রক্তস্বল্পতা রোধে করণীয়

0
826

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: বিশেষজ্ঞদের মতে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া একটি রোগ। সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেয়েদের এটি একটি প্রধান সমস্যা।

যার ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় এবং রোগীকে অসুস্থ ও দূর্বল দেখায়। এ রোগে নারী ও শিশুরা বেশি ভুগে থাকেন। বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৪২ ভাগ মেয়ে বা নারী আয়রন বা রক্তে লৌহ-স্বল্পতায় ভুগছেন। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে ৪ জন আনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতার শিকার।

হিমোগ্লোবিন রক্তের একটি অন্যতম প্রধান উপাদান। এই হিমোগ্লোবিনের কাজ হল শরীরের অক্সিজেন সরবরাহকে নিশ্চিত করা। শরীরে আয়রনের কমতি হলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়। আর হিমোগ্লোবিন কম হওয়া মানেই হল শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটা।

রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন কম থাকাকে রক্তস্বল্পতা বলা হয়। হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণীকার ভিতরে একটি প্রোটিন যা দেহে অক্সিজেন প্রবাহিত করে থাকে। আয়রনের অভাব, ভিটামিন বি-১২ এর অভাব, ফলিক অ্যাসিডের অভাব, অতিরিক্ত রক্তপাত, পাকস্থলিতে ইনফেকশন, ধূমপান ও উচ্চ বিএমআইর কারণে এ রোগ দেখা দেয়।

আয়রন স্বল্পতা হলে দ্রুত চুল পড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, গায়ের বর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, নখের আকার চামচের আকৃতি ধারণ করা, হতাশায় ভোগা, দীঘমেয়াদি ক্লানত্মি অনুভব, চুলের রং লালচে হয়ে যাওয়া কিংবা শুষ্ক হয়ে যায়।

তবে আশার বিষয় হলো বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের খাবারে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দূর করা সম্ভব। আসুন তবে জেনে নিই কী কী খাবারে রক্ত স্বল্পতা রোগ সেরে যাবে।

*পালং শাক : ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, বি ৯, ই, সি, বিটা কারটিন এবং আয়রন রয়েছে পালং শাকে, যা রক্ত তৈরি করে থাকে। আধা কাপ পালং শাক সিদ্ধতে ৩.২ মিলিগ্রাম আয়রন আছে যা নারীদের দেহে ২০% আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে। এক কথায় এ শাককে সুপার ফুট বলা হয়।

* মাছ ও ডিম : মাছ সব চাইতে ভালো আয়রনের উৎস বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ। শিং মাছ, ইলিশ মাছ, ভেটকি মাছ, টেংরা মাছ ইত্যাদি সব মাছেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সর্বনিম্ন ৬০ গ্রাম মাছ রাখুন রক্তস্বল্পতা রোগ থেকে দেহকে মুক্ত রাখে। আর ডিম প্রোটিনে ভরপুর এ খাদ্যটি দেহে পুষ্টি যোগায়। অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন একটি ডিম খেলে রক্তস্বল্পতা দ্রুত দূর হবে।

* বিট : বিটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এটি অল্প সময়ের মধ্যে রক্তস্বল্পতা দূর করে দেয়। শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি করে এবং দেহে অক্সিজেন সরবারহ করতে সাহায্য করে।

* টমেটো : টমেটো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবজি। টমেটোতে বিটা ক্যারটিন, ফাইবার, এবং ভিটামিন ই আছে। এ সবজি আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে।

* পিনাট বাটার : দুই টেবিল চামচ পিনাট বাটারে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায়। আপানি যদি পিনাট বাটারের স্বাদ পছন্দ না করেন চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটিও শরীরে আয়রন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

* ডালিম : ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল ডালিম। এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আছে, যা দেহে রক্ত প্রবাহ সচল রেখে দুর্বলতা, ক্লান্ত ভাব দূর করে থাকে। নিয়মিত ডালিম খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here