: জাপানে নববর্ষের সময় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধথাকে। খারাপ আত্মাকে দূরে রাখার জন্য এ সময় বাড়ির বাইরে দড়ি দিয়ে খরের টুকরো ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এটাকে তারা সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here