প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনের ৬ মাস

0
221

এজেন্ডা বাস্তবায়নে লেজে-গোবরে অবস্থা ॥ জড়িয়ে পড়ছেন কঠিন ঘূর্ণিজালে

রাশিয়ান কানেকশনের জাল থেকে বের হতেই পারছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে একটির পর একটি বিষয় উন্মোচিত হচ্ছে এই রহস্যের। যতই এই জাল থেকে বের হতে চাইছেন ততই জড়িয়ে যাচ্ছেন। যেন রহস্য উপন্যাসের একটির পর একটি পাতা উল্টাচ্ছে কেউ পর্দার অন্তরালে। যার সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে রাশিয়ার এক আইনজীবীর সাথে ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়রের গোপন বৈঠকের খবর ফাঁস হলো। এর আগেও বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকটি ঝড় গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রেসিডেন্সির ওপর দিয়ে। সেই নির্বাচনের পর থেকেই যেন বিষয়টি পিছু ছাড়ছে না তার। ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস হতে চলেছে, কোথায় ঘর গুছিয়ে দেশ সেবার কাজ শুরু করবেন তা নয়Ñ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একের পর এক লড়াই করতে হচ্ছে তার ও সহযোগীদের বিভিন্ন কেলেঙ্কারি নিয়ে।
ইমিগ্রেশন প্রসঙ্গে ৬ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ওবামা-কেয়ার বাতিলের প্রচেষ্টা, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণসহ তার কোন অঙ্কিার পুরুণের পথে তিনি একধাপও এগুতে পারেন নি। এর মধ্যে ৬ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে একটি অংশ সৃপ্রীম কোর্টের রায়ে তার পক্ষে গেলেও সর্বশেষ তার ৬ শাসনের ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার দিবসে সুর্প্রীম কোর্ট এই বিষয়ে তার বিপক্ষে আরেকটি রায় দিয়ে সে অর্জনও শন্যে পৌছে দিয়েছে। সেই সাথে তিনি প্রতিদিনই জড়িয়ে পড়ছেন নতুন নতুন কেলেঙ্কারীতে।
৬ মাসের শাসনে তার রেটিং হার আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে সর্বনিম্নে পৌছেছে। এই অবস্থায় তার ভোটারদের একটি অংশও এখন আক্ষেপ করছেন তাকে ভোট দেওয়ার জন্য। অবষ্তা এমন দাঁড়িয়েছে যে নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব কিংবা রাশিয়ার কাছে সহযোগিতা নেয়ার যে অভিযোগ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পতন ডেকে আনবে কি না এই প্রশ্ন উঠছে এখন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুত্র ট্রাম্প জুনিয়র, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সাবেক প্রচারণা প্রধান পল ম্যানাফোর্টকে সিনেটে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের যোগসূত্রের অভিযোগ নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আগামী সপ্তাহে তাদের তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ান কানেকশন তদন্তের জন্য জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নিয়োগকৃত স্পেশাল কাউন্সেল এখন তার তদন্তের মাত্রা বাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যবসা ও আর্থিক বিষয় সম্পর্কেও খোঁজখরব নিচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গত ৬ মাসের শাসনে একমাত্র কিছুটা সাফল্য থাকলে সেটি আনডকুমেন্টেডদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার। এই অভিযান চলছে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের মধ্য দিয়ে। সেই সাথে স্যাংচুয়ারী সিটিরগুলোর অর্থায়ন সম্পর্কিত একটি নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্য এই আনডকুমেন্টেড বিরোধী অভিযান আরো কিছুটা জোরদার করা হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই অভিযানের ফলে কৃষি ফার্মসহ বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এসব ফার্মের কর্মীদের জন্য নতুন করে ১৫ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে। ফলে আনডকুমেন্টেড বিরোধী এই অবিয়ান মুলত আমেরিকার জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে এই অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্পকে ভোট দেয়া প্রতি ৮ জনের ১ জন অনুতপ্ত
নির্বাচনে বিজয়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ছয় মাসের কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ২০১৬ সালের ভোটারদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পকে ভোট দেয়া প্রতি আটজনের একজন নাগরিক এখন যদি আবার সুযোগ পেতেন তাহলে ট্রাম্পকে ভোট দিতেন না।
চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবার ও পুনরায় জুলাইয়ে পরিচালিত এ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ভোটাররা রয়টার্স/ইপসসকে নির্বাচনের দিন কীভাবে তাদের ভোটাধিকারে প্রয়োগ করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। জরিপের সময় তাদের অনেকেই দেখিয়েছেন সুযোগ পেলে তারা কীভাবে তাদের ভোটটি পরিবর্তন করতেন।
তবে গত বছর ৮ নভেম্বর ট্রাম্পকে ভোট দেয়া অধিকাংশ নাগরিকই তাকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করেছেন। তার সমর্থক হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিকে শ্বেতাঙ্গ নাগরিকরা প্রেসিডেন্টের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনে ইলেকটোরাল ভোটে সামান্য ব্যবধানে হোয়াইট হাউজ বিজয়ী ট্রাম্প তার প্রত্যেক সমর্থককে পাশে চান। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশায় এবং বিভক্ত কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের কাছে প্রত্যেক সমর্থকই মূল্যবান।
জুলাই জরিপে ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, যদি আজ আবার ২০১৬-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়, তবে তারা সেখানে ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না। ৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। বাকি ৫ শতাংশ বলেছেন, তারা নির্বাচনের অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন অথবা ভোটই দেবেন না।
ট্রাম্প জুনিয়র, কুশনার ও ম্যানাফোর্টকে সিনেটে তলব
