ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে দুর্বল করে দিলেন আদালত

0
305

এএফপি: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছয় দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞার শর্তগুলোকে মার্কিন ফেডারেল আদালতের একজন বিচারক নাজুক করে দিয়েছেন। বিষয়টিকে বিরোধীরা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেক দফা আইনি পরাজয় হিসেবেই দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের দাদা-দাদি ও নানা-নানি এবং অন্যান্য আত্মীয়কে ওই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখতে গত বৃহস্পতিবার নির্দেশ দেন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বিচারক ডেরিক ওয়াটসন। তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার কয়েকটি শর্তে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের তোয়াক্কা করা হয়নি।

তবে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন।

নিষেধাজ্ঞার বিরোধীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এটা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।

ট্রাম্প প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে, সন্ত্রাসীদের দূরে রাখতে এ রকম নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত ২৯ জুন এক নির্দেশনায় ওই নিষেধাজ্ঞা আংশিক বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেন। এর আগে পাঁচ মাস ধরে কয়েকটি নিম্ন আদালতে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোরগোল কম হয়নি।

হাওয়াইয়ের আদালত সুনির্দিষ্টভাবে ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি শরণার্থীদের ওপর ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাঁদের ‘ঘনিষ্ঠ আত্মীয়’ আছেন, তাঁরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না। ট্রাম্প প্রশাসন শুধু মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, শিশুসন্তান, পুত্রবধূ, জামাতা, সৎভাই ও সৎবোনকে পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে একটি তালিকা দিয়েছে। বিচারক ওয়াটসন একে ‘সংকীর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান অনুযায়ী ঘনিষ্ঠ সব স্বজনকে পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। সরকারের তালিকায় তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

ফেডারেল আদালত যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা যেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কোনো দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতি-নাতনি, পুত্রবধূ, জামাতা, চাচা-চাচি, ভাগনে, ভাগনি, ভাইপো, ভাইঝি এবং চাচাতো, মামাতো ভাইবোনদের মতো স্বজনদের ওপর প্রয়োগ না করা হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুনর্বাসন সংস্থার আশ্বাসপ্রাপ্ত শরণার্থীরাও নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ছয় দেশের যেসব নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক যোগাযোগ এবং চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার নিশ্চয়তা আছে, তাঁরা প্রবেশাধিকার পাবেন। উচ্চ আদালত সার্বিক মামলাটি আগামী অক্টোবরে পর্যালোচনা করবেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করলে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। আগে ভিসা পাওয়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পৌঁছালে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে একাধিক আদালত ওই নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here