নতুন সিইসি কেএম নুরুল হুদা: আলোচনার ঝড়

0
402

 

বিএনপি ক্ষুব্ধ, লীগ আস্থাশীল 

প্রবাস রিপোর্ট: নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা। কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা দায়রা জজ কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এই পাঁচজনকে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করলেন। সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয় গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

 

সার্চ কমিটি মোট ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছিল। ১০ জন থেকে প্রেসিডেন্ট জনকে নিয়ে ইসি গঠন করেছেন। সার্চ কমিটির প্রস্তাবে সিইসি হিসেবে বিকল্প ছিল সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব আলী ইমাম মজুমদারের নাম। কমিশনার পদে বিকল্প হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জারিনা রহমান খান, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ . তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান এবং জানিপপ চেয়ারম্যান . নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর নাম ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আওয়ামী লীগের দেয়া তালিকা থেকে কবিতা খানম বিএনপি দেয়া তালিকা থেকে মাহবুব তালুকদারকে নেয়া হয়েছে।

রোববার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে সার্চ কমিটির বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে কমিটির সদস্যরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যান।

১৪ দলের তালিকায় সিইসিসহ জন: পরিকল্পিত না কাকতালীয়

আওয়ামী লীগ কি শরিকদের দিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে? নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর প্রশ্নটিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন রাজনৈতিক মহলে। কারণ সদস্যের ইসিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চারজনই মনোনীত হয়েছেন সার্চ কমিটির কাছে জমা দেয়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের তালিকা থেকে। অবশ্য এর মধ্যে একজন কমিশনারের নাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তালিকায়ও ছিল। আর বিএনপির দেয়া তালিকা থেকে এসেছে বাকি একজনের নাম।

তাই প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারি দল পরিকল্পিতভাবে তার মিত্রদের কাজে লাগিয়েছে নাকি এটা কাকতালীয় ঘটনা?

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। অথচ, ১৪ দলের শরিক তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি), গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু) ন্যাপের তালিকা থেকে এসেছে অভিন্ন নাম।

কে এই নুরুল হুদা

 

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ  প্রাপ্ত কে এম নূরুল হুদা একজন সাবেক সচিব। ১৯৭৩ সালে ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন তিনি।  ১৯৭৩ সালের নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ক্যাডারটি তোফায়েলরাজ্জাক ক্যাডার হিসাবে সুপরিচিত। তখন আওয়ামী লীগের চিহ্নিত কর্মীদের ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ দিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তোফায়েল আহমদ এবং আবদুজ্জাক। তাই তাদেরকে পরবর্তিতে বিশেষণ দেয়া হয় তোফায়েল রাজ্জাক ক্যাডার।

১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আমলা বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তোফায়েলরাজ্জাক ক্যাডারের কর্মকর্তারা। সিনিয়র আমলাদের অভ্যন্তরে জমাট বাঁধা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৯৬ সালের মার্চের শেষ সপ্তাহে। তারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেতৃত্বে জনতার মঞ্চে যোগ দেয়। যদিও আমলাদের সবাই নয়, জনতার মঞ্চে সেদিন যোগ দিয়েছিলেন আমলাদের একটি অংশ। সেই জনতার মঞ্চে যোগ দেয়া কর্মকর্তাদের মধ্যম সারির নেতা ছিলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ পাওয়া নূরুল হুদা।

তিনি বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন ময় ওএসডি ছিলেন। সুতরাং তিনি কতটা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করবেন সেটা এখন প্রশ্ন সাপেক্ষ।

সিইসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নুরুল হুদা ২০০৬ সালে অবসরে যান। মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নওমালা গ্রামে। তার পিতা আবদুর রশিদ খান। তিন ভাই আট বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সর্বশেষ সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদ থেকে তিনি অবসরে যান। এর আগে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

ক্ষুব্ধ বিএনপি

বিতর্কিত দলীয় আস্থাভাজনদের দিয়ে কমিশন পুনগর্ঠন করা হয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়েই বেশি আপত্তি তাদের। নতুন কমিশনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রকিব মার্কা আরেকটি কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নেতারা। সোমবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা এমনটিই মন্তব্য করেন। এক নেতা বলেন, নুরুল হুদা জনতার মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তার নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন।

আস্থাশীল লীগ

সাবেক সচিব কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর আওয়ামী লীগের আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির দুই শীর্ষ নেতা। সোমবার রাতে নবগঠিত কমিশন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় তারা আস্থার কথা জানান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা সবসময় রাষ্ট্রপতির ওপর আস্থাশীল। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। রাষ্ট্রপতি যাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তারা কর্মজীবনে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আশা করি, আগামীতেও তারা দক্ষতার পরিচয় দেবেন এবং দেশবাসীকে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন।       

বার্নিকাটের দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট নয়া গঠিত নির্বাজন কমিশন সম্পর্কে বলেছেন, বন্ধু শুভাকাঙ্খী হিসেবে আমরা চাই বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে নতুন নির্বাচন কমিশনকে কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি নতুন নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে এবং তাদের কাজে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। ইসি গঠন প্রক্রিয়া পরবর্তী বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here