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুত্র ট্রাম্প জুনিয়র, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সাবেক প্রচারণা প্রধান পল ম্যানাফোর্টকে সিনেটে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের যোগসূত্রের অভিযোগ নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আগামী সপ্তাহে তাদের তলব করা হয়েছে।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ান হস্তক্ষেপ তদন্তে কংগ্রেস আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হতে বলা এই তিন ব্যক্তিই ট্রাম্পের সব থেকে ঘনিষ্ঠ। জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই রাশিয়া কানেকশনের অভিযোগে জেরবার ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে তার প্রচারণা শিবিরের কর্মকর্তাদের রাশিয়ার সঙ্গে যোগসূত্র ছিল। ট্রাম্প বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটি বুধবার জানায়, ট্রাম্প জামাতা কুশনারকে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে রুদ্ধদ্বার শুনানিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ২৪শে জুলাই। ২৬শে জুলাই এক শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে তলব করা হয়েছে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠপত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ম্যানাফোর্টকে।
এ মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট পুত্র কিছু ইমেইল প্রকাশ করে রাশিয়া কানেকশন আলোচনায় নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। ওই ইমেইল আলাপচারিতায় জানা যায় তিনি রাশিয়ান সরকারের এক আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। ওই আইনজীবী ডেমোক্রেট শিবিরের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে নিয়ে নেতিবাচক তথ্য দিতে চেয়েছিলেন।
ওই বৈঠকে আরো যোগ দিয়েছিলেন ম্যানাফোর্ট ও কুশনার যিনি এখন হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা। কুশনারের আইনজীবী অ্যাব লোয়েল এক বিবৃতিতে জানান, ‘কমিটিগুলোর শিডিউলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমরা সিনেটে কুশনারের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৪শে জুলাই সম্মত হয়েছি। তিনি (কুশনার) এ বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সহযোগিতা করা অব্যাহত রাখবেন।’ প্রসঙ্গত, সিনেট কমিটিগুলো ছাড়াও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প শিবিরের রাশিয়ান কানেকশন নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছেন স্পেশাল কাউন্সিল রবার্ট মুয়েলার।
এটর্নি জেনারেল সেশনসের ওপর নাখোশ ট্রাম্প
এটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, রাশিয়া কানেকশন তদন্ত নিয়ে সেশনস দ্বিমত করবেন জানলে তাকে এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দিতাম না। নিউইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবারের ওই সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, জেফ সেশনের কখনোই নিজের মতো করে কথা বলা উচিত হয় নি। যদি তিনি এভাবেই চলবেন এবং আমাকে এ বিষয়ে আগে থেকে বলতেন তাহলে আমি তাকে এ পদে বসাতাম না। আমি অন্য কাউকে বেছে নিতাম।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প টিমের সম্ভাভ্য যোগসূত্র থাকা নিয়ে মার্চ মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন জেফ সেশনস। গত বছর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েকের সঙ্গে বৈঠক হয় জেফ সেশনসের। এ নিয়ে শুনানিতে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন। এরপরই ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। এর বাইরে গত মাসে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ হয় যে, ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করায় জেফ সেশনসকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ওদিকে সাক্ষাতকারে নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে জার্মানিতে নৈশভোজের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করেছেন। বলা হয়েছে ওই বৈঠক মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। তবে তা অনেকটা সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু মিডিয়ার রিপোর্টে এ বৈঠক প্রায় এক ঘন্টা হয়েছিল বলে তথ্য দেয়া হয়। গত মঙ্গলবারের আগে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এ বৈঠক ছিল গোপন।
৮৮ অভিযোগ
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন ডেমোক্রেটরা। এর পক্ষে তারা ৮৮টি কারণ উল্লেখ করে বলেছেন, এসব কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য।
হাউসে ডেমোক্রেট কংগ্রেসম্যানরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে রেজুলেশন দিয়েছেন। তাতে হোয়াইট হাউজে তার উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে রেজুলেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য স্টিভ কোহেন। তবে তাদের এ রেজুলেশন পাস হওয়া বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনাস্থার মাধ্যমে অযোগ্য করে দেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দু’কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা। যদিও সেখানে এ প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম তবু প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার বিতর্কিত কর্মকা-কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো।
ওই রেজুলেশন বা প্রস্তাবে ডেমোক্রেটরা বলেছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদ ধরে রাখার যোগ্য নন। তিনি শপথ নেয়ার অনুষ্ঠানে জনগণের উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে বিত-ায় জড়িয়েছেন। নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ যেভাবে তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন তাও তুলে ধরা হয়েছে ওই কারণ সমুহের মধ্যে। এতে তার ব্যবসায়ী কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মিডিয়ার বিরুদ্ধে তিনি ঘন ঘন মিথ্যা খবর প্রচারের অভিযোগ আনেন। নারীদের বিরুদ্ধে তিনি নীতিগর্হিত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়েছে। গত বুধবার এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্টিভ কোহেন। সেখানে তিনি বলেছেন, আমরা যে অবস্থান নিয়েছি এটা আমেরিকানদের কাছে একটি বেদনার দিন। ট্রাম্প হলেন এমন এক প্রেসিডেন্ট যা আপনারা চান না আপনাদের সন্তানরা প্রত্যক্ষ করুক।
