ফ্যামিলি ভিসা ও ডিভি বাতিলে ট্রাম্পের ঘোষণা

0
2456

ভাই-বোন-বাবা-মা ও বয়স্ক সন্তানদের গ্রিনকার্ড প্রদান বন্ধ করতে সিনেটে বিল

প্রবাস রিপোর্ট: আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ায় সাথে সাথে এবার বৈধভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রান্ট হওয়ার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। এরই অংশ হিসাবে ফ্যমিলী ভিসায় ভাই, বোন, মাতা পিতা ও ২১ বছরের উর্ধ্ব বয়সের সন্তানদের যে ইমিগ্রান্ট ভিসা ইস্যু ও গ্রীনকার্ড প্রদান করা হতো তা বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিল এন্ডোর্স করেছেন। সেই সাথে এই বিলে ডিভি ভিসায় গ্রীন কার্ড পাওয়ার পথ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত একটি বিল হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি কংগ্রেসে পাস হলে আগামী ১০ বছরে দেশটিতে বৈধভাবে গ্রীনকার্ড গ্রহণের সুযোগ ৫০ শতাংশ কমে যাবে। সেই সাথে বিলে যুক্তরাষ্ট্রের রিফিউজি গ্রহনের সংখ্যাও বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিলে ফ্যমিলী ভিসায় ইংরেজী শিক্ষিত দক্ষ ব্যক্তিদের গ্রীনকার্ড দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেই সাথে সম্পদশালী ও আমেরিকার উন্নয়নে কাজে আসতে পারে- এমন ইমিগ্রান্টদের নেওয়া অব্যাহত রাখবে বলে এই বিলে বলা হয়েছে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছেঁকে ছেঁকে দক্ষ মানুষ নিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা শুধুমাত্র তাদের স্বামী/স্ত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারবেন বলে প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত ফ্রেব্রয়ারী মাসে দুই রিপাবলিকান সদস্য আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন এবং জর্জিয়ার রিপাবলিকান সিনেরট ডেভিড পার্উি এই বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। তবে সে সময় এই বিলটিতে কারো সমর্থন না থাকায় সেটি পড়ে থাকে। তবে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি আদেশে ব্যর্থ ও সম্প্রতি ওবামা কেয়ার বাতিলে চরম পরাজয়ের পর এই দুই সিনেটরের সাথে হোয়াইট হাউসে বিলটি নিয়ে বৈঠক করে ইমিগ্রেশন বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষনা দেন। তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিলটিতে তার সম্মতি আছে তা সিনেটে উত্থাপন ও পাশ করার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহবান জানান। ট্রাম্পের এই ঘোষনার পর ইমিগ্রেশন প্রসঙ্গে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর দশ লাখ গ্রীনকার্ড ইস্যু করে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন থাকা এই বিলটি পাশ হলে গেলে গ্রীনকার্ড ইস্যু করার সংখ্যা কমে আসবে পাঁচ লাখে।
বিলটি পাশ হলে অন্যান্য দেশের ইমিগ্রান্টদের পাশাপাশি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশী ইমিগ্রান্টদের ওপরও। বাংলাদেশী যারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ইমিগ্রান্ট হচ্ছেন ও গ্রীনকার্ড পাচ্ছেন তাদের সবাই মুলত ফ্যামিলী ভিসায়। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের বিপুল সংখ্যক পরিবারের সদস্য এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। সুত্র মতে এই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে এই আমিগ্রান্টদের অধিকাংশই ইংরেজীতে দক্ষ নয়। সেই সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের মানে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে বিিেবত নয়। ফলে নতুন বিলটি পাশ হলে বাংলাদেশীদের আত্মীয়-স্বজন যারা ইতিমধ্যেই আমেরিকায় আসার প্রক্রিয়ায় আছেন বা ভবিষ্যতে যারা আবেদন করবেন বলে আশায় আছেন তাদের আশা ভংগ হতে পারে।
এই বিল সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বিলটি পাশ হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা সহজেই চাকরি পাবে এবং নিজের জন্যে কিছু করতে পারবে। তিনি বলেন, ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় দেশে প্রবেশ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই যে কেউ গ্রীনকার্ড হাতে পান। এমন ব্যবস্থা আমেরিকান শ্রমিক কর্মচারীদের জন্যে কোনভাবেই শুভ নয়।
২০১৫ তে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রান্টদের সংখ্যা ছিল দশ লাখেরও কিছু বেশী। বিলটি পাশ হয়ে গেলে প্রথম বছরে বৈধ ইমিগ্রান্টদের সংখ্যা কমে আসবে পাঁচ লাখে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিলে সমর্থন ঘোষনার পর ফ্যামিলি ভিসা নিয়ে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, এ বিল ট্রাম্পের সমর্থন সত্ত্বেও এই বিল সিনেটে পাশ হওয়া খুবই কঠিন। বহু রিপাবলিকান সিনেটররাই এই বিলের বিরোধিতা করবেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রানান্তকর চেষ্টা সত্ত্বেও সিনেটে ওবামা কেয়ার বাতিলে একটি বিল পাশ হয় নি। রিপাবলিকান তিনজন সিনেটর ঐ বিলের বিপক্ষে ভোট দেয়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত এই বিলে আরো বেশী সংখ্যক রিপাবলিকান সদস্য বিরোধিতা করতে পারেন। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আর সব উদ্যোগের মতোই এই উদ্যোগটিও ব্যর্থ হওয়ার সম্ভবনাই বেশী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here