ওয়াশিংটনের ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, তিনি যেভাবে কথা বলেন, নারীদের নিয়ে, মিডিয়াকে নিয়ে, তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেন, যে টুইট করেনÑ তার প্রেক্ষিতে তাকে আপনি একজন আদর্শ হিসেবে দেখতে চাইতে পারেন না। এটা আমাদের সংস্কৃতিতে একটি ক্ষত। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এর পরে স্টিভ কোহেন তার প্রস্তাবে বেশ কিছু দাবি তুলেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার আয়কর রিটার্ন প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার গোপন ব্যবসায়ী সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে বলেছেন। যথাযথ নয় এমন টুইটার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো কথা না বলে স্বীকার করতে হবে যে, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে সমর্থন করার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টকে সমর্থন দিতে হবে। প্রকাশিত রিপোর্টকে মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ট্রাভেল ব্যান ইস্যুতে আবারো হারলেন ট্রাম্প
ছয় মুসলিম দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফের হারলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার এক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। ফলে এখন দাদা-দাদী এবং আত্মীয়স্বজনরাও যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে। যদিও ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে আরো কিছু মানুষকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেছিল হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের এক ফেডারেল বিচারপতি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক-সূত্র থাকার শর্তযুক্ত বিবেচনার তালিকাটি আরো দীর্ঘায়িত করার আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকদের দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-চাচীসহ আত্মীয়-স্বজনদের নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত করতে বলা হয়। এর আগে গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন কেবল স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তান, বাগদত্তা এবং ভাই-বোনদেরকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ভেস্তে গেল ট্রাম্পের হেলথ কেয়ার বিল
সংসদের দুই কক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও ‘ওবামাকেয়ার’-এর বিকল্প চালু করতে পারলেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’জন রিপাবলিকান সিনেটর বলেছেন, তারা বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। ফলে বিলটি পাসের আপাতত আর কোনো সম্ভাবনা নেই। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি এবং জেরি মোরান ট্রাম্পের প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মোরান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘খারাপ নীতির ওপর আমরা অনুমোদন দিতে পারি না।’ তবে আরও বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর বিলটির বিপক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চলতি সপ্তাহেই বিলটিতে ভোটাভুটির কথা ছিল। কিন্তু এখন সেটি বাতিল করা হয়েছে।
পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রায় সব সিদ্ধান্তই বাতিল করতে উৎসাহী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ‘ওবামাকেয়ার’ বা গণস্বাস্থ্য বীমা বাতিল করে তার জায়গায় নতুন ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে পর পর দুবার ধাক্কা খেলেন তিনি। নতুন আইনের খসড়ার প্রতি নিজের রিপাবলিকান দলের সব সংসদ সদস্যের সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হলেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় তাকে বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হলো। জনমত সমীক্ষায়ও এই খসড়ার বিরোধিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বলা বাহুল্য, এই ব্যর্থতা ট্রাম্প প্রশাসনের চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, সংসদের উভয়কক্ষে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দু-দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ২০১০ সালে বারাক ওবামা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংস্কারের পর থেকেই রিপাবলিকান দল সেটি বাতিল করার অঙ্গীকার করে আসছে। ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ওবামাকেয়ার বাতিল করা। তবে শুধু ওবামাকেয়ার নয়, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ছয় মাসে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনই কার্যকর করাতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন।
আবার মিথ্যা বলে ধরা খেলেন ট্রাম্প
বৈঠক হয়নি, সংবাদ মাধ্যমের খবর ভূয়া- ইত্যাদি অসত্য কথা বলে প্রকৃত ঘটনা ক্রমাগত অস্বীকার করার পর হোয়াইট হাউস বুধবার শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল। তবে সেটিকে তারা বৈঠক না বলে সাক্ষাত বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে খবর ফাঁস হয়। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে জার্মানিতে জি২০ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের নৈশভোজের সময় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে কথা হয়। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ছিল দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন, বৈঠক নয়। এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে কোনো যুক্তরাষ্ট্রের কোন দোভাষী উপস্থিত ছিলেন না। তবে সেখানে পুতিনের ব্যক্তিগত দোভাষী ছিলেন। এর আগে ওই বৈঠকের কথা প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে ওই বৈঠকের কথা প্রথম জানান রাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার। সংবাদমাধ্যমে এ খবরের প্রকাশকে ‘অসুস্থ’ গালগল্প বলে নিন্দা